যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া প্রধান শিক্ষক ফিরোজ জামিনে মুক্ত, বাদীকে হুমকির অভিযোগ
নাটোরের গুরুদাসপুরে এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলায় আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফিরোজুল ইসলাম ফিরোজ আপিলে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তাঁর দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে ‘নাজিরপুরের মাটিতেই বিচার হবে’—এমন বক্তব্য দিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী দাবি করেছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।মামলার নথি ও ২০২৫ সালের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নাজিরপুর মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজুল ইসলাম ফিরোজের বিরুদ্ধে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা হয়।রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর তাঁকে ধর্ষণের ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপহরণের পৃথক ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় অপর দুই আসামি খালাস পান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে রাজশাহী কারাগার থেকে মুক্তির পর ফিরোজ স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে নাজিরপুরে একটি সভায় অংশ নেন।সেখানকার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা ও মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ভবিষ্যতে ‘নাজিরপুরের মাটিতেই বিচার হবে’ বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।তবে বক্তব্যটি কাকে উদ্দেশ করে দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি স্পষ্ট করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মামলার বাদী তথা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা দাবি করেছেন, ফিরোজ জামিনে বের হওয়ার পর তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছেন এবং বিষয়টি থানায় জানিয়েছেন বলে দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ফিরোজুল ইসলামের বক্তব্য জানা যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, ধর্ষণ মামলার বাদীকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অর্থাৎ, হুমকির অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রমাণের কথা জানানো হয়নি।প্রকাশিত মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১ অক্টোবর ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে গেলে তাকে বিদ্যালয়ের সামনে থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়।পরবর্তীতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৫। মামলার বিচার শেষে ২০২৫ সালের নভেম্বরে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল সাজা ঘোষণা করেন। ফিরোজুল ইসলাম ফিরোজকে স্থানীয় বিএনপির সাবেক নেতা হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য; মামলার অভিযোগ বা আদালতের সাজার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়কে কারণ হিসেবে ধরে নেওয়ার কোনো ভিত্তি এখানে নেই।গুরুত্বপূর্ণ দিক
২০২৫ সালে আদালত ফিরোজুল ইসলামকে ধর্ষণের মামলায় যাবজ্জীবন এবং অপহরণের মামলায় ১০ বছরের সাজা দেন।
পরবর্তীতে তিনি আপিলে জামিনে মুক্ত হয়েছেন বলে বর্তমান প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
জামিনের পর তাঁর একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
মামলার বাদী ওই বক্তব্যকে হুমকি হিসেবে দেখছেন।
ফিরোজুল ইসলামের বক্তব্য সম্পর্কে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হুমকির অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।