ইডেন কলেজে শিশু রামিসার হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন
শিশু রামিসার হত্যার বিচারের দাবিতে ইডেন কলেজে উত্তাল বিক্ষোভনারী নিরাপত্তা ও বিচারহীনতার অভিযোগে ফের উত্তেজনা ক্যাম্পাসেরাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ-এ শিশু রামিসার ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলনে উত্তাল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল ১১টার দিকে কলেজের ২ নম্বর গেট এলাকায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। মুহূর্তেই ক্যাম্পাস চত্বরে তৈরি হয় প্রতিবাদী স্লোগান, ব্যানার আর ন্যায়বিচারের দাবি।[TECHTARANGA-POST:1436]শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দেশে ধারাবাহিকভাবে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। তারা শিশু রামিসার ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সারাদেশে ঘটে যাওয়া একই ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।“বিচার না হলে নিরাপত্তা শুধু কাগজে”—শিক্ষার্থীদের ক্ষোভবিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, শুধু একটি ঘটনা নয়—এটি একটি ধারাবাহিক বাস্তবতা। তারা দাবি করেন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়—সব জায়গাতেই নারী নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, “একটি ঘটনার বিচার ঝুলে থাকলে সেটি পরবর্তী অপরাধকে আরও সাহসী করে তোলে।” তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করতে।কর্মসূচিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নিয়েও সংহতি প্রকাশ করা হয়। শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে নারী নিরাপত্তা এখন বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিক্ষোভে উত্তাপ, স্লোগানে মুখর ক্যাম্পাসকর্মসূচির সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন—যেগুলোতে মূলত বিচার, নিরাপত্তা এবং নারীর অধিকার নিশ্চিত করার দাবি উঠে আসে। ব্যানারে লেখা ছিল “শিশু রামিসার বিচার চাই”, “নারী নির্যাতন বন্ধ করো”, “নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই”।শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়লেও বাস্তব পরিস্থিতির উন্নতি খুবই ধীর। ফলে বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটছে, যা উদ্বেগজনক।একজন বক্তা বলেন, বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে ভুক্তভোগীদের পরিবার যেমন ভোগান্তিতে পড়ে, তেমনি সমাজেও এক ধরনের ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়।“নিরাপদ পরিবেশ না থাকলে শিক্ষা অর্থহীন”—শিক্ষার্থীদের দাবিশিক্ষার্থীরা বলেন, শুধু শাস্তির কথা বললেই হবে না, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাস্তব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পর্যাপ্ত নজরদারি, ক্যাম্পাস নিরাপত্তা টিম এবং দ্রুত অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা না থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।[TECHTARANGA-POST:1397]তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নারী নির্যাতন ও সহিংসতার সব ঘটনার বিচার দ্রুত শেষ করতে হবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে হবে।বক্তব্যে ক্ষোভ, তবে বিতর্কিত মন্তব্যও উঠে আসেকর্মসূচিতে একজন শিক্ষার্থী নারীর নিরাপত্তা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সমাজে কিছু মানুষ নারীদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন এবং অপরাধকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন—এ ধরনের মানসিকতা বন্ধ হওয়া জরুরি।তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা দরকার। যদিও তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা যায়, তবে সেখানে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতির বিষয়টিই মূল দাবি হিসেবে উঠে আসে।কেন বারবার এমন ঘটনা? সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণবিশ্লেষকদের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো কেবল আইনগত বিষয় নয়, বরং সামাজিক মানসিকতার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।প্রথমত, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের দ্রুত বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা সাহস পেয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, সামাজিকভাবে ভুক্তভোগীদের দায়ী করার প্রবণতা অনেক সময় বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। তৃতীয়ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কাঠামো না থাকাও বড় একটি ঘাটতি।মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যখন কোনো সমাজে ধারাবাহিকভাবে বিচারহীনতার ধারণা তৈরি হয়, তখন সেটি এক ধরনের “নরম অপরাধ সংস্কৃতি” তৈরি করে। অর্থাৎ মানুষ অপরাধের ভয় কম পেতে শুরু করে। প্রশাসনের অবস্থান কী?এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1342]শিক্ষার্থীরা অবশ্য দাবি করেছেন, শুধু তদন্ত নয়—দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।ক্যাম্পাস নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্নইডেন কলেজের এ বিক্ষোভ আবারও প্রশ্ন তুলেছে—নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কি যথেষ্ট নিশ্চিত? শিক্ষার্থীদের ভাষায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবতায় ঘাটতি রয়ে গেছে।তারা মনে করেন, নিয়মিত মনিটরিং, সাইবার ও শারীরিক নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিযোগ জানানোর দ্রুত ব্যবস্থা ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।শেষ কথাশিশু রামিসার ঘটনার বিচার দাবিতে ইডেন কলেজের এই বিক্ষোভ শুধু একটি প্রতিবাদ নয়—এটি সমাজের গভীর অস্থিরতার প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের দাবি স্পষ্ট—ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং দ্রুত ব্যবস্থা।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই দাবিগুলোকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবে রূপ দেয়।