মণিরামপুরে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ধামাচাপার চেষ্টারও দাবি
যশোরের মণিরামপুরে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ক্ষোভের পাশাপাশি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত মামলা বা এজাহার থানায় জমা পড়েনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২ জুন) উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের কুলটিয়া বাজার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এক বিজিবি সদস্য আত্মীয়তার সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীর বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন। এ সময় নারীটি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত সরে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:1544]কী ঘটেছিল সেদিন?স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী কাজের কারণে বাড়ির বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়িতে যান। পরে নারীটির সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ এবং জোরপূর্বক ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে অভিযুক্তকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তাকে মারধর করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে।তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদকর্মীরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা কিংবা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। অভিযোগে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও অন্যান্য ব্যক্তির নামও এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।বুধবার সন্ধ্যায় একটি সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। কিন্তু সাংবাদিক ও পুলিশের উপস্থিতির কারণে সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের অবস্থান বা অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।মুখ খুলতে রাজি নন ভুক্তভোগীস্থানীয় সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। সামাজিক চাপ, লোকলজ্জা এবং বিভিন্ন ধরনের প্রভাবের আশঙ্কায় তিনি প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি।এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রায়ই সামনে আসতে ভয় পান বলে মনে করেন সমাজবিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় সামাজিক বিচার, পারিবারিক চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেক সময় নারীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে কঠিন করে তোলে।ভুক্তভোগীর স্বামী অভিজিৎ বিশ্বাস বলেন, “আমি গরিব মানুষ। সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। আমি কোনো ঝামেলা চাই না।”তার এই বক্তব্য ঘটনাটিকে আরও মানবিক ও স্পর্শকাতর করে তুলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।তদন্তে নেমেছে পুলিশঘটনার খবর পেয়ে মণিরামপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন আলামত ও স্থানীয়দের বক্তব্য যাচাই করছে বলে জানা গেছে।মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ জানান, ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।[TECHTARANGA-POST:1535]কেন বারবার সামনে আসে এমন অভিযোগ?বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগের পেছনে শুধু ব্যক্তিগত অপরাধপ্রবণতা নয়, সামাজিক নীরবতাও একটি বড় কারণ। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবার বিচার না পেয়ে কিংবা সামাজিক চাপের মুখে অভিযোগ জানাতে পিছিয়ে যায়।আবার প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ, সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা এবং আইনি প্রক্রিয়ায় অনীহাও এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তির অন্যতম কারণ বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।মণিরামপুরের সাম্প্রতিক এই ঘটনাও সেই প্রশ্নগুলোকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।