দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধের আশঙ্কা: কৌশলগত শূন্যতায় বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকিতে?

ইরান যুদ্ধের আশঙ্কা: কৌশলগত শূন্যতায় বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকিতে?

শুরু হলো ট্রেনের ঈদযাত্রা: আজ দেওয়া হচ্ছে ১৪ মার্চের অগ্রিম টিকিট

জায়নবাদ মানবতার হুমকি, ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপানো হয়েছে: পাকিস্তান

অস্ত্র মজুত নিয়ে ট্রাম্পের বার্তা: ‘অনন্তকাল যুদ্ধ সম্ভব’

আলি খামেনির শৈশব: মক্তবের কঠোর শাসন ও একজন শিক্ষকের ভয়

হাইকোর্টের নির্দেশ: ৪ আসনের ব্যালট পেপার ও রেজাল্ট শিট সংরক্ষণের আদেশ

বাংলাদেশে স্বর্ণের বর্তমান বাজার দর (মার্চ ২০২৬)

খামেনি হত্যা ও ইরানে হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ

ইরান যুদ্ধের আশঙ্কা: কৌশলগত শূন্যতায় বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকিতে?

ইরান যুদ্ধের আশঙ্কা: কৌশলগত শূন্যতায় বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকিতে?

ইরান সংঘাত: ট্রাম্পের অস্পষ্ট রণকৌশল ও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কা

ওয়াশিংটন ডি.সি: ডনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রকৃত লক্ষ্য নিয়ে খোদ ওয়াশিংটনের নীতি-নির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে একটি ‘সুস্পষ্ট কৌশলহীন’ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে, যার কোনো সুনির্দিষ্ট ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ বা যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা নেই।

ট্রাম্পের ‘ভেনেজুয়েলা মডেল’ ও নিখুঁত হামলার পরিকল্পনা

বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, ট্রাম্প ইরানে এমন একটি অভিযান চান যা তিনি অতীতে ভেনেজুয়েলায় প্রয়োগের চেষ্টা করেছিলেন। এর আওতায় বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা অথবা নির্দিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনায় ‘প্রিসিশন এয়ার স্ট্রাইক’ বা নিখুঁত বিমান হামলা চালানো। তাদের ধারণা, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পতন বা নিহতের ঘটনা ঘটলে ট্রাম্প একে ‘শাসন পরিবর্তন’ (Regime Change) হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দ্রুত যুদ্ধ সমাপ্তি ও আলোচনার টেবিলে ফেরার চেষ্টা করবেন।

নেতানিয়াহু ফ্যাক্টর ও দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ঝুঁকি

তবে এই সমীকরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেতানিয়াহুর লক্ষ্য কেবল শাসন পরিবর্তন নয়, বরং ইরানের সম্পূর্ণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। এর জন্য মাসের পর মাস ব্যাপক বোমাবর্ষণ প্রয়োজন। ট্রাম্প চাইছেন না নেতানিয়াহু তাকে ছাপিয়ে যান, আবার ইসরায়েলকে সন্তুষ্ট না করে তিনি যুদ্ধ বন্ধও করতে পারছেন না। ফলে এই সংঘাত অনির্দিষ্টকালের জন্য দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

অবাস্তব প্রত্যাশা ও সামরিক অভ্যুত্থানের বিভ্রম

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা ইরানের সামরিক শক্তি ও রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) সক্ষমতাকে খাটো করে দেখছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ট্রাম্পের অনুসারীরা বিশ্বাস করেন, মার্কিন সেনারা কেবল ‘পরামর্শক’ হিসেবে কাজ করলেই ইরানে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানো সম্ভব। সমালোচকরা একে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়কার ‘ভ্রান্ত ধারণার’ সঙ্গে তুলনা করছেন। স্থলবাহিনী ছাড়া শাসন পরিবর্তন সম্ভব নয়, অথচ ১০ লাখ সেনার ইরানি বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থলযুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ চোরাবালি হতে পারে।

প্রশাসনের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের অভাব

পেন্টাগন এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান প্রশাসনে চরম সমন্বয়হীনতা চলছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা। পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পারলেও ‘সাফল্যের সংজ্ঞা’ বা ‘যুদ্ধ পরবর্তী পরিকল্পনা’ নিয়ে হোয়াইট হাউসের কাছ থেকে কোনো পরিষ্কার নির্দেশনা পাচ্ছেন না।

সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতি

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই পরিকল্পনাহীন যুদ্ধের ফলে কয়েকটি বিপর্যয় ঘটতে পারে: ১. গৃহযুদ্ধ: ইরানে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হলে দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। ২. অর্থনৈতিক ধস: তেলের দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের ওপর এর তীব্র প্রভাব পড়বে। ৩. প্রক্সি ওয়ার: হিজবুল্লাহ, হুতি ও হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলো পুরো অঞ্চলে পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে মার্কিন সম্পদ ও স্বার্থ চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

উপসংহার: ট্রাম্প বিশ্বাস করেন তিনি তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিস্থিতি সামলে নেবেন, কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। পরস্পরবিরোধী পরামর্শ এবং সুনির্দিষ্ট কৌশলের অভাবে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে যা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিকে কয়েক দশক পিছিয়ে দেবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬


ইরান যুদ্ধের আশঙ্কা: কৌশলগত শূন্যতায় বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকিতে?

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরান সংঘাত: ট্রাম্পের অস্পষ্ট রণকৌশল ও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কা

ওয়াশিংটন ডি.সি: ডনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রকৃত লক্ষ্য নিয়ে খোদ ওয়াশিংটনের নীতি-নির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে একটি ‘সুস্পষ্ট কৌশলহীন’ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে, যার কোনো সুনির্দিষ্ট ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ বা যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা নেই।

ট্রাম্পের ‘ভেনেজুয়েলা মডেল’ ও নিখুঁত হামলার পরিকল্পনা

বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, ট্রাম্প ইরানে এমন একটি অভিযান চান যা তিনি অতীতে ভেনেজুয়েলায় প্রয়োগের চেষ্টা করেছিলেন। এর আওতায় বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা অথবা নির্দিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনায় ‘প্রিসিশন এয়ার স্ট্রাইক’ বা নিখুঁত বিমান হামলা চালানো। তাদের ধারণা, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পতন বা নিহতের ঘটনা ঘটলে ট্রাম্প একে ‘শাসন পরিবর্তন’ (Regime Change) হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দ্রুত যুদ্ধ সমাপ্তি ও আলোচনার টেবিলে ফেরার চেষ্টা করবেন।

নেতানিয়াহু ফ্যাক্টর ও দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ঝুঁকি

তবে এই সমীকরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেতানিয়াহুর লক্ষ্য কেবল শাসন পরিবর্তন নয়, বরং ইরানের সম্পূর্ণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। এর জন্য মাসের পর মাস ব্যাপক বোমাবর্ষণ প্রয়োজন। ট্রাম্প চাইছেন না নেতানিয়াহু তাকে ছাপিয়ে যান, আবার ইসরায়েলকে সন্তুষ্ট না করে তিনি যুদ্ধ বন্ধও করতে পারছেন না। ফলে এই সংঘাত অনির্দিষ্টকালের জন্য দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

অবাস্তব প্রত্যাশা ও সামরিক অভ্যুত্থানের বিভ্রম

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা ইরানের সামরিক শক্তি ও রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) সক্ষমতাকে খাটো করে দেখছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ট্রাম্পের অনুসারীরা বিশ্বাস করেন, মার্কিন সেনারা কেবল ‘পরামর্শক’ হিসেবে কাজ করলেই ইরানে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানো সম্ভব। সমালোচকরা একে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়কার ‘ভ্রান্ত ধারণার’ সঙ্গে তুলনা করছেন। স্থলবাহিনী ছাড়া শাসন পরিবর্তন সম্ভব নয়, অথচ ১০ লাখ সেনার ইরানি বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থলযুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ চোরাবালি হতে পারে।

প্রশাসনের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের অভাব

পেন্টাগন এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান প্রশাসনে চরম সমন্বয়হীনতা চলছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা। পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পারলেও ‘সাফল্যের সংজ্ঞা’ বা ‘যুদ্ধ পরবর্তী পরিকল্পনা’ নিয়ে হোয়াইট হাউসের কাছ থেকে কোনো পরিষ্কার নির্দেশনা পাচ্ছেন না।

সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতি

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই পরিকল্পনাহীন যুদ্ধের ফলে কয়েকটি বিপর্যয় ঘটতে পারে: ১. গৃহযুদ্ধ: ইরানে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হলে দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। ২. অর্থনৈতিক ধস: তেলের দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের ওপর এর তীব্র প্রভাব পড়বে। ৩. প্রক্সি ওয়ার: হিজবুল্লাহ, হুতি ও হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলো পুরো অঞ্চলে পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে মার্কিন সম্পদ ও স্বার্থ চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

উপসংহার: ট্রাম্প বিশ্বাস করেন তিনি তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিস্থিতি সামলে নেবেন, কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। পরস্পরবিরোধী পরামর্শ এবং সুনির্দিষ্ট কৌশলের অভাবে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে যা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিকে কয়েক দশক পিছিয়ে দেবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর