রাজধানীর বনানী এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কমিটি দখল, চাঁদাবাজি, সরকারি খাল ও স্থাপনা দখলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বনানী থানা যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত মইনুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় একাধিক নেতাকর্মীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রনি বনানী থানা যুবদলের নেতৃত্বে আসেন। তাদের অভিযোগ, বনানী থানা বিএনপির আহ্বায়ক মনির বরখাস্ত হওয়ার পর দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদের দায়িত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও অদৃশ্য প্রভাবের মাধ্যমে নেতৃত্ব রনির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
এ ঘটনায় ত্যাগী ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র আহ্বায়ককে পাশ কাটিয়ে প্রভাব খাটিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর রনি সংগঠনের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও দলীয়ভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
কয়েকজন প্রবীণ কর্মীর ভাষ্য, “রাজনীতির দাবা খেলায় বারবার পরাজিত হচ্ছেন ত্যাগী কর্মীরা; নেতৃত্ব চলে যাচ্ছে প্রভাবশালীদের হাতে।”
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের আগে রনি ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ে সক্রিয় ছিলেন। যদিও এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো নথি পাওয়া যায়নি।
মহাখালী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, রনির ভাই জনি এলাকায় ‘ক্রস’ নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নারী সংক্রান্ত কেলেঙ্কারি এবং মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো আদালতের নথি বা সরকারি তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর রনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বনানী মহিলা দলের এক নেত্রীর দোকান ও বস্তি এলাকায় একটি সার্ভিসিং সেন্টার দখলের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া টি অ্যান্ড টি মাঠ সংলগ্ন দুটি গোডাউন ঘর দখলের অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা যুব মহিলা দলের কর্মী আসমা বেগম বলেন—
“দীর্ঘ ১৬ বছর জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছি। তবুও ভাগ্য বদলায়নি। এখন আমাদের পরিবারের দোকানও জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে।”
বনানীর পশ্চিমপাড়া এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে কিছু কর্মী-সমর্থকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংগঠিত চক্র সেখানে সক্রিয় এবং তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগাযোগ রয়েছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে মইনুল ইসলাম রনি, তার ভাই জনি ও সহযোগী লিটনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে বলে প্রতিবেদক জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলীয় নেতাদের মতামত জানার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাদের মতে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হলে দলীয় শৃঙ্খলা ও জনআস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর বনানী এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কমিটি দখল, চাঁদাবাজি, সরকারি খাল ও স্থাপনা দখলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বনানী থানা যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত মইনুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় একাধিক নেতাকর্মীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রনি বনানী থানা যুবদলের নেতৃত্বে আসেন। তাদের অভিযোগ, বনানী থানা বিএনপির আহ্বায়ক মনির বরখাস্ত হওয়ার পর দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদের দায়িত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও অদৃশ্য প্রভাবের মাধ্যমে নেতৃত্ব রনির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
এ ঘটনায় ত্যাগী ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র আহ্বায়ককে পাশ কাটিয়ে প্রভাব খাটিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর রনি সংগঠনের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও দলীয়ভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
কয়েকজন প্রবীণ কর্মীর ভাষ্য, “রাজনীতির দাবা খেলায় বারবার পরাজিত হচ্ছেন ত্যাগী কর্মীরা; নেতৃত্ব চলে যাচ্ছে প্রভাবশালীদের হাতে।”
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের আগে রনি ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ে সক্রিয় ছিলেন। যদিও এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো নথি পাওয়া যায়নি।
মহাখালী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, রনির ভাই জনি এলাকায় ‘ক্রস’ নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নারী সংক্রান্ত কেলেঙ্কারি এবং মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো আদালতের নথি বা সরকারি তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর রনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বনানী মহিলা দলের এক নেত্রীর দোকান ও বস্তি এলাকায় একটি সার্ভিসিং সেন্টার দখলের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া টি অ্যান্ড টি মাঠ সংলগ্ন দুটি গোডাউন ঘর দখলের অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা যুব মহিলা দলের কর্মী আসমা বেগম বলেন—
“দীর্ঘ ১৬ বছর জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছি। তবুও ভাগ্য বদলায়নি। এখন আমাদের পরিবারের দোকানও জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে।”
বনানীর পশ্চিমপাড়া এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে কিছু কর্মী-সমর্থকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংগঠিত চক্র সেখানে সক্রিয় এবং তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগাযোগ রয়েছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে মইনুল ইসলাম রনি, তার ভাই জনি ও সহযোগী লিটনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে বলে প্রতিবেদক জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলীয় নেতাদের মতামত জানার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাদের মতে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হলে দলীয় শৃঙ্খলা ও জনআস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন