ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২৯৭টি সংসদীয় আসনের ফলাফল প্রকাশ করেছে। একটি আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে এবং আরও দুটি আসনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে।
ইসি ঘোষিত ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫১টি দলের মধ্যে ৪২টি দল কোনো আসনেই জয়লাভ করতে পারেনি। ফলে এবারের নির্বাচনে মাত্র ৯টি রাজনৈতিক দল এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পেয়েছে ২০৯টি আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জয়ী হয়েছে ৬৮টি আসনে। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন। এ দলগুলো ১১ দলীয় জোটের শরিক।
এ ছাড়া একটি করে আসন পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস। এছাড়া ৭টি আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় দলকেন্দ্রিক মেরুকরণ, জোটভিত্তিক নির্বাচন এবং কৌশলগত ভোটিংয়ের কারণে ছোট ও নতুন রাজনৈতিক দলগুলো প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। অনেক দল শতাধিক আসনে প্রার্থী দিলেও শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, মোট প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল দলীয় ৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ২০ জন। পুরুষ প্রার্থীর মধ্যে দলীয় ১ হাজার ৬৯২ জন এবং স্বতন্ত্র ২৫৩ জন।
যেসব দল কোনো আসনে জয় পায়নি:
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামী ফ্রন্ট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বিএমএল, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ কংগ্রেস, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জনতার দল, আমজনতার দল, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন বড় দুই দল ও জোটকেন্দ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ছোট দলগুলোর জন্য এটি হয়ে থাকল হতাশার এক অধ্যায়।

মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২৯৭টি সংসদীয় আসনের ফলাফল প্রকাশ করেছে। একটি আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে এবং আরও দুটি আসনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে।
ইসি ঘোষিত ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫১টি দলের মধ্যে ৪২টি দল কোনো আসনেই জয়লাভ করতে পারেনি। ফলে এবারের নির্বাচনে মাত্র ৯টি রাজনৈতিক দল এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পেয়েছে ২০৯টি আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জয়ী হয়েছে ৬৮টি আসনে। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন। এ দলগুলো ১১ দলীয় জোটের শরিক।
এ ছাড়া একটি করে আসন পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস। এছাড়া ৭টি আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় দলকেন্দ্রিক মেরুকরণ, জোটভিত্তিক নির্বাচন এবং কৌশলগত ভোটিংয়ের কারণে ছোট ও নতুন রাজনৈতিক দলগুলো প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। অনেক দল শতাধিক আসনে প্রার্থী দিলেও শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, মোট প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল দলীয় ৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ২০ জন। পুরুষ প্রার্থীর মধ্যে দলীয় ১ হাজার ৬৯২ জন এবং স্বতন্ত্র ২৫৩ জন।
যেসব দল কোনো আসনে জয় পায়নি:
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামী ফ্রন্ট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বিএমএল, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ কংগ্রেস, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জনতার দল, আমজনতার দল, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন বড় দুই দল ও জোটকেন্দ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ছোট দলগুলোর জন্য এটি হয়ে থাকল হতাশার এক অধ্যায়।

আপনার মতামত লিখুন