দক্ষিণখানে প্রকাশ্যে যুবলীগ নেতা শাহজাহান শেখ নিহত, আতঙ্কে স্থানীয়রা
রাজধানীর দক্ষিণখানে প্রকাশ্যে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একদল দুর্বৃত্তের ধাওয়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে যাচ্ছিলেন শাহজাহান শেখ (৪৫)। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যস্ত সড়কের পাশেই হামলাকারীদের হাতে নিহত হন তিনি। ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণখান থানার নদ্দাপাড়ার তালতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহজাহান শেখ দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং বিমানবন্দর থানা যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়া তিনি আশকোনা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।[TECHTARANGA-POST:230]ধাওয়া, হামলা ও মৃত্যুপ্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার আগে শাহজাহান শেখ একটি গলি থেকে দ্রুত দৌড়ে প্রধান সড়কের দিকে আসছিলেন। তার পেছনে কয়েকজন ব্যক্তি ধাওয়া করছিলেন। একপর্যায়ে তালতলা মোড়ে পৌঁছালে হামলাকারীরা তাকে ধরে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে শুরু করে।স্থানীয় ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান মিয়াদ জানান, হামলাকারীরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাটি ঘটায়। আশপাশের মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা শাহজাহানকে গুরুতর জখম করে ফেলে। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ বা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে কিছু আলামতস্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে কিছু আলামত ফেলে যায়। এর মধ্যে একটি ধারালো অস্ত্র এবং একটি ক্যাপ বা টুপি রয়েছে বলে জানা গেছে।খবর পেয়ে দক্ষিণখান থানা পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ঘটনার পেছনে পূর্বশত্রুতা, ব্যবসায়িক বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।পুলিশের বক্তব্যদক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফুল ইসলাম জানান, অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহজাহান শেখের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।তিনি বলেন, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।পুলিশের দাবি, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।এলাকায় আতঙ্ক, উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে এমন হামলার ঘটনা তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ব্যস্ত এলাকায় সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর এলাকায় সংঘটিত সহিংস অপরাধের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার, অর্থনৈতিক স্বার্থ কিংবা দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো ঘটনার কারণ নির্ধারণে তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করাই গুরুত্বপূর্ণ।তারা মনে করেন, অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত তদন্ত, প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য সংগ্রহ এবং বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সমাজে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।এদিকে শাহজাহান শেখের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।