দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

শিল্পীদের সম্মান নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

দেশের শিল্পী ও সৃজনশীল মানুষদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এখনো প্রত্যাশিত জায়গায় পৌঁছায়নি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তবে নবনির্বাচিত সরকার শিল্পীদের যথাযোগ্য সম্মান ও নিরাপদ সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সংগীত ও নৃত্যের একক সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেড। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী, সংগঠক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যাটি পরিণত হয় শিল্প-সংস্কৃতির মিলনমেলায়।শিল্পীদের মর্যাদা নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যঅনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সৃজনশীল মানুষদের অবদান সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের প্রাপ্য সম্মান সব সময় নিশ্চিত হয় না। শিল্পীরা সমাজের চিন্তা, অনুভূতি ও সংস্কৃতিকে ধারণ করেন, কিন্তু বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রেই তারা অবমূল্যায়নের শিকার হন বলে মন্তব্য করেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:1286]মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কৃতি চর্চাকে শুধু বিনোদনের অংশ হিসেবে নয়, রাষ্ট্রীয় বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবেও দেখছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার বিকাশ একটি দেশের মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।সরকার শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন।‘শিল্পী হওয়া কেবল সিদ্ধান্তের বিষয় নয়’বক্তৃতার এক পর্যায়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শিল্পী হওয়া শুধুমাত্র পেশা বেছে নেওয়ার মতো বিষয় নয়; এটি অনেকাংশেই প্রকৃতিপ্রদত্ত এক বিশেষ গুণ। যারা সৃষ্টিশীলতা, অনুভূতি ও সৌন্দর্যবোধ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেন, তাদের সবাইকে শিল্পী হিসেবে মূল্যায়ন করা উচিত বলে মত দেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি একজন মানুষকে শিল্পী হওয়ার যোগ্যতা দেয়, আর সেই যোগ্যতাকে পরিপূর্ণ করে তোলে দীর্ঘদিনের চর্চা, সাধনা ও অভিজ্ঞতা। শিল্পীরা সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।এ সময় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিল্পীদের কাজের মূল্যায়ন বাড়ানো এবং তাদের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব।সংগীত ও নৃত্যের পরিবেশনায় মুগ্ধ দর্শকঅনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন সংগীতশিল্পী সুজিত মুস্তাফা এবং নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ। লাইভ সংগীত পরিবেশন করেন সুজিত মুস্তাফা, আর মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করেন মুনমুন আহমেদ।সংগীত ও নৃত্যের সমন্বয়ে সাজানো পরিবেশনা উপস্থিত অতিথিদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন দর্শক জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন মানুষের মধ্যে ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করছে এবং শিল্পীদের কাজ আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত পরিবেশ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিল্পচর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।তথ্যমন্ত্রীকে সম্মানসূচক সদস্যপদ প্রদানঅনুষ্ঠানের শুরুতে আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেড–এর পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীকে সম্মানসূচক সদস্যপদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার হাতে একটি প্রতীকী চাবিও তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের দাবি, দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতেই এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি সুজিত মুস্তাফা। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মারুফ কবির। এছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিল্পী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।[TECHTARANGA-POST:1275]সংস্কৃতি অঙ্গনে রাষ্ট্রীয় সহায়তা কতটা জরুরিবাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, শিল্পীদের জন্য শুধু পুরস্কার বা আনুষ্ঠানিক সম্মাননা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন আর্থিক নিরাপত্তা, পেশাগত স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক মর্যাদা। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনেকেই পেশাগত অনিশ্চয়তা ও সীমিত সুযোগের কারণে হতাশায় ভোগেন।বিশ্লেষকদের মতে, সংস্কৃতি খাতকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে হলে শিল্পীদের জন্য প্রশিক্ষণ, পারফরম্যান্স প্ল্যাটফর্ম, কপিরাইট সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করা গেলে নতুন প্রতিভার বিকাশও সহজ হবে।তবে বাস্তবতায় এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন প্রত্যাশাসরকারের পক্ষ থেকে শিল্পীদের মর্যাদা বৃদ্ধির আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই। তবে তারা বলছেন, ঘোষণার পাশাপাশি বাস্তব উদ্যোগও জরুরি। কারণ দেশের শিল্পী সমাজ দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।[TECHTARANGA-POST:1272] অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রীর আশ্বাস সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন কয়েকজন অংশগ্রহণকারী। ভবিষ্যতে শিল্পী কল্যাণ, সাংস্কৃতিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্পীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে দিকেই এখন নজর সবার।

শিল্পীদের সম্মান নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন