দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে কেউ যেন বঞ্চিত না হয়: বিশেষ নির্দেশনা

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে কেউ যেন বঞ্চিত না হয়: বিশেষ নির্দেশনা

বগুড়া ও শেরপুর উপনির্বাচন ৯ এপ্রিল: তফসিল ঘোষণা আজ

অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায়ে ধস, ঘাটতির পাহাড় ৬০ হাজার কোটি।

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪: কুমিল্লার একই পরিবারের সদস্যদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এবার রাষ্ট্রপতির আরও বিস্ফোরক মন্তব্য; তোলপাড় রাজনৈতিক অঙ্গন

১২ মার্চ বেলা ১১টায় বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

"শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন: পছন্দের জনবল নিয়োগকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছে সরকার।

মালয়েশিয়ায় ৭.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প: জারি হতে পারে সুনামির সতর্কতা

এবার রাষ্ট্রপতির আরও বিস্ফোরক মন্তব্য; তোলপাড় রাজনৈতিক অঙ্গন

এবার রাষ্ট্রপতির আরও বিস্ফোরক মন্তব্য; তোলপাড় রাজনৈতিক অঙ্গন

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতির বিস্ফোরক তথ্য: ‘আমাকে প্রাসাদবন্দি করে রাখা হয়েছিল’

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে বঙ্গভবনের অন্দরমহলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর দেড় বছরের সময়কালকে 'শ্বাসরুদ্ধকর' ও 'গৃহবন্দি' দশা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি শেখ হাসিনার দেশত্যাগ, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর টানাপোড়েনের বিষয়ে অনেক অজানা ও বিস্ফোরক তথ্য শেয়ার করেছেন।

৫ আগস্টের সেই ৪০ মিনিট

রাষ্ট্রপতি জানান, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণবিস্ফোরণের মুখে শেখ হাসিনার বঙ্গভবনে আসার কথা ছিল। দুপুর ১২টার দিকে জানানো হয় তিনি আসছেন, কিন্তু মাত্র ৩০-৪০ মিনিটের ব্যবধানে দৃশ্যপট বদলে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টায় জানানো হয় তিনি আসছেন না এবং কিছুক্ষণ পরই খবর আসে তিনি দেশ ছেড়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, "ঘটনাপ্রবাহ এত দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছিল যে আমরা প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলাম।"

জরুরি অবস্থা জারির চাপ ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন একটি বড় তথ্য ফাঁস করে জানান, ওই সময় তাঁর ওপর জরুরি অবস্থা (Emergency) জারির জন্য বিভিন্ন মহল থেকে প্রচণ্ড চাপ ছিল। এমনকি একটি 'প্রতিবিপ্লব' ঘটানোর চেষ্টাও চলছিল। তবে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ তিন বাহিনী প্রধান এর ঘোর বিরোধী ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, "সেনাবাহিনী চাইলে মার্শাল ল দিতে পারত, কিন্তু তারা তা করেনি। সেনাপ্রধানের মধ্যে ক্ষমতার কোনো মোহ ছিল না, তিনি চেয়েছিলেন দ্রুত একটি সাংবিধানিক সমাধান।"

অন্তর্বর্তী সরকার ও সাংবিধানিক সুরক্ষা

সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকারের বিধান না থাকায় দেশে একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি নিজেই ৮ আগস্ট প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের মতামত চান। আপিল বিভাগ যখন মতামত দেয় যে রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে পারেন, তখনই তিনি আইনি 'রক্ষাকবচ' পান এবং সরকার গঠন করেন।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দূরত্ব ও মানসিক নিপীড়ন

রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলো হলো:

  • নামাজে বাধা: দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে তাঁকে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়তে যেতে দেওয়া হয়নি।

  • চিকিৎসায় বাধা: হার্টের সার্জারি পরবর্তী ফলোআপের জন্য সিঙ্গাপুর ও লন্ডনে যাওয়ার আবেদন করলেও সরকার তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।

