ঈদে বৈশাখী টিভির বিশেষ আয়োজন, একসঙ্গে প্রচার হবে ৭ ধারাবাহিক নাটক
ঈদে বৈশাখী টিভির বিশেষ আয়োজন, একসঙ্গে আসছে ৭ ধারাবাহিক নাটকআসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যখন দর্শক টানতে নতুন নতুন পরিকল্পনায় ব্যস্ত, তখন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছে বৈশাখী টিভি। এবার ঈদে চ্যানেলটি একসঙ্গে ৭টি ধারাবাহিক নাটক প্রচারের ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে থাকছেন দেশের জনপ্রিয় ও পরিচিত অভিনয়শিল্পীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দর্শকদের ঈদের ছুটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতেই এই বিশেষ আয়োজন।বাংলাদেশের টেলিভিশন অঙ্গনে সাধারণত ঈদকে ঘিরে একক নাটক বা বিশেষ ধারাবাহিকের সংখ্যা বেশি দেখা যায়। তবে একসঙ্গে এতগুলো ধারাবাহিক নাটক প্রচারের উদ্যোগ খুব বেশি দেখা যায় না। সেই দিক থেকে বৈশাখী টিভির এই পরিকল্পনাকে অনেকেই নতুন ধরনের পরীক্ষা হিসেবেও দেখছেন।[TECHTARANGA-POST:1410]তারকাভরা নাটকের তালিকায় চমকঈদের বিশেষ এই আয়োজনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ‘ভাত হাসান’ নাটকটি। এতে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, রোবেনা রেজা জুঁই ও সামিয়া আক্তার। নাটকটির রচয়িতা আশরাফুল চঞ্চল এবং পরিচালনা করেছেন সাইফ আহম্মেদ। নাটকটির গল্প ও চরিত্র নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।অন্যদিকে বরিশালের আঞ্চলিক ভাষা ও পারিবারিক গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ‘মোগো বাড়ি বরিশাল’। এতে অভিনয় করেছেন রাশেদ সীমান্ত ও নাবিলা ইসলাম। নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মহিন খান।এছাড়া ‘কফিলের মেয়ে’ নাটকে দেখা যাবে জেবা জান্নাত ও সবুজ আহমেদ-কে। নাটকটির গল্প ও পরিচালনায় রয়েছেন তারিক মুহাম্মদ হাসান।পরিবার, সম্পর্ক আর হাসির মিশেলে ভিন্ন স্বাদঈদের নাটক মানেই দর্শকের প্রত্যাশা থাকে হাসি, আবেগ আর পারিবারিক টানাপোড়েনের গল্প। সেই জায়গাটিকে মাথায় রেখেই নির্মিত হয়েছে ‘সাক্ষী মফিজ’ নাটকটি। পাপ্পু রাজের রচনায় এবং আদিত্য জনির পরিচালনায় নির্মিত এই নাটকে অভিনয় করেছেন মীর সাব্বির ও ময়মুনা মম।একইসঙ্গে থাকছে ‘ঝগড়াটে পরিবার’ নামের আরেকটি নাটক। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে, পারিবারিক দ্বন্দ্ব আর মজার পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই এগোবে গল্প। নাটকটি রচনা করেছেন মাতিয়া বানু শুকু এবং পরিচালনা করেছেন মোঃ রবিউল সিকদার। এতে অভিনয় করেছেন শিবলী নোমান ও পূর্ণিমা বৃষ্টি।নির্মাতারা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে দর্শক শুধু বিনোদন নয়, নিজেদের জীবনের প্রতিচ্ছবিও নাটকে খুঁজে পান। সে কারণেই পরিবারকেন্দ্রিক গল্পের চাহিদা এখনও কমেনি।প্রেম, বাস্তবতা আর সমাজের গল্পঈদের নাটকে রোমান্টিক গল্পও থাকছে সমান গুরুত্ব নিয়ে। অরণ্য আনোয়ারের রচনায় এবং সকাল আহমেদের পরিচালনায় নির্মিত ‘দিল মোহাব্বত’ নাটকে অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম ও আরফান আহমেদ। সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আবেগঘন গল্পকে কেন্দ্র করেই নাটকটির কাহিনি গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।অন্যদিকে ‘জিরো’ নাটকটি নিয়েও রয়েছে বিশেষ আলোচনা। কারণ, এর গল্প লিখেছেন বৈশাখী টিভির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক টিপু আলম মিলন। চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় রয়েছেন আকাশ রঞ্জন। এতে অভিনয় করেছেন আবদুল্লাহ রানা, মাসুম বাসার, আইরিন তানি, শাকিলা পারভিন, সুজাত শিমুল ও তারিক স্বপন।সংশ্লিষ্টদের দাবি, নাটকটিতে সমসাময়িক সমাজের কিছু বাস্তব দিকও উঠে আসবে।[TECHTARANGA-POST:1397]কেন বাড়ছে ঈদের নাটকের প্রতিযোগিতা?বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের টেলিভিশন নাটকের দর্শক এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিভক্ত। একদিকে ইউটিউব ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা বেড়েছে, অন্যদিকে দর্শকের হাতে মোবাইলভিত্তিক বিনোদনের সুযোগও বাড়ছে। ফলে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে দর্শক ধরে রাখতে এখন আরও বড় ও ব্যতিক্রমী আয়োজন করতে হচ্ছে।বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে নাটক নির্মাণ এখন শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি টিআরপি, বিজ্ঞাপন বাজার এবং ডিজিটাল ভিউয়ের সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। যে কারণে জনপ্রিয় তারকা, ভিন্নধর্মী গল্প ও বড় বাজেটের প্রযোজনার দিকে ঝুঁকছে চ্যানেলগুলো।তবে সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করেন, ঈদের নাটকে অতিরিক্ত কমেডিনির্ভরতা বা একই ধরনের গল্পের পুনরাবৃত্তি দর্শকদের একঘেয়েমির মধ্যে ফেলছে। যদিও নির্মাতাদের দাবি, এবার দর্শক নতুন ধরনের গল্প ও উপস্থাপনা দেখতে পাবেন।দর্শকের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে?ঈদের সময় পরিবার একসঙ্গে বসে টেলিভিশন দেখার সংস্কৃতি এখনও অনেকটা ধরে রেখেছে বাংলাদেশের দর্শকরা। সেই জায়গা থেকেই বৈশাখী টিভির এই বড় আয়োজন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নাটকগুলোর নাম ও শিল্পীদের তালিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।তবে শেষ পর্যন্ত দর্শকের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে, সেটি নির্ভর করবে গল্প, নির্মাণশৈলী এবং অভিনয়ের ওপর। কারণ এখনকার দর্শক শুধু পরিচিত মুখ দেখেই সন্তুষ্ট হন না; তারা নতুনত্বও খোঁজেন।[TECHTARANGA-POST:1355]
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, একসঙ্গে ৭টি ধারাবাহিক নাটকের এই উদ্যোগ ঈদের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং দেশের টেলিভিশন নাটকের বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।