দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

“কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে ৫১৭ কোটি টাকার ভর্তুকি লোপাট: অভিযুক্তদের বাঁচাতে ‘প্রকল্প বন্ধের চক্রান্ত’!”

“কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে ৫১৭ কোটি টাকার ভর্তুকি লোপাট: অভিযুক্তদের বাঁচাতে ‘প্রকল্প বন্ধের চক্রান্ত’!”

“মাত্র ৩০০ টাকার যন্ত্রেই বাঁচবে শিশুদের প্রাণ! হামজনিত নিউমোনিয়ায় মৃত্যুহার কমাবে বাবল সিপ্যাপ”

চুক্তি হলেও সরছে না মার্কিন বাহিনী! ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের কড়া বার্তা—শর্ত ভাঙলেই বড় হামলার হুঁশিয়ারি

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ঐতিহাসিক রায়: ২ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কড়া বার্তা”

ভারতে ধরা দুই খুনি দেশে ফিরছে! ওসমান হাদি হত্যা মামলায় বড় অগ্রগতি, দিল্লি বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

“প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে বিভ্রান্তি: ভারত সফরের খবর সম্পূর্ণ গুজব, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান”

“আবু সাঈদ হত্যা: বেরোবির দুই শিক্ষক ও ছাত্রলীগ সভাপতির ১০ বছর কারাদণ্ড — ঐতিহাসিক রায়ে নাড়িয়ে দিল দেশ”

“আবু সাঈদ হত্যা মামলায় নজিরবিহীন রায়: দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, ২৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড”

টিএনটি-বিটিসিএল কলোনিতে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ গ্যাস বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

টিএনটি-বিটিসিএল কলোনিতে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ গ্যাস বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

গুলশান-বনানী-টিএন্ডটি-কড়াইল বস্তিতে চাঁদাবাজির দাপট: ক্ষমতা বদলেছে, দখলদার বদলায়নি

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, টিএন্ডটি কলোনি এবং কড়াইল বস্তি—এই পুরো অঞ্চলে গত ১৬ বছর ধরে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে আসছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের নেতাকর্মীরা। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে তারা মার্কেট বসিয়ে চাঁদাবাজি, ঘর দখল, ঘর কেনাবেচায় কমিশন বাণিজ্য, অবৈধ গ্যাস সংযোগ, পানি ও বিদ্যুৎ খাতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।


সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ ভেবেছিল এই দৌরাত্ম্যের অবসান হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা এলাকা ছেড়ে গেলেও চাঁদাবাজি, গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ বাণিজ্যের শিকল এখনো অটুট। বরং অভিযোগ উঠেছে—আগের মতোই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এসব সেবা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বস্তিবাসী।

স্থানীয় সূত্র বলছে, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখতে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে কেউ কেউ রাজনৈতিক ‘খোলস’ বদলেছেন। একসময় এক দলের ছত্রছায়ায় থাকা কিছু ব্যক্তি এখন নতুন পরিচয়ে সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগেই তারা আবারও নিজেদের প্রভাব জাহির করছেন।


সরকারি চাকরি, কিন্তু বাণিজ্যে দাপট!অভিযোগের তীর এখন বিটিসিএল-এর এক সরকারি কর্মচারী মোঃ ইমান আলীর দিকে। তিনি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড-এর কর্মকর্তা হয়েও এলাকায় গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিটিসিএল কলোনির পূর্বপাড়ায় নতুন বা পুরাতন যেকোনো ঘর নির্মাণ, সংস্কার কিংবা বিক্রি করতে হলে ‘হাদিয়া’ নামে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগ আছে, সরকারি কর্মচারী হয়েও তিনি নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। যদিও দলের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে আছেন—এমন তথ্য মেলেনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, পদ না থাকলেও চাঁদাবাজির দৌড়ে তিনি এগিয়ে।


অবৈধ গ্যারেজ ও সংযোগ বাণিজ্য

আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জায়গায় একাধিক গ্যারেজ গড়ে তুলে সেখানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে অটো গাড়ি চার্জ করানো হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিটিসিএল-এর কর্মকর্তাদের ‘নাকের ডগায়’ এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

অবৈধ গ্যাস সংযোগে ঝুঁকির মুখে জনজীবন

নীয় সূত্র জানায়, চিকন পাইপ দিয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের চুরি হচ্ছে, অন্যদিকে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। নিয়ম-শৃঙ্খলা উপেক্ষা করে গ্যাসের অবাধ ব্যবহার থেকে যে কোনো সময় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। অতীতে এমন ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলেও কার্যকর বিচার হয়নি—এমন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও যদি কেউ প্রকাশ্যে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তবে তা শুধু ব্যক্তি নয়—পুরো ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। স্থানীয়দের সরাসরি প্রশ্ন—

ইমান আলী কি আইনের ঊর্ধ্বে?

কেন তার বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

কেন ক্ষমতা বদলালেও বস্তিবাসীর ভাগ্য বদলায় না?

গোপন সূত্রে স্থানীয় এক রাজনৈতিক কর্মী জানিয়েছেন, ক্ষমতার পালাবদল হলেও ‘চাঁদার সিস্টেম’ একই আছে—শুধু সাইনবোর্ড বদলেছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে যদি অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি, গ্যাস-বিদ্যুৎ বাণিজ্য চলতেই থাকে, তবে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার কোথায়? সরকারি কর্মকর্তা হয়েও যদি কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, তবে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নইলে প্রশ্ন থেকেই যাবে— আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি প্রভাবশালীদের জন্য আলাদা?


সূত্র: অপরাধ বিচিত্রা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬


টিএনটি-বিটিসিএল কলোনিতে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ গ্যাস বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

গুলশান-বনানী-টিএন্ডটি-কড়াইল বস্তিতে চাঁদাবাজির দাপট: ক্ষমতা বদলেছে, দখলদার বদলায়নি

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, টিএন্ডটি কলোনি এবং কড়াইল বস্তি—এই পুরো অঞ্চলে গত ১৬ বছর ধরে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে আসছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের নেতাকর্মীরা। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে তারা মার্কেট বসিয়ে চাঁদাবাজি, ঘর দখল, ঘর কেনাবেচায় কমিশন বাণিজ্য, অবৈধ গ্যাস সংযোগ, পানি ও বিদ্যুৎ খাতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।


সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ ভেবেছিল এই দৌরাত্ম্যের অবসান হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা এলাকা ছেড়ে গেলেও চাঁদাবাজি, গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ বাণিজ্যের শিকল এখনো অটুট। বরং অভিযোগ উঠেছে—আগের মতোই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এসব সেবা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বস্তিবাসী।

স্থানীয় সূত্র বলছে, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখতে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে কেউ কেউ রাজনৈতিক ‘খোলস’ বদলেছেন। একসময় এক দলের ছত্রছায়ায় থাকা কিছু ব্যক্তি এখন নতুন পরিচয়ে সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগেই তারা আবারও নিজেদের প্রভাব জাহির করছেন।


সরকারি চাকরি, কিন্তু বাণিজ্যে দাপট!অভিযোগের তীর এখন বিটিসিএল-এর এক সরকারি কর্মচারী মোঃ ইমান আলীর দিকে। তিনি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড-এর কর্মকর্তা হয়েও এলাকায় গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিটিসিএল কলোনির পূর্বপাড়ায় নতুন বা পুরাতন যেকোনো ঘর নির্মাণ, সংস্কার কিংবা বিক্রি করতে হলে ‘হাদিয়া’ নামে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগ আছে, সরকারি কর্মচারী হয়েও তিনি নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। যদিও দলের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে আছেন—এমন তথ্য মেলেনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, পদ না থাকলেও চাঁদাবাজির দৌড়ে তিনি এগিয়ে।


অবৈধ গ্যারেজ ও সংযোগ বাণিজ্য

আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জায়গায় একাধিক গ্যারেজ গড়ে তুলে সেখানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে অটো গাড়ি চার্জ করানো হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিটিসিএল-এর কর্মকর্তাদের ‘নাকের ডগায়’ এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

অবৈধ গ্যাস সংযোগে ঝুঁকির মুখে জনজীবন

নীয় সূত্র জানায়, চিকন পাইপ দিয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের চুরি হচ্ছে, অন্যদিকে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। নিয়ম-শৃঙ্খলা উপেক্ষা করে গ্যাসের অবাধ ব্যবহার থেকে যে কোনো সময় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। অতীতে এমন ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলেও কার্যকর বিচার হয়নি—এমন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও যদি কেউ প্রকাশ্যে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তবে তা শুধু ব্যক্তি নয়—পুরো ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। স্থানীয়দের সরাসরি প্রশ্ন—

ইমান আলী কি আইনের ঊর্ধ্বে?

কেন তার বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

কেন ক্ষমতা বদলালেও বস্তিবাসীর ভাগ্য বদলায় না?

গোপন সূত্রে স্থানীয় এক রাজনৈতিক কর্মী জানিয়েছেন, ক্ষমতার পালাবদল হলেও ‘চাঁদার সিস্টেম’ একই আছে—শুধু সাইনবোর্ড বদলেছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে যদি অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি, গ্যাস-বিদ্যুৎ বাণিজ্য চলতেই থাকে, তবে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার কোথায়? সরকারি কর্মকর্তা হয়েও যদি কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, তবে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নইলে প্রশ্ন থেকেই যাবে— আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি প্রভাবশালীদের জন্য আলাদা?


সূত্র: অপরাধ বিচিত্রা


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর