ফরিদপুরে ১১ দিন পর মিলল মা-মেয়ের মরদেহ, কুকুরের টেনে বের করা পা দেখে প্রকাশ্যে আসে হত্যার রহস্য
ফরিদপুরের সীমান্তবর্তী এক নির্জন এলাকায় মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে নিখোঁজ মা ও শিশুকন্যার অর্ধগলিত মরদেহ। নিখোঁজের ১১ দিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, যখন কুকুরের একটি দল মাটির নিচ থেকে মানুষের পা টেনে বাইরে বের করে আনে। পরে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ গিয়ে মাটি খুঁড়ে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।নিহতরা হলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের কর্ণসোনা গ্রামের বাসিন্দা ও ইটভাটার শ্রমিক আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩০) এবং তাদের চার বছরের মেয়ে সামিয়া আক্তার।ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত ছাড়া এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।কুকুরের আচরণ দেখে সন্দেহ স্থানীয়দেরপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কালীতলা যতিনবদ্দি এলাকার একটি পুকুরপাড়ে কয়েকটি কুকুর ঘোরাঘুরি করছিল। একপর্যায়ে কুকুরগুলো মাটির নিচ থেকে মানুষের পা টেনে বাইরে বের করে আনে। বিষয়টি দেখে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে গোয়ালন্দ থানা-পুলিশ প্রথমে ঘটনাস্থলে যায়। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় পরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা-পুলিশকেও জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাটি খুঁড়ে প্রথমে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সেই মরদেহের নিচে পাওয়া যায় শিশুকন্যার দেহ।মরদেহ দুটি তখন অনেকটাই পচে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।দাওয়াতে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়েছিলেনপরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৪ মে জাহানারা বেগম তার মেয়েকে নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাওয়ার কথা বলে বের হন। এরপর আর তারা বাড়িতে ফেরেননি।স্বামী আমজাদ শেখ বলেন, স্ত্রী ও সন্তানকে খুঁজতে তিনি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েছেন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে কোনো উপায় না দেখে গোয়ালন্দ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।আমজাদ শেখের ভাষ্য, “আমরা দুজনই ইটভাটায় কাজ করি। ওরা দাওয়াতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিল। এরপর আর কোনো খোঁজ পাইনি। আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও পাইনি।”খবর পেয়ে তিনি ও তার বাবা আব্দুর রব শেখ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।দুই জেলার সীমান্ত, রাত হলেই বসে মাদকের আসরযে এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর সীমান্তঘেঁষা অঞ্চল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেখানে প্রায়ই মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আড্ডা বসে। রাতের দিকে এলাকা অনেকটাই নির্জন হয়ে পড়ে।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওই স্থানে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে আসছে। তাদের ধারণা, এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো চক্র এই হত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।এক বাসিন্দা বলেন, “রাত হলে এই এলাকায় বাইরের লোকজন আসে। মাদক আর জুয়ার আসর বসে। জায়গাটা নির্জন হওয়ায় অনেক কিছুই ঘটে, কিন্তু সবাই ভয় পায় মুখ খুলতে।”তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে একাধিক বিষয়পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মা-মেয়ের গতিবিধি, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং সম্ভাব্য যোগাযোগগুলোও খতিয়ে দেখা হতে পারে।ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক আব্দুল্লাহ বিশ্বাস বলেন, “প্রথমে অজ্ঞাত অবস্থায় মরদেহ দুটি পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।”নিখোঁজের পর দ্রুত তদন্ত না হওয়ায় প্রশ্নএ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আরেকটি প্রশ্নও সামনে এসেছে—নিখোঁজ হওয়ার পর দ্রুত তদন্ত বা অনুসন্ধান হলে হয়তো মা-মেয়েকে জীবিত উদ্ধারের সুযোগ ছিল কি না। যদিও পুলিশ বলছে, জিডির পর নিয়ম অনুযায়ী অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় নিখোঁজের ঘটনাকে অনেক সময় পরিবার শুরুতে গুরুত্ব না দেওয়ায় তদন্তে বিলম্ব হয়। আবার দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো দ্রুত গণমাধ্যম বা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় না।এই ঘটনাও সেই বাস্তবতাকে সামনে এনেছে বলে মনে করছেন অনেকে।আতঙ্ক আর শোকের মধ্যে পরিবারমা ও শিশুকন্যার এমন মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা বলছেন, জাহানারা ছিলেন শান্ত স্বভাবের মানুষ। ছোট্ট সামিয়াকে নিয়ে তিনি প্রায়ই আশপাশে যেতেন। এমন নির্মম পরিণতি কেউ কল্পনাও করেননি।
এলাকাজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—কেন হত্যা করা হলো মা ও মেয়েকে? কারা জড়িত? আর কী কারণে তাদের মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল?ফরিদপুরের সীমান্তবর্তী এক নির্জন এলাকায় মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে নিখোঁজ মা ও শিশুকন্যার অর্ধগলিত মরদেহ। নিখোঁজের ১১ দিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, যখন কুকুরের একটি দল মাটির নিচ থেকে মানুষের পা টেনে বাইরে বের করে আনে। পরে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ গিয়ে মাটি খুঁড়ে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের কর্ণসোনা গ্রামের বাসিন্দা ও ইটভাটার শ্রমিক আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩০) এবং তাদের চার বছরের মেয়ে সামিয়া আক্তার।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত ছাড়া এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
কুকুরের আচরণ দেখে সন্দেহ স্থানীয়দের
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কালীতলা যতিনবদ্দি এলাকার একটি পুকুরপাড়ে কয়েকটি কুকুর ঘোরাঘুরি করছিল। একপর্যায়ে কুকুরগুলো মাটির নিচ থেকে মানুষের পা টেনে বাইরে বের করে আনে। বিষয়টি দেখে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে গোয়ালন্দ থানা-পুলিশ প্রথমে ঘটনাস্থলে যায়। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় পরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা-পুলিশকেও জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাটি খুঁড়ে প্রথমে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সেই মরদেহের নিচে পাওয়া যায় শিশুকন্যার দেহ।
মরদেহ দুটি তখন অনেকটাই পচে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
দাওয়াতে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়েছিলেন
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৪ মে জাহানারা বেগম তার মেয়েকে নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাওয়ার কথা বলে বের হন। এরপর আর তারা বাড়িতে ফেরেননি।
স্বামী আমজাদ শেখ বলেন, স্ত্রী ও সন্তানকে খুঁজতে তিনি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েছেন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে কোনো উপায় না দেখে গোয়ালন্দ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।
আমজাদ শেখের ভাষ্য, “আমরা দুজনই ইটভাটায় কাজ করি। ওরা দাওয়াতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিল। এরপর আর কোনো খোঁজ পাইনি। আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও পাইনি।”
খবর পেয়ে তিনি ও তার বাবা আব্দুর রব শেখ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।
দুই জেলার সীমান্ত, রাত হলেই বসে মাদকের আসর
যে এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর সীমান্তঘেঁষা অঞ্চল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেখানে প্রায়ই মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আড্ডা বসে। রাতের দিকে এলাকা অনেকটাই নির্জন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওই স্থানে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে আসছে। তাদের ধারণা, এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো চক্র এই হত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
এক বাসিন্দা বলেন, “রাত হলে এই এলাকায় বাইরের লোকজন আসে। মাদক আর জুয়ার আসর বসে। জায়গাটা নির্জন হওয়ায় অনেক কিছুই ঘটে, কিন্তু সবাই ভয় পায় মুখ খুলতে।”
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে একাধিক বিষয়
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মা-মেয়ের গতিবিধি, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং সম্ভাব্য যোগাযোগগুলোও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক আব্দুল্লাহ বিশ্বাস বলেন, “প্রথমে অজ্ঞাত অবস্থায় মরদেহ দুটি পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।”
নিখোঁজের পর দ্রুত তদন্ত না হওয়ায় প্রশ্ন
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আরেকটি প্রশ্নও সামনে এসেছে—নিখোঁজ হওয়ার পর দ্রুত তদন্ত বা অনুসন্ধান হলে হয়তো মা-মেয়েকে জীবিত উদ্ধারের সুযোগ ছিল কি না। যদিও পুলিশ বলছে, জিডির পর নিয়ম অনুযায়ী অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় নিখোঁজের ঘটনাকে অনেক সময় পরিবার শুরুতে গুরুত্ব না দেওয়ায় তদন্তে বিলম্ব হয়। আবার দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো দ্রুত গণমাধ্যম বা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় না।
এই ঘটনাও সেই বাস্তবতাকে সামনে এনেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
আতঙ্ক আর শোকের মধ্যে পরিবার
মা ও শিশুকন্যার এমন মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা বলছেন, জাহানারা ছিলেন শান্ত স্বভাবের মানুষ। ছোট্ট সামিয়াকে নিয়ে তিনি প্রায়ই আশপাশে যেতেন। এমন নির্মম পরিণতি কেউ কল্পনাও করেননি।
এলাকাজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—কেন হত্যা করা হলো মা ও মেয়েকে? কারা জড়িত? আর কী কারণে তাদের মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন খুঁজছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে আছে স্থানীয় মানুষও।