শিক্ষার্থীদের পদত্যাগ দাবির প্রশ্নে সরাসরি জবাব এড়ালেন ওবায়দুল কাদের
চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দেওয়া ৯ দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী Obaidul Quader এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Asaduzzaman Khan Kamal-এর পদত্যাগের দাবি উঠলেও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি ওবায়দুল কাদের।শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি অবস্থান এড়িয়ে যান। বরং তিনি বারবার তদন্ত কমিশনের বিষয়টি সামনে আনেন।৯ দফা দাবিতে নতুন রাজনৈতিক চাপকোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ৯ দফা দাবির অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো সাম্প্রতিক সহিংসতায় হতাহতের ঘটনায় দায় নিয়ে দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ।এই দাবি সামনে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে আন্দোলনের নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন।সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা জানতে চান, সরকার যেহেতু ইতোমধ্যে কোটা সংস্কারের মূল দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছে, তাহলে এখন শিক্ষার্থীদের নতুন দাবিগুলোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী—বিশেষ করে পদত্যাগের দাবি নিয়ে সরকার কী ভাবছে।তবে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে ওবায়দুল কাদের তদন্ত কমিশনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।“তদন্তেই বের হবে কারা দায়ী”সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছে এবং সেখানে তিনজন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করছেন।তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সহিংসতা, হতাহত এবং বিভিন্ন ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে।তিনি বলেন, “কারা দোষী, কারা নির্দোষ—তা তদন্ত কমিশনের মাধ্যমেই নির্ধারণ হবে।”এ সময় তিনি আরও জানান, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা তদন্তে অংশ নিতে আগ্রহ দেখালে সরকার সেটিকেও স্বাগত জানাবে।তার মতে, তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।পদত্যাগ প্রশ্নে এড়িয়ে যাওয়া কি কৌশল?রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি পদত্যাগ প্রসঙ্গে মন্তব্য না করা সরকারের একটি কৌশলগত অবস্থান হতে পারে।তাদের মতে, সরকার এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদন্ত কমিশনের ফলাফলের আগে বড় কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না।তবে বিরোধী রাজনৈতিক মহল এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করছে, সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার অবস্থান না আসায় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাসংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা আরও জানতে চান, ডিবি হেফাজত থেকে ছাড়া পাওয়া ছয় সমন্বয়ক আবারও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন—এ বিষয়ে সরকার কোনো আলোচনায় যাবে কি না।জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বিষয়ে সরকার এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানাচ্ছে না। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।তার এই বক্তব্যের পর আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।কোটা আন্দোলনের পটভূমিবাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক আন্দোলনটি দেশজুড়ে বড় আকার ধারণ করে।এই আন্দোলনের সময় সংঘর্ষ, সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে।সরকারের পক্ষ থেকে কোটা সংস্কারের মূল দাবি মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত এলেও পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাববিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি শুধু একটি ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।তাদের মতে, সহিংসতা, হতাহত ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে সরকারের প্রতিটি বক্তব্য এখন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। কেউ সরকারের তদন্ত কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে সময়ক্ষেপণের কৌশল বলেও মন্তব্য করছেন।এখন নজর তদন্ত কমিশনের দিকেসব মিলিয়ে, শিক্ষার্থীদের পদত্যাগ দাবির বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে তদন্ত কমিশনের ওপরই জোর দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনে তদন্ত কমিশনের অগ্রগতি, আন্দোলনের গতিপথ এবং সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত—সবকিছুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের নজর মূলত তদন্ত কমিশনের কার্যক্রম এবং সরকারের পরবর্তী অবস্থানের দিকেই।