দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ: ১১ হাজার কোটি টাকার ১৭ প্রকল্পে বড় চমক!

নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ: ১১ হাজার কোটি টাকার ১৭ প্রকল্পে বড় চমক!

জ্বালানি সংকটে থমকে দেশ: অর্ধেকে নেমেছে বাস, তিনগুণ ভাড়া—যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

জ্বালানি সংকটে পানি সরবরাহে শঙ্কা: চাপে ঢাকা ওয়াসা, প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে নাগরিকদের

“ধ্বংস না সংলাপ? ট্রাম্পের দ্বিমুখী কূটনীতি ঘিরে তুমুল বিতর্ক”

“মার্কিন ‘সাহসী অভিযান’ নাকি ব্যর্থ মিশন? নিখোঁজ পাইলট ইস্যুতে তীব্র মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

????️ ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা: দেশের ১৫ জেলায় ঘণ্টায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক—ঐতিহাসিক ছবি ও হোয়াইট হাউসের রেপ্লিকা উপহার

রাজধানীর মাছ ও মাংসের বাজারে স্বস্তির কোন চিহ্ন নেই, ক্রেতাদের ভোগান্তি তুঙ্গে

“ধ্বংস না সংলাপ? ট্রাম্পের দ্বিমুখী কূটনীতি ঘিরে তুমুল বিতর্ক”

“ধ্বংস না সংলাপ? ট্রাম্পের দ্বিমুখী কূটনীতি ঘিরে তুমুল বিতর্ক”

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন চরমে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে ইরানকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার হুমকি, অন্যদিকে আবার আলোচনার আহ্বান—এই দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তার কৌশল ও মানসিক স্থিতিশীলতা নিয়ে।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, যদি ইরান গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘সবকিছু উড়িয়ে দেবে’ এবং ইরানের তেল সম্পদ দখল করবে। এই বক্তব্য মুহূর্তেই আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

তবে বিস্ময়করভাবে একই সাক্ষাৎকারেই তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় আগ্রহী পক্ষগুলোর জন্য সাধারণ ক্ষমা (অ্যামনেস্টি) ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ, কঠোর সামরিক হুমকির পাশাপাশি কূটনৈতিক দরজাও খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আরেকটি মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা Jared Kushner এবং Steve Witkoff ইতোমধ্যেই ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন। এমনকি কিছু সূত্রে বলা হচ্ছে, তারা সরাসরি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi-এর সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করছেন—যদিও এই তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই সম্ভাব্য আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে Egypt, Pakistan এবং Turkey ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে, ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থানকে কঠোর সমালোচনার চোখে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক Foad Izadi মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট হচ্ছে তিনি রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন এবং কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় ক্রমশ ভারসাম্য হারাচ্ছেন।

রোববার Fox News-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দেন। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের কিছু কর্মকর্তা বর্তমানে আলোচনায় যুক্ত এবং খুব শিগগিরই—সম্ভবত সোমবারের মধ্যেই—একটি চুক্তির ‘ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে।

তবে তেহরান বরাবরের মতোই ট্রাম্পের এই দাবিকে অস্বীকার করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেসব আলোচনার কথা বলা হচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী কৌশল—একদিকে চাপ সৃষ্টি, অন্যদিকে আলোচনার ইঙ্গিত—কূটনৈতিকভাবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলে চলছে তীব্র আলোচনা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬


“ধ্বংস না সংলাপ? ট্রাম্পের দ্বিমুখী কূটনীতি ঘিরে তুমুল বিতর্ক”

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন চরমে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে ইরানকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার হুমকি, অন্যদিকে আবার আলোচনার আহ্বান—এই দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তার কৌশল ও মানসিক স্থিতিশীলতা নিয়ে।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, যদি ইরান গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘সবকিছু উড়িয়ে দেবে’ এবং ইরানের তেল সম্পদ দখল করবে। এই বক্তব্য মুহূর্তেই আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

তবে বিস্ময়করভাবে একই সাক্ষাৎকারেই তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় আগ্রহী পক্ষগুলোর জন্য সাধারণ ক্ষমা (অ্যামনেস্টি) ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ, কঠোর সামরিক হুমকির পাশাপাশি কূটনৈতিক দরজাও খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আরেকটি মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা Jared Kushner এবং Steve Witkoff ইতোমধ্যেই ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন। এমনকি কিছু সূত্রে বলা হচ্ছে, তারা সরাসরি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi-এর সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করছেন—যদিও এই তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই সম্ভাব্য আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে Egypt, Pakistan এবং Turkey ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে, ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থানকে কঠোর সমালোচনার চোখে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক Foad Izadi মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট হচ্ছে তিনি রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন এবং কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় ক্রমশ ভারসাম্য হারাচ্ছেন।

রোববার Fox News-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দেন। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের কিছু কর্মকর্তা বর্তমানে আলোচনায় যুক্ত এবং খুব শিগগিরই—সম্ভবত সোমবারের মধ্যেই—একটি চুক্তির ‘ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে।

তবে তেহরান বরাবরের মতোই ট্রাম্পের এই দাবিকে অস্বীকার করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেসব আলোচনার কথা বলা হচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী কৌশল—একদিকে চাপ সৃষ্টি, অন্যদিকে আলোচনার ইঙ্গিত—কূটনৈতিকভাবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলে চলছে তীব্র আলোচনা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর