দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

খিলক্ষেতে রুমি সিন্ডিকেটের ‘ডিজিটাল’ চাঁদাবাজি: সরকারি রাস্তা দখল করে স্ট্যাম্পে ভাড়া, দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

খিলক্ষেতে রুমি সিন্ডিকেটের ‘ডিজিটাল’ চাঁদাবাজি: সরকারি রাস্তা দখল করে স্ট্যাম্পে ভাড়া, দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

চাঁদের অন্ধকার পাড়ে ইতিহাস: আর্টেমিস-২ নভোচারীদের রেকর্ড যাত্রা, পৃথিবী দেখা যাবে ‘বাস্কেটবলের মতো’!

“২০৩৪-এর লক্ষ্য: ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি—বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিতে সরকারের মহাপরিকল্পনা”

নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ: ১১ হাজার কোটি টাকার ১৭ প্রকল্পে বড় চমক!

জ্বালানি সংকটে থমকে দেশ: অর্ধেকে নেমেছে বাস, তিনগুণ ভাড়া—যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

জ্বালানি সংকটে পানি সরবরাহে শঙ্কা: চাপে ঢাকা ওয়াসা, প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে নাগরিকদের

“ধ্বংস না সংলাপ? ট্রাম্পের দ্বিমুখী কূটনীতি ঘিরে তুমুল বিতর্ক”

“মার্কিন ‘সাহসী অভিযান’ নাকি ব্যর্থ মিশন? নিখোঁজ পাইলট ইস্যুতে তীব্র মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

খিলক্ষেতে রুমি সিন্ডিকেটের ‘ডিজিটাল’ চাঁদাবাজি: সরকারি রাস্তা দখল করে স্ট্যাম্পে ভাড়া, দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

খিলক্ষেতে রুমি সিন্ডিকেটের ‘ডিজিটাল’ চাঁদাবাজি: সরকারি রাস্তা দখল করে স্ট্যাম্পে ভাড়া, দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

 খিলক্ষেত এলাকায় ‘রুমি সিন্ডিকেট’-এর বেপরোয়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এই চক্রটি এখন জালিয়াতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। সরকারি রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে ‘উচ্ছেদযোগ্য দোকান ভাড়ার চুক্তিনামা’ তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের মূলহোতা ইশতিয়াক আহমেদ রুমি ও তার ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে।

​নজিরবিহীন জালিয়াতি: সরকারি রাস্তায় স্ট্যাম্প চুক্তি

​অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খিলক্ষেত বাজারের সরকারি রাস্তা ও পথচারীদের হাঁটার জায়গা দখল করে সেখানে দোকান বসিয়েছে রুমি সিন্ডিকেট। মূলত কোয়ালিটি টিম্বার ইন্ডাস্ট্রিজের জমি ও সংলগ্ন সরকারি রাস্তা দখল করে এই বাণিজ্য চলছে। গণপূর্ত বা সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন রাস্তায় ব্যক্তিগত সিন্ডিকেট কীভাবে ভাড়ার চুক্তি করে, তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

​এই অবৈধ দখলকে ‘আইনি’ রূপ দিতে তারা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প (যার একটির নম্বর ৫৯ ৬৯৬৩২) ব্যবহার করে ভুয়া মালিকানা দেখাচ্ছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন—সরকারি রাস্তা কীভাবে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে লেনদেনের বিষয় হতে পারে? এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের শামিল।

​টাকা দিয়েও মামলার আসামি ভুক্তভোগীরা

​এই সিন্ডিকেটের অন্যতম ভয়ংকর কৌশল হলো ‘উল্টো মামলা’ দিয়ে হয়রানি করা। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক ভয়াবহ চিত্র:

​হেলাল উদ্দিনের আর্তনাদ: ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিন জানান, তিনি ২ লক্ষ টাকা ‘লোড’ (অগ্রিম) দিয়ে একটি দোকান বরাদ্দ নিয়েছিলেন। কিন্তু যখনই তিনি এই অবৈধ লেনদেনের প্রতিবাদ করেন, ইশতিয়াক আহমেদ রুমি তার বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা মামলা দায়ের করে। চার সদস্যের সংসার নিয়ে হেলাল এখন সর্বস্বান্ত হয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন।

​একই চক্রে পিষ্ট অন্য ব্যবসায়ীরা: একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আলাল ও দুলাল, যাদের পজিশন মূল্য বাবদ ৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। এছাড়া সারোয়ার, ইমাম, সজীব, আনিস ও উজ্জ্বলসহ আরও অনেকের পজিশন জোরপূর্বক দখল করে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রতিবাদ করলেই রুমির বাহিনী হামলা ও মামলা দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিচ্ছে।

​চেক প্রতারণা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ

​চক্রটির বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ টাকার চেক প্রতারণার একটি গুরুতর ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আল ইমরান। এছাড়া জনতা ব্যাংকের জনৈক ম্যানেজারের ছত্রছায়ায় ফুটপাত দখলের বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির এক চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। প্রতিবেদকের কাছে থাকা বেশ কিছু অডিও রেকর্ডে রুমির ঘনিষ্ঠদের মুখে ফুটপাত নিয়ে চাঁদাবাজি ও আর্থিক লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

​প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে ভয়ভীতি

​রুমি ও তার বাহিনী এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছে যে, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাদের "পকেটে"। "প্রশাসন আমাদের সাথে আছে"—এমন গুজব ছড়িয়ে তারা ভুক্তভোগীদের ভয় দেখাচ্ছে। এমনকি মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধেও মামলা দিতে দ্বিধা করছে না এই চক্রটি। ডিজিটাল কায়দায় নথিপত্র জাল করে এবং বাহুবলী বাহিনী দিয়ে এলাকাকে একপ্রকার জিম্মি করে ফেলেছে তারা।

​যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা

​খিলক্ষেত এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা এই ভন্ড প্রতারক চক্রের হাত থেকে বাঁচতে মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং সেনাবাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি:

​অবিলম্বে যৌথ বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে ইশতিয়াক আহমেদ রুমি ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

​৩০০ টাকার স্ট্যাম্প জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখলের বিচার করতে হবে।

​সরকারি রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

​"আমরা ব্যবসা করে খেতে চাই, জালিয়াতির শিকার হয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে চাই না। এই সিন্ডিকেটের বিনাশ জরুরি।" — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক স্থানীয় ব্যবসায়ী।

​দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনের সপক্ষে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এবং কল রেকর্ড সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সংরক্ষিত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬


খিলক্ষেতে রুমি সিন্ডিকেটের ‘ডিজিটাল’ চাঁদাবাজি: সরকারি রাস্তা দখল করে স্ট্যাম্পে ভাড়া, দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

 খিলক্ষেত এলাকায় ‘রুমি সিন্ডিকেট’-এর বেপরোয়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এই চক্রটি এখন জালিয়াতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। সরকারি রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে ‘উচ্ছেদযোগ্য দোকান ভাড়ার চুক্তিনামা’ তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের মূলহোতা ইশতিয়াক আহমেদ রুমি ও তার ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে।

​নজিরবিহীন জালিয়াতি: সরকারি রাস্তায় স্ট্যাম্প চুক্তি

​অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খিলক্ষেত বাজারের সরকারি রাস্তা ও পথচারীদের হাঁটার জায়গা দখল করে সেখানে দোকান বসিয়েছে রুমি সিন্ডিকেট। মূলত কোয়ালিটি টিম্বার ইন্ডাস্ট্রিজের জমি ও সংলগ্ন সরকারি রাস্তা দখল করে এই বাণিজ্য চলছে। গণপূর্ত বা সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন রাস্তায় ব্যক্তিগত সিন্ডিকেট কীভাবে ভাড়ার চুক্তি করে, তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

​এই অবৈধ দখলকে ‘আইনি’ রূপ দিতে তারা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প (যার একটির নম্বর ৫৯ ৬৯৬৩২) ব্যবহার করে ভুয়া মালিকানা দেখাচ্ছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন—সরকারি রাস্তা কীভাবে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে লেনদেনের বিষয় হতে পারে? এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের শামিল।

​টাকা দিয়েও মামলার আসামি ভুক্তভোগীরা

​এই সিন্ডিকেটের অন্যতম ভয়ংকর কৌশল হলো ‘উল্টো মামলা’ দিয়ে হয়রানি করা। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক ভয়াবহ চিত্র:

​হেলাল উদ্দিনের আর্তনাদ: ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিন জানান, তিনি ২ লক্ষ টাকা ‘লোড’ (অগ্রিম) দিয়ে একটি দোকান বরাদ্দ নিয়েছিলেন। কিন্তু যখনই তিনি এই অবৈধ লেনদেনের প্রতিবাদ করেন, ইশতিয়াক আহমেদ রুমি তার বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা মামলা দায়ের করে। চার সদস্যের সংসার নিয়ে হেলাল এখন সর্বস্বান্ত হয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন।

​একই চক্রে পিষ্ট অন্য ব্যবসায়ীরা: একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আলাল ও দুলাল, যাদের পজিশন মূল্য বাবদ ৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। এছাড়া সারোয়ার, ইমাম, সজীব, আনিস ও উজ্জ্বলসহ আরও অনেকের পজিশন জোরপূর্বক দখল করে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রতিবাদ করলেই রুমির বাহিনী হামলা ও মামলা দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিচ্ছে।

​চেক প্রতারণা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ

​চক্রটির বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ টাকার চেক প্রতারণার একটি গুরুতর ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আল ইমরান। এছাড়া জনতা ব্যাংকের জনৈক ম্যানেজারের ছত্রছায়ায় ফুটপাত দখলের বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির এক চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। প্রতিবেদকের কাছে থাকা বেশ কিছু অডিও রেকর্ডে রুমির ঘনিষ্ঠদের মুখে ফুটপাত নিয়ে চাঁদাবাজি ও আর্থিক লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

​প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে ভয়ভীতি

​রুমি ও তার বাহিনী এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছে যে, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাদের "পকেটে"। "প্রশাসন আমাদের সাথে আছে"—এমন গুজব ছড়িয়ে তারা ভুক্তভোগীদের ভয় দেখাচ্ছে। এমনকি মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধেও মামলা দিতে দ্বিধা করছে না এই চক্রটি। ডিজিটাল কায়দায় নথিপত্র জাল করে এবং বাহুবলী বাহিনী দিয়ে এলাকাকে একপ্রকার জিম্মি করে ফেলেছে তারা।

​যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা

​খিলক্ষেত এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা এই ভন্ড প্রতারক চক্রের হাত থেকে বাঁচতে মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং সেনাবাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি:

​অবিলম্বে যৌথ বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে ইশতিয়াক আহমেদ রুমি ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

​৩০০ টাকার স্ট্যাম্প জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখলের বিচার করতে হবে।

​সরকারি রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

​"আমরা ব্যবসা করে খেতে চাই, জালিয়াতির শিকার হয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে চাই না। এই সিন্ডিকেটের বিনাশ জরুরি।" — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক স্থানীয় ব্যবসায়ী।

​দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনের সপক্ষে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এবং কল রেকর্ড সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সংরক্ষিত রয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর