নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শপথ গ্রহণের মাত্র একদিন পরই রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। বুধবার বিকেল ৩টায় সচিবালয়ের এক নম্বর ভবনের সম্মেলন কক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি শুরু হয়।
নতুন সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নির্ধারণে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠক শুরুর আগে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে পৌঁছান। নিজ দপ্তরে অবস্থানকালে তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং প্রাথমিক প্রশাসনিক কর্মকৌশল নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন এই নতুন মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৫ জন প্রতিমন্ত্রী। এবারের মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর ‘নতুন মুখ’। প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৪১ জন সদস্যই এবার প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
অভিজ্ঞতার বিশ্লেষণে দেখা যায়:
নতুন নেতৃত্ব: পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে ১৬ জনই একেবারে নতুন।
অভিজ্ঞতার সমন্বয়: ৯ জন পূর্ণমন্ত্রী এর আগে বিএনপির বিভিন্ন সরকারের সময়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার এই মেলবন্ধন রাষ্ট্র পরিচালনায় গতিশীলতা আনবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনের আলোচনায় সরকারের অগ্রাধিকারমূলক খাতগুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে: ১. অর্থনীতি পুনর্গঠন: বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা ও স্থিতিশীলতা আনয়ন। ২. প্রশাসনিক সংস্কার: আমলাতন্ত্রে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। ৩. আইনশৃঙ্খলা: দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি। ৪. উন্নয়ন প্রকল্প: চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন।
নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসকে কেন্দ্র করে সচিবালয় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল নিছিদ্র। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কড়া নজরদারি বজায় রাখেন।
বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা শুরু করেন। মন্ত্রিসভার এই বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন সচিবদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা প্রশাসনিক সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শপথের পরদিনই মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বানকে সরকারের ‘দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ’ ও ‘কার্যকর প্রশাসনিক তৎপরতার’ ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই মন্ত্রিসভা আগামী পাঁচ বছর দেশের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রথম দিনের এই তৎপরতা দেশবাসীকে একটি সক্রিয় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকারের বার্তা দিয়েছে।

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শপথ গ্রহণের মাত্র একদিন পরই রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। বুধবার বিকেল ৩টায় সচিবালয়ের এক নম্বর ভবনের সম্মেলন কক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি শুরু হয়।
নতুন সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নির্ধারণে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠক শুরুর আগে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে পৌঁছান। নিজ দপ্তরে অবস্থানকালে তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং প্রাথমিক প্রশাসনিক কর্মকৌশল নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন এই নতুন মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৫ জন প্রতিমন্ত্রী। এবারের মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর ‘নতুন মুখ’। প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৪১ জন সদস্যই এবার প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
অভিজ্ঞতার বিশ্লেষণে দেখা যায়:
নতুন নেতৃত্ব: পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে ১৬ জনই একেবারে নতুন।
অভিজ্ঞতার সমন্বয়: ৯ জন পূর্ণমন্ত্রী এর আগে বিএনপির বিভিন্ন সরকারের সময়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার এই মেলবন্ধন রাষ্ট্র পরিচালনায় গতিশীলতা আনবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনের আলোচনায় সরকারের অগ্রাধিকারমূলক খাতগুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে: ১. অর্থনীতি পুনর্গঠন: বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা ও স্থিতিশীলতা আনয়ন। ২. প্রশাসনিক সংস্কার: আমলাতন্ত্রে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। ৩. আইনশৃঙ্খলা: দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি। ৪. উন্নয়ন প্রকল্প: চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন।
নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসকে কেন্দ্র করে সচিবালয় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল নিছিদ্র। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কড়া নজরদারি বজায় রাখেন।
বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা শুরু করেন। মন্ত্রিসভার এই বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন সচিবদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা প্রশাসনিক সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শপথের পরদিনই মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বানকে সরকারের ‘দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ’ ও ‘কার্যকর প্রশাসনিক তৎপরতার’ ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই মন্ত্রিসভা আগামী পাঁচ বছর দেশের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রথম দিনের এই তৎপরতা দেশবাসীকে একটি সক্রিয় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকারের বার্তা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন