রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এই চাঞ্চল্যকর সাক্ষাৎকারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। এর বিষয়বস্তু বিবেচনা করে সংবাদ আকারে নিচে কয়েকটি বিকল্প শিরোনাম ও গুছিয়ে লেখা প্রতিবেদন দেওয়া হলো:
১. ‘দেড় বছর যেন প্রাসাদবন্দি ছিলাম’—বঙ্গভবনের রুদ্ধশ্বাস দিনগুলোর বর্ণনা দিলেন রাষ্ট্রপতি ২. অসাংবিধানিক উপায়ে আমাকে সরানোর ছক হয়েছিল: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ৩. প্রধান উপদেষ্টা কোনো সমন্বয় করেননি, আমাকে আড়ালে রাখার চেষ্টা হয়েছে: রাষ্ট্রপতি ৪. বিভীষিকাময় সেই রাত ও আমার একাকী লড়াই: মুখ খুললেন রাষ্ট্রপতি
বঙ্গভবনের দেড় বছর যেন এক প্রাসাদবন্দি দশা: চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দীর্ঘ দেড় বছর পর নিজের যাপিত ‘রুদ্ধকাল’ ও বঙ্গভবনের অন্দরমহলের নানা নাটকীয়তা নিয়ে মুখ খুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার রাতে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছর তাকে চরম প্রতিকূলতা, চক্রান্ত এবং একাকীত্বের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে। এমনকি অসাংবিধানিক উপায়ে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার একাধিক চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ষড়যন্ত্র ও অপসারণের চেষ্টা রাষ্ট্রপতি জানান, তাকে বঙ্গভবন থেকে ‘উপড়ে ফেলার’ জন্য বারবার পাঁয়তারা করা হয়েছে। বিশেষ করে গত বছরের ২২ অক্টোবর বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের রাতের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, "ওই রাতটা ছিল বিভীষিকাময়। গণভবনের মতো বঙ্গভবনও লুট করার চেষ্টা হয়েছিল।" তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে তাকে সরানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে তার পদে বসানোর চক্রান্ত করেছিল, যা সংশ্লিষ্ট বিচারপতির দৃঢ়তায় সফল হয়নি।
প্রধান উপদেষ্টার সাথে সমন্বয়হীনতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে তার দূরত্বের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, "প্রধান উপদেষ্টা একটিবারের জন্যও আমার কাছে আসেননি। এমনকি ১৪-১৫ বার বিদেশ সফরে গেলেও আমাকে কোনো কিছুই অবহিত করেননি, যা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার লঙ্ঘন।" তিনি আরও জানান, তার দুটি বিদেশ সফর আটকে দেওয়া হয়েছে এবং বিদেশের দূতাবাসগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে তাকে জনগণের কাছে 'অপ্রাসঙ্গিক' করার চেষ্টা চলেছে।
অসহযোগিতা ও প্রেস উইং বিলুপ্তি রাষ্ট্রপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার পুরো প্রেস উইং বাতিল করে তাকে কার্যত 'প্রতিবন্ধী' করে রাখা হয়েছিল। জাতীয় দিবসগুলোতে রাষ্ট্রপতির বাণী দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া এবং সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাতের কারণে কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাবিনেট সেক্রেটারি বা প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে ফোন করেও তিনি সহযোগিতা পাননি।
বিএনপি ও তিন বাহিনীর ভূমিকা দুঃসময়ে পাশে থাকার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, "কঠিন সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিলেন। বিশেষ করে তারেক রহমান ও বিএনপির সিনিয়র নেতারা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয়নি।" এছাড়া তিন বাহিনীর প্রধানরা তাকে সর্বোচ্চ মনোবল দিয়েছেন এবং অসাংবিধানিক কোনো কিছু হতে দেবেন না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি দৃঢ়চিত্তে বলেন, "রক্ত ঝরলেও আমি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে অবিচল ছিলাম। কোনো পরিস্থিতিতেই আমি ভেঙে পড়িনি।

মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এই চাঞ্চল্যকর সাক্ষাৎকারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। এর বিষয়বস্তু বিবেচনা করে সংবাদ আকারে নিচে কয়েকটি বিকল্প শিরোনাম ও গুছিয়ে লেখা প্রতিবেদন দেওয়া হলো:
১. ‘দেড় বছর যেন প্রাসাদবন্দি ছিলাম’—বঙ্গভবনের রুদ্ধশ্বাস দিনগুলোর বর্ণনা দিলেন রাষ্ট্রপতি ২. অসাংবিধানিক উপায়ে আমাকে সরানোর ছক হয়েছিল: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ৩. প্রধান উপদেষ্টা কোনো সমন্বয় করেননি, আমাকে আড়ালে রাখার চেষ্টা হয়েছে: রাষ্ট্রপতি ৪. বিভীষিকাময় সেই রাত ও আমার একাকী লড়াই: মুখ খুললেন রাষ্ট্রপতি
বঙ্গভবনের দেড় বছর যেন এক প্রাসাদবন্দি দশা: চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দীর্ঘ দেড় বছর পর নিজের যাপিত ‘রুদ্ধকাল’ ও বঙ্গভবনের অন্দরমহলের নানা নাটকীয়তা নিয়ে মুখ খুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার রাতে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছর তাকে চরম প্রতিকূলতা, চক্রান্ত এবং একাকীত্বের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে। এমনকি অসাংবিধানিক উপায়ে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার একাধিক চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ষড়যন্ত্র ও অপসারণের চেষ্টা রাষ্ট্রপতি জানান, তাকে বঙ্গভবন থেকে ‘উপড়ে ফেলার’ জন্য বারবার পাঁয়তারা করা হয়েছে। বিশেষ করে গত বছরের ২২ অক্টোবর বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের রাতের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, "ওই রাতটা ছিল বিভীষিকাময়। গণভবনের মতো বঙ্গভবনও লুট করার চেষ্টা হয়েছিল।" তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে তাকে সরানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে তার পদে বসানোর চক্রান্ত করেছিল, যা সংশ্লিষ্ট বিচারপতির দৃঢ়তায় সফল হয়নি।
প্রধান উপদেষ্টার সাথে সমন্বয়হীনতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে তার দূরত্বের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, "প্রধান উপদেষ্টা একটিবারের জন্যও আমার কাছে আসেননি। এমনকি ১৪-১৫ বার বিদেশ সফরে গেলেও আমাকে কোনো কিছুই অবহিত করেননি, যা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার লঙ্ঘন।" তিনি আরও জানান, তার দুটি বিদেশ সফর আটকে দেওয়া হয়েছে এবং বিদেশের দূতাবাসগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে তাকে জনগণের কাছে 'অপ্রাসঙ্গিক' করার চেষ্টা চলেছে।
অসহযোগিতা ও প্রেস উইং বিলুপ্তি রাষ্ট্রপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার পুরো প্রেস উইং বাতিল করে তাকে কার্যত 'প্রতিবন্ধী' করে রাখা হয়েছিল। জাতীয় দিবসগুলোতে রাষ্ট্রপতির বাণী দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া এবং সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাতের কারণে কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাবিনেট সেক্রেটারি বা প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে ফোন করেও তিনি সহযোগিতা পাননি।
বিএনপি ও তিন বাহিনীর ভূমিকা দুঃসময়ে পাশে থাকার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, "কঠিন সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিলেন। বিশেষ করে তারেক রহমান ও বিএনপির সিনিয়র নেতারা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয়নি।" এছাড়া তিন বাহিনীর প্রধানরা তাকে সর্বোচ্চ মনোবল দিয়েছেন এবং অসাংবিধানিক কোনো কিছু হতে দেবেন না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি দৃঢ়চিত্তে বলেন, "রক্ত ঝরলেও আমি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে অবিচল ছিলাম। কোনো পরিস্থিতিতেই আমি ভেঙে পড়িনি।

আপনার মতামত লিখুন