দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

ডাকসুর সমান্তরাল বা দ্বৈত প্রশাসনের সুযোগ নেই: ঢাবি কর্তৃপক্ষ খ) ফেসবুক ভাইরাল শিরোনাম

ডাকসুর সাম্প্রতিক কয়েকটি কর্মকাণ্ড নিয়ে এবার সরাসরি নিজেদের অবস্থান জানাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো পাশ কাটিয়ে সমান্তরাল বা দ্বৈত প্রশাসন তৈরির কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।অনুমোদন ছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শন এবং শিক্ষকদের মূল্যায়নে আলাদা ওয়েবসাইট চালুর বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে গত ৫ আগস্ট মলচত্বরে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে ঢাবি প্রশাসন।তবে ডাকসুর উদ্যোগে কলাভবনসংলগ্ন ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে যে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি উপাচার্য কিংবা সিন্ডিকেটের অনুমোদন ছাড়া করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।ঢাবি কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩’-এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) এবং সংশ্লিষ্ট অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও স্থাপনা নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং সাবেক ছাত্রসংঘ নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে এসেছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এসব ব্যক্তির ছবি প্রদর্শন কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাবি প্রশাসন।তবে ইতিহাস ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি প্রদর্শন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় কোনো নীতিমালা কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে এলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ডাকসুর উদ্যোগে চালু করা একটি ওয়েবসাইট নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।ঢাবি প্রশাসনের ভাষ্য, শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অনুমোদিত নীতিমালা রয়েছে এবং সেটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় আছে। এর বাইরে ডাকসুর একক উদ্যোগে শিক্ষক মূল্যায়ন এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী ও আইনি নীতিমালার ব্যত্যয় হিসেবে দেখছে প্রশাসন।এখানে মূল প্রশ্নটি শুধু মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে নয়; শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তথ্য কীভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রকাশ করা হবে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু হলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যবহারের সীমা নিয়েও পরিষ্কার নিয়ম থাকা প্রয়োজন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, ডাকসু একটি প্রতিনিধিত্বশীল ছাত্র সংগঠন হলেও এর সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হতে হবে।এই অবস্থানের পেছনে মূল বিষয় হলো ক্ষমতার সীমারেখা। ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের দাবি, মতামত ও বিভিন্ন উদ্যোগ সামনে আনতে পারে; কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি, স্থাপনা, শিক্ষক মূল্যায়ন বা প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও প্রচলিত নিয়ম মানা প্রয়োজন।অরিজিনাল পর্যবেক্ষণ: ডাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনকে শুধু ‘ছাত্র বনাম প্রশাসন’ হিসেবে দেখলে বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পড়ে যায়। আসল প্রশ্ন হচ্ছে—নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিত্ব কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং কোথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনগত কর্তৃত্ব শুরু হবে। এই সীমারেখা স্পষ্ট না হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের বিরোধ বারবার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।গুরুত্বপূর্ণ দিকডাকসুর কর্মকাণ্ড নিয়ে অবস্থান জানিয়েছে ঢাবি প্রশাসন।অনুমোদন ছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে আপত্তি জানানো হয়েছে।ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শন নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে প্রশাসন।বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি কাঠামোর বাইরে কোনো সমান্তরাল প্রশাসনের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে ঢাবি।ডাকসু শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে—এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন, প্রশাসনিক কাঠামো ও একাডেমিক নীতিমালাও মানতে হয়। তাই ডাকসুর স্বাধীন কার্যক্রম এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আইনি কর্তৃত্ব—দুটির মধ্যে পরিষ্কার সীমারেখা থাকা জরুরি।শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ বন্ধ করে দেওয়া নয়, বরং কোন কাজ ডাকসু স্বাধীনভাবে করতে পারবে আর কোন কাজের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন লাগবে—এ বিষয়ে লিখিত ও স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলে ভবিষ্যতের বিরোধ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

ডাকসুর সমান্তরাল বা দ্বৈত প্রশাসনের সুযোগ নেই: ঢাবি কর্তৃপক্ষ  খ) ফেসবুক ভাইরাল শিরোনাম