দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

“বিশ্ব অর্থনীতির ‘শ্বাসনালী’ হরমুজ প্রণালি ঝুঁকিতে—বন্ধ হলে থমকে যাবে তেল, খাদ্য ও শিল্প”

“বিশ্ব অর্থনীতির ‘শ্বাসনালী’ হরমুজ প্রণালি ঝুঁকিতে—বন্ধ হলে থমকে যাবে তেল, খাদ্য ও শিল্প”

ইরানকে ‘উপযুক্ত সময়ে’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের ইঙ্গিত

সংসদে তুমুল বিতর্কের মধ্যেই পাস: সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল, ওয়াকআউট বিরোধীদের

ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসা দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক

লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা: প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান, বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

“বিজয় ঘোষণা করে যুদ্ধবিরতিতে ইরান—পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক সমঝোতা!”

“যুদ্ধ থামেনি, শুধু থেমেছে গুলি: ট্রিগারে আঙুল রাখার নির্দেশ মোজতবা খামেনি—দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র”

মধ্যপ্রাচ্যে নাটকীয় মোড়: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি, ‘বিজয়’ দাবি ইরানের! হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় শর্তে এগোচ্ছে শান্তি

“বিশ্ব অর্থনীতির ‘শ্বাসনালী’ হরমুজ প্রণালি ঝুঁকিতে—বন্ধ হলে থমকে যাবে তেল, খাদ্য ও শিল্প”

“বিশ্ব অর্থনীতির ‘শ্বাসনালী’ হরমুজ প্রণালি ঝুঁকিতে—বন্ধ হলে থমকে যাবে তেল, খাদ্য ও শিল্প”

বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি আজ আবারও বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথটি একদিকে ইরান এবং অন্যদিকে ওমানসংযুক্ত আরব আমিরাত দ্বারা বেষ্টিত।

মাত্র ৩৯ কিলোমিটার চওড়া এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়—যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২১ শতাংশ। শুধু তেল নয়, বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস)ও এই পথ দিয়ে যায়। তাই একে বলা হয় “বিশ্বের এনার্জি গেটওয়ে”।


হরমুজ নামটি এসেছে মধ্য ফারসি ‘হরমোজ’ থেকে, যা আহুরা মাজদা-এর একটি রূপ—জ্ঞান ও শৃঙ্খলার দেবতা।

একাদশ শতকে একজন আরব বণিক-শাসক এখানে হরমুজ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে এটি মধ্যযুগের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়, যেখানে চীন, ভারত, আরব, এমনকি ইউরোপের বণিকদের সমাগম ঘটত।

১৫০৭ সালে পর্তুগিজ নৌ-অভিযাত্রী আফোনসো ডি আলবুকার্ক এই অঞ্চল দখল করেন। পরে ১৬২২ সালে শাহ আব্বাস প্রথম ইংরেজদের সহায়তায় এটি পুনর্দখল করেন।


হরমুজ প্রণালিকে “চোক পয়েন্ট” বলা হয়—অর্থাৎ এমন একটি সংকীর্ণ পথ, যা বন্ধ হয়ে গেলে পুরো বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে।

  • বিশ্বের ১/৩ তেল বাণিজ্য এখান দিয়ে
  • এশিয়ার দেশগুলো (চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া) ৮০% জ্বালানির জন্য নির্ভরশীল
  • বছরে প্রায় ৩০,০০০ জাহাজ চলাচল করে

এই পথ বন্ধ হলে তেলের দাম হু হু করে বাড়বে, যা সরাসরি মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করবে।


হরমুজ প্রণালি শুধু তেলের পথ নয়—এটি বিশ্ব শিল্পের প্রাণরস:

  • ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া (সারের মূল উপাদান) পরিবহনের বড় অংশ
  • বৈশ্বিক সালফারের প্রায় ৫০%
  • হিলিয়ামের এক-তৃতীয়াংশ
  • অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিক সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট

এই পথ বন্ধ হলে কৃষি উৎপাদন কমে যাবে, শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমনকি খাদ্য সংকটও দেখা দিতে পারে।


এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতিগুলো এই প্রণালির ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।

ভারত বা চীনে কয়েক দিনের জন্য তেল সরবরাহ বন্ধ হলে—

  • পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে
  • নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে
  • শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে

হরমুজের বিকল্প তৈরি করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে:

  • সৌদি আরবের “ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন”
  • আমিরাতের “আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইন”
  • ইরানের চাবাহার বন্দর

তবে এসব পথ মিলিয়েও হরমুজের বিশাল সক্ষমতার সমান হওয়া সম্ভব নয়।


সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন এবং তেহরান-এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল অবাধ থাকতে হবে
  • ইরান বলছে, এটি তাদের সার্বভৌমত্বের বিষয়

এই অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


হরমুজ প্রণালি কেবল একটি জলপথ নয়—এটি বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন।

এটি বন্ধ হয়ে গেলে শুধু তেল নয়, খাদ্য, শিল্প ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—
হরমুজ সচল রাখা এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬


“বিশ্ব অর্থনীতির ‘শ্বাসনালী’ হরমুজ প্রণালি ঝুঁকিতে—বন্ধ হলে থমকে যাবে তেল, খাদ্য ও শিল্প”

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি আজ আবারও বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথটি একদিকে ইরান এবং অন্যদিকে ওমানসংযুক্ত আরব আমিরাত দ্বারা বেষ্টিত।

মাত্র ৩৯ কিলোমিটার চওড়া এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়—যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২১ শতাংশ। শুধু তেল নয়, বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস)ও এই পথ দিয়ে যায়। তাই একে বলা হয় “বিশ্বের এনার্জি গেটওয়ে”।


হরমুজ নামটি এসেছে মধ্য ফারসি ‘হরমোজ’ থেকে, যা আহুরা মাজদা-এর একটি রূপ—জ্ঞান ও শৃঙ্খলার দেবতা।

একাদশ শতকে একজন আরব বণিক-শাসক এখানে হরমুজ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে এটি মধ্যযুগের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়, যেখানে চীন, ভারত, আরব, এমনকি ইউরোপের বণিকদের সমাগম ঘটত।

১৫০৭ সালে পর্তুগিজ নৌ-অভিযাত্রী আফোনসো ডি আলবুকার্ক এই অঞ্চল দখল করেন। পরে ১৬২২ সালে শাহ আব্বাস প্রথম ইংরেজদের সহায়তায় এটি পুনর্দখল করেন।


হরমুজ প্রণালিকে “চোক পয়েন্ট” বলা হয়—অর্থাৎ এমন একটি সংকীর্ণ পথ, যা বন্ধ হয়ে গেলে পুরো বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে।

  • বিশ্বের ১/৩ তেল বাণিজ্য এখান দিয়ে
  • এশিয়ার দেশগুলো (চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া) ৮০% জ্বালানির জন্য নির্ভরশীল
  • বছরে প্রায় ৩০,০০০ জাহাজ চলাচল করে

এই পথ বন্ধ হলে তেলের দাম হু হু করে বাড়বে, যা সরাসরি মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করবে।


হরমুজ প্রণালি শুধু তেলের পথ নয়—এটি বিশ্ব শিল্পের প্রাণরস:

  • ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া (সারের মূল উপাদান) পরিবহনের বড় অংশ
  • বৈশ্বিক সালফারের প্রায় ৫০%
  • হিলিয়ামের এক-তৃতীয়াংশ
  • অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিক সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট

এই পথ বন্ধ হলে কৃষি উৎপাদন কমে যাবে, শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমনকি খাদ্য সংকটও দেখা দিতে পারে।


এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতিগুলো এই প্রণালির ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।

ভারত বা চীনে কয়েক দিনের জন্য তেল সরবরাহ বন্ধ হলে—

  • পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে
  • নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে
  • শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে

হরমুজের বিকল্প তৈরি করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে:

  • সৌদি আরবের “ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন”
  • আমিরাতের “আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইন”
  • ইরানের চাবাহার বন্দর

তবে এসব পথ মিলিয়েও হরমুজের বিশাল সক্ষমতার সমান হওয়া সম্ভব নয়।


সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন এবং তেহরান-এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল অবাধ থাকতে হবে
  • ইরান বলছে, এটি তাদের সার্বভৌমত্বের বিষয়

এই অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


হরমুজ প্রণালি কেবল একটি জলপথ নয়—এটি বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন।

এটি বন্ধ হয়ে গেলে শুধু তেল নয়, খাদ্য, শিল্প ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—
হরমুজ সচল রাখা এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক প্রয়োজন।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর