দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভূমিকম্পের ঘনঘটা: ১৩ মাসে ৩২ বার কম্পন, ঝুঁকিতে তথাকথিত ‘নিরাপদ’ অঞ্চলও

ভূমিকম্পের ঘনঘটা: ১৩ মাসে ৩২ বার কম্পন, ঝুঁকিতে তথাকথিত ‘নিরাপদ’ অঞ্চলও

আদিয়াবাদ সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ সামনে মানববন্ধনে বাধা, সাংবাদিকদের কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ

"সরকারের লক্ষ্য আলোকিত সমাজ: গুণীজনদের মেধা ও দিকনির্দেশনা কাজে লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর"

"সাবেক উপদেষ্টাদের দুর্নীতির আমলনামা: জমা পড়ছে শত শত অভিযোগ"

"একুশে পদকে ভূষিত হচ্ছেন ২১ গুণীজন: আজ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী"

সীমান্ত বাহিনী আর ও আধুনিক ও সুসহত প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

ফরমাল: বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন মোস্তাকুর রহমান।

"পিলখানা ট্র্যাজেডির নেপথ্য কুশীলবদের উদ্দেশ্য এখন স্পষ্ট: প্রধানমন্ত্রী"

ভূমিকম্পের ঘনঘটা: ১৩ মাসে ৩২ বার কম্পন, ঝুঁকিতে তথাকথিত ‘নিরাপদ’ অঞ্চলও

ভূমিকম্পের ঘনঘটা: ১৩ মাসে ৩২ বার কম্পন, ঝুঁকিতে তথাকথিত ‘নিরাপদ’ অঞ্চলও

১৩ মাসে ৩২ ভূমিকম্প: কম ঝুঁকির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও বাড়ছে বড় দুর্যোগের সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা বাংলাদেশে ভূমিকম্পের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৩ মাসে দেশের অভ্যন্তরে ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ৩২টি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে, সাধারণত 'কম ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঘনঘন কম্পন ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তি বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।

সাতক্ষীরায় মাঝারি ভূমিকম্প ও জনমনে আতঙ্ক

গতকাল শুক্রবার দুপুরে ৫.৪ মাত্রার এক মাঝারি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা মাঝারি হলেও উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় সাতক্ষীরা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলী জানান, হঠাৎ দোতলা বাড়ি দুলে ওঠায় সবাই দ্রুত রাস্তায় নেমে আসেন। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পন পুরো জেলায় ভীতি সৃষ্টি করে।

কেন কাঁপছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল?

সাধারণত বরিশাল ও খুলনা বিভাগকে ভূমিকম্পের কম ঝুঁকির এলাকা ধরা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক চিত্র ভিন্ন:

  • সাতক্ষীরা (গতকাল): ৫.৪ মাত্রা।

  • ঝিনাইদহ (বৃহস্পতিবার): ৩.২ মাত্রা।

  • সাতক্ষীরা (৩ ফেব্রুয়ারি): ৪.১ মাত্রা।

  • যশোর (গত বছর): ৩.৫ মাত্রা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের দুটি টেকটোনিক প্লেটের বিপরীতমুখী টানের (Tensional Force) মাঝখানে পড়ে গেছে এই অঞ্চলটি। ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আক্তারুল আহসান জানান, কলকাতা থেকে জামালপুর-ময়মনসিংহ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন ফাটলরেখা (Fault line) আবিষ্কৃত হয়েছে। সাতক্ষীরা ও নরসিংদী এই ফাটলরেখার 'হিঞ্জ লাইনের' মধ্যেই অবস্থিত। গতকালের কম্পনটি গত নভেম্বরের নরসিংদী ভূমিকম্পের একটি 'আফটার-শক' হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

১৩ মাসে ৩২ বার কম্পন: বড় দুর্যোগের ইঙ্গিত?

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি সময় পর্যন্ত ৩২টি ভূমিকম্পের রেকর্ড আগে কখনো দেখা যায়নি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে সিলেট অঞ্চলে।

"১৩ মাসে ৩২টি ভূমিকম্পের রেকর্ড এর আগে ছিল না। ভূ-অভ্যন্তরে সঞ্চিত বিপুল শক্তির এই বহিঃপ্রকাশ বড় কোনো ভূমিকম্পের আগাম সংকেত হতে পারে।" — রুবাইয়াৎ কবীর, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।

বিশেষজ্ঞ মত ও প্রস্তুতি

অধ্যাপক হুমায়ুন আখতারের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন ছোট ছোট কম্পনগুলোও শনাক্ত করা যাচ্ছে, যা আগে সম্ভব হতো না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বড় কোনো প্লেট বাউন্ডারি না থাকায় সেখানে বিশাল ভূমিকম্পের ঝুঁকি কম থাকলেও, সারা দেশে কম্পন বেড়ে যাওয়াটা বড় দুর্যোগের পূর্বাভাস দেয়।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতির যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ভবন নির্মাণে কোড মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ভূমিকম্পের ঘনঘটা: ১৩ মাসে ৩২ বার কম্পন, ঝুঁকিতে তথাকথিত ‘নিরাপদ’ অঞ্চলও

প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

১৩ মাসে ৩২ ভূমিকম্প: কম ঝুঁকির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও বাড়ছে বড় দুর্যোগের সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা বাংলাদেশে ভূমিকম্পের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৩ মাসে দেশের অভ্যন্তরে ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ৩২টি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে, সাধারণত 'কম ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঘনঘন কম্পন ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তি বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।

সাতক্ষীরায় মাঝারি ভূমিকম্প ও জনমনে আতঙ্ক

গতকাল শুক্রবার দুপুরে ৫.৪ মাত্রার এক মাঝারি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা মাঝারি হলেও উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় সাতক্ষীরা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলী জানান, হঠাৎ দোতলা বাড়ি দুলে ওঠায় সবাই দ্রুত রাস্তায় নেমে আসেন। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পন পুরো জেলায় ভীতি সৃষ্টি করে।

কেন কাঁপছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল?

সাধারণত বরিশাল ও খুলনা বিভাগকে ভূমিকম্পের কম ঝুঁকির এলাকা ধরা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক চিত্র ভিন্ন:

  • সাতক্ষীরা (গতকাল): ৫.৪ মাত্রা।

  • ঝিনাইদহ (বৃহস্পতিবার): ৩.২ মাত্রা।

  • সাতক্ষীরা (৩ ফেব্রুয়ারি): ৪.১ মাত্রা।

  • যশোর (গত বছর): ৩.৫ মাত্রা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের দুটি টেকটোনিক প্লেটের বিপরীতমুখী টানের (Tensional Force) মাঝখানে পড়ে গেছে এই অঞ্চলটি। ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আক্তারুল আহসান জানান, কলকাতা থেকে জামালপুর-ময়মনসিংহ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন ফাটলরেখা (Fault line) আবিষ্কৃত হয়েছে। সাতক্ষীরা ও নরসিংদী এই ফাটলরেখার 'হিঞ্জ লাইনের' মধ্যেই অবস্থিত। গতকালের কম্পনটি গত নভেম্বরের নরসিংদী ভূমিকম্পের একটি 'আফটার-শক' হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

১৩ মাসে ৩২ বার কম্পন: বড় দুর্যোগের ইঙ্গিত?

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি সময় পর্যন্ত ৩২টি ভূমিকম্পের রেকর্ড আগে কখনো দেখা যায়নি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে সিলেট অঞ্চলে।

"১৩ মাসে ৩২টি ভূমিকম্পের রেকর্ড এর আগে ছিল না। ভূ-অভ্যন্তরে সঞ্চিত বিপুল শক্তির এই বহিঃপ্রকাশ বড় কোনো ভূমিকম্পের আগাম সংকেত হতে পারে।" — রুবাইয়াৎ কবীর, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।

বিশেষজ্ঞ মত ও প্রস্তুতি

অধ্যাপক হুমায়ুন আখতারের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন ছোট ছোট কম্পনগুলোও শনাক্ত করা যাচ্ছে, যা আগে সম্ভব হতো না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বড় কোনো প্লেট বাউন্ডারি না থাকায় সেখানে বিশাল ভূমিকম্পের ঝুঁকি কম থাকলেও, সারা দেশে কম্পন বেড়ে যাওয়াটা বড় দুর্যোগের পূর্বাভাস দেয়।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতির যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ভবন নির্মাণে কোড মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর