দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

“কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে ৫১৭ কোটি টাকার ভর্তুকি লোপাট: অভিযুক্তদের বাঁচাতে ‘প্রকল্প বন্ধের চক্রান্ত’!”

“কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে ৫১৭ কোটি টাকার ভর্তুকি লোপাট: অভিযুক্তদের বাঁচাতে ‘প্রকল্প বন্ধের চক্রান্ত’!”

“মাত্র ৩০০ টাকার যন্ত্রেই বাঁচবে শিশুদের প্রাণ! হামজনিত নিউমোনিয়ায় মৃত্যুহার কমাবে বাবল সিপ্যাপ”

চুক্তি হলেও সরছে না মার্কিন বাহিনী! ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের কড়া বার্তা—শর্ত ভাঙলেই বড় হামলার হুঁশিয়ারি

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ঐতিহাসিক রায়: ২ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কড়া বার্তা”

ভারতে ধরা দুই খুনি দেশে ফিরছে! ওসমান হাদি হত্যা মামলায় বড় অগ্রগতি, দিল্লি বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

“প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে বিভ্রান্তি: ভারত সফরের খবর সম্পূর্ণ গুজব, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান”

“আবু সাঈদ হত্যা: বেরোবির দুই শিক্ষক ও ছাত্রলীগ সভাপতির ১০ বছর কারাদণ্ড — ঐতিহাসিক রায়ে নাড়িয়ে দিল দেশ”

“আবু সাঈদ হত্যা মামলায় নজিরবিহীন রায়: দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, ২৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড”

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যা

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যা

পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সংকট ও মানসিক চাপই প্রধান কারণ

দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যার ঘটনা। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে আত্মহত্যা করেছেন ১৩ হাজার ৪৯১ জন। গড়ে প্রতিদিন আত্মহত্যার সংখ্যা ৪১ জন। ডিসেম্বর মাসের পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশ হয়নি।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অর্থায়নে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) পরিচালিত জাতীয় জরিপে দেