চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরে কলেজে ভাঙচুর, আহত অধ্যক্ষসহ ৫ জন
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে চাঁদা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার দিন কলেজ ক্যাম্পাসে এই হামলার ঘটনায় অধ্যক্ষসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষক ও কর্মচারী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ওই দিন কলেজটি পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় সকাল থেকেই ক্যাম্পাস ও আশপাশের প্রায় ১০০ গজ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশও মোতায়েন ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই কিছু লোক অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং পরে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে গিয়ে আগের অধ্যক্ষের সময়কার কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব চান। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে মারধর করা হয়। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষককে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় এবং অফিস কক্ষে ভাঙচুর করা হয়।
এই হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও দুই কর্মচারী। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, কিছুদিন ধরেই কলেজে এসে বিভিন্ন অজুহাতে হিসাব চাইছিলেন ওই নেতাকর্মীরা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মূলত চাঁদার দাবিই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। অধ্যক্ষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করায় তাকেও হামলার শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা মূলত আগের সময়কার অনিয়ম ও দুর্নীতির হিসাব জানতে গিয়েছিলেন। তার দাবি, প্রথমে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং পরিস্থিতি পরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি চার মাস আগে কলেজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং প্রশাসনকেও মৌখিকভাবে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন।
দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, সম্ভাব্য উত্তেজনার আশঙ্কায় আগে থেকেই পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও কিছু লোক জোরপূর্বক ভেতরে ঢুকে হামলা চালায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় সূত্র বলছে, দুর্গাপুর এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে অতীতেও মাঝে মাঝে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও প্রশাসনিক বিরোধ নিয়ে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে পরীক্ষাকেন্দ্র বা নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে চাপ তৈরির অভিযোগ নতুন নয়। ফলে সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল সময়ে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ধরনের হামলা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে। এতে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সব মিলিয়ে, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পুলিশ বলছে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।