বৈশ্বিক বাণিজ্যে টিকে থাকতে সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ, ডব্লিউটিও নিয়ম মানার ওপর জোর বাণিজ্যমন্ত্রীর
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম-কানুন ঠিকভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন Khandaker Abdul Muqtadir। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।সোমবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত “ন্যাশনাল ট্রেনিং অন ডব্লিউটিও নোটিফিকেশন রিকয়ারমেন্টস” শীর্ষক চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।[TECHTARANGA-POST:1512]কেন গুরুত্বপূর্ণ ডব্লিউটিও নোটিফিকেশন?বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় কার্যকরভাবে অংশ নিতে হলে ডব্লিউটিওর নিয়ম-কানুন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। শুধু নিয়ম জানা নয়, সেগুলো সময়মতো হালনাগাদ রাখা এবং বাস্তবে প্রয়োগ করাও গুরুত্বপূর্ণ।তার ভাষায়, ডব্লিউটিওতে নোটিফিকেশন জমা দেওয়া একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো তাদের বাণিজ্য নীতি, ভর্তুকি, আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশ করে।তিনি সতর্ক করে বলেন, সময়মতো এবং সঠিকভাবে নোটিফিকেশন না দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। এমনকি বাণিজ্যিক সুবিধা হারানোর ঝুঁকিও থাকে।‘প্রশিক্ষণ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়’অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশে Khandaker Abdul Muqtadir বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ নিলেই হবে না, এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কাজে লাগাতে হবে।তিনি বলেন, “প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা কী শিখলেন এবং সেটি কীভাবে কাজে ব্যবহার করবেন—সেটিই হবে এই উদ্যোগের আসল সাফল্য।”মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। ফলে এককভাবে কোনো মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সবকিছু সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে এ ধরনের যৌথ প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মত দেন তিনি।কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোরঅনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব Khadija Naznin।তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ডব্লিউটিও সংক্রান্ত জ্ঞান অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। এই ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) Md. Abdur Rahim Khan। তিনি বলেন, দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা জরুরি।তার মতে, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারবেন।বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন চ্যালেঞ্জঅনুষ্ঠানে উপস্থিত ডব্লিউটিও’র বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ডব্লিউটিওর নিয়ম মেনে চলা যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি এটি বড় সুযোগও তৈরি করে।তাদের মতে, সঠিকভাবে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলতে পারলে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ সহজ হয় এবং নতুন বাণিজ্য সুযোগ তৈরি হয়।বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বাণিজ্য যুদ্ধ, শুল্ক বৃদ্ধি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের পরিবর্তনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক নিয়ম সম্পর্কে আপডেট থাকা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মত দেন তারা।বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?পটভূমি হিসেবে জানা যায়, World Trade Organization বা ডব্লিউটিও ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটির মূল কাজ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়ম নির্ধারণ এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তি করা।বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ডব্লিউটিওর সদস্য। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিভিন্ন সুবিধা পেতে এবং রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে দেশটিকে নিয়মিতভাবে ডব্লিউটিওর নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়।বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ যখন উন্নয়নশীল দেশ থেকে উত্তরণের পথে এগোচ্ছে, তখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাঠামোর সঙ্গে আরও বেশি সমন্বয় প্রয়োজন হবে। ফলে ডব্লিউটিও সংক্রান্ত দক্ষতা বাড়ানো এখন কেবল আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রয়োজনও।[TECHTARANGA-POST:1509]সমন্বয়ের অভাব বড় চ্যালেঞ্জসংশ্লিষ্টদের মতে, ডব্লিউটিও সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও নোটিফিকেশন প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনেক সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা যায়। এতে সময়মতো তথ্য জমা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।এ কারণেই যৌথ প্রশিক্ষণ এবং সমন্বিত উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণও আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।উপসংহাররাজধানীতে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব বাণিজ্যের দ্রুত পরিবর্তিত বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে আন্তর্জাতিক নিয়ম সম্পর্কে দক্ষতা বাড়ানো এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা জরুরি। আর সেই লক্ষ্যেই ডব্লিউটিও সংক্রান্ত এই প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।