  • সৌজন্যহীনতা: বঙ্গভবনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে প্রধান উপদেষ্টাকে দাওয়াত দেওয়া হলেও তিনি অংশ নেননি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, "আমাকে অপমানিত করা হয়েছে যাতে আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করি এবং তারা অসাংবিধানিকভাবে পছন্দের কাউকে বসাতে পারে।"

তারেক রহমান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি

সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন। তিনি বলেন, "উনার মধ্যে রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলি আছে। যেহেতু উনার শরীরে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত বইছে, তাই তিনি দেশের ভালো করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।"

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


এবার রাষ্ট্রপতির আরও বিস্ফোরক মন্তব্য; তোলপাড় রাজনৈতিক অঙ্গন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতির বিস্ফোরক তথ্য: ‘আমাকে প্রাসাদবন্দি করে রাখা হয়েছিল’

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে বঙ্গভবনের অন্দরমহলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর দেড় বছরের সময়কালকে 'শ্বাসরুদ্ধকর' ও 'গৃহবন্দি' দশা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি শেখ হাসিনার দেশত্যাগ, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর টানাপোড়েনের বিষয়ে অনেক অজানা ও বিস্ফোরক তথ্য শেয়ার করেছেন।

৫ আগস্টের সেই ৪০ মিনিট

রাষ্ট্রপতি জানান, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণবিস্ফোরণের মুখে শেখ হাসিনার বঙ্গভবনে আসার কথা ছিল। দুপুর ১২টার দিকে জানানো হয় তিনি আসছেন, কিন্তু মাত্র ৩০-৪০ মিনিটের ব্যবধানে দৃশ্যপট বদলে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টায় জানানো হয় তিনি আসছেন না এবং কিছুক্ষণ পরই খবর আসে তিনি দেশ ছেড়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, "ঘটনাপ্রবাহ এত দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছিল যে আমরা প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলাম।"

জরুরি অবস্থা জারির চাপ ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন একটি বড় তথ্য ফাঁস করে জানান, ওই সময় তাঁর ওপর জরুরি অবস্থা (Emergency) জারির জন্য বিভিন্ন মহল থেকে প্রচণ্ড চাপ ছিল। এমনকি একটি 'প্রতিবিপ্লব' ঘটানোর চেষ্টাও চলছিল। তবে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ তিন বাহিনী প্রধান এর ঘোর বিরোধী ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, "সেনাবাহিনী চাইলে মার্শাল ল দিতে পারত, কিন্তু তারা তা করেনি। সেনাপ্রধানের মধ্যে ক্ষমতার কোনো মোহ ছিল না, তিনি চেয়েছিলেন দ্রুত একটি সাংবিধানিক সমাধান।"

অন্তর্বর্তী সরকার ও সাংবিধানিক সুরক্ষা

সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকারের বিধান না থাকায় দেশে একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি নিজেই ৮ আগস্ট প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের মতামত চান। আপিল বিভাগ যখন মতামত দেয় যে রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে পারেন, তখনই তিনি আইনি 'রক্ষাকবচ' পান এবং সরকার গঠন করেন।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দূরত্ব ও মানসিক নিপীড়ন

রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলো হলো:

  • নামাজে বাধা: দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে তাঁকে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়তে যেতে দেওয়া হয়নি।

  • চিকিৎসায় বাধা: হার্টের সার্জারি পরবর্তী ফলোআপের জন্য সিঙ্গাপুর ও লন্ডনে যাওয়ার আবেদন করলেও সরকার তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।

  • সৌজন্যহীনতা: বঙ্গভবনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে প্রধান উপদেষ্টাকে দাওয়াত দেওয়া হলেও তিনি অংশ নেননি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, "আমাকে অপমানিত করা হয়েছে যাতে আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করি এবং তারা অসাংবিধানিকভাবে পছন্দের কাউকে বসাতে পারে।"

তারেক রহমান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি

সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন। তিনি বলেন, "উনার মধ্যে রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলি আছে। যেহেতু উনার শরীরে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত বইছে, তাই তিনি দেশের ভালো করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।"


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর