অনুমোদনে দীর্ঘ বিলম্ব এবং ঠিকাদারদের ধীরগতির বাস্তবায়নের কারণে দেশের তিন পার্বত্য জেলা—রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি মারাত্মক ধীরগতিতে এগোচ্ছে। পাঁচ বছর মেয়াদের এই প্রকল্প এখন আট বছরেও শেষ হয়নি, বরং ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৬ কোটির কাছাকাছি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। প্রাথমিকভাবে ৭৪৯ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। কিন্তু বর্তমান অগ্রগতির ধারা বিবেচনায় এই সময়েও কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে সাত বছরে প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯১.৭৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৯৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৮৩.৪২ শতাংশ। তবে বাকি কাজ শেষ করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।
তিনি বলেন, প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুমোদনে প্রায় এক বছর বিলম্ব হয়। ফলে অনেক কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু করা যায়নি। এছাড়া ২০২৫ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ের সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে ঠিকাদাররা মাঠপর্যায়ে ধীরগতিতে কাজ করেছেন, যার ফলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, অতিবৃষ্টি, ভূমিধস ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক, কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার না করায় স্থানীয় জনগণের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, প্রকল্পের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৪৯ কোটি টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকায়। অর্থাৎ, অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা।
বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে বানিয়াছড়া-গজালিয়া সড়কের একটি অংশ, যার চেইনেজ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অংশটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন।
স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ অল্প বাকি থাকায় দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি এখন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হলে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
অনুমোদনে দীর্ঘ বিলম্ব এবং ঠিকাদারদের ধীরগতির বাস্তবায়নের কারণে দেশের তিন পার্বত্য জেলা—রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি মারাত্মক ধীরগতিতে এগোচ্ছে। পাঁচ বছর মেয়াদের এই প্রকল্প এখন আট বছরেও শেষ হয়নি, বরং ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৬ কোটির কাছাকাছি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। প্রাথমিকভাবে ৭৪৯ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। কিন্তু বর্তমান অগ্রগতির ধারা বিবেচনায় এই সময়েও কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে সাত বছরে প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯১.৭৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৯৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৮৩.৪২ শতাংশ। তবে বাকি কাজ শেষ করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।
তিনি বলেন, প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুমোদনে প্রায় এক বছর বিলম্ব হয়। ফলে অনেক কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু করা যায়নি। এছাড়া ২০২৫ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ের সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে ঠিকাদাররা মাঠপর্যায়ে ধীরগতিতে কাজ করেছেন, যার ফলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, অতিবৃষ্টি, ভূমিধস ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক, কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার না করায় স্থানীয় জনগণের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, প্রকল্পের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৪৯ কোটি টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকায়। অর্থাৎ, অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা।
বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে বানিয়াছড়া-গজালিয়া সড়কের একটি অংশ, যার চেইনেজ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অংশটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন।
স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ অল্প বাকি থাকায় দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি এখন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হলে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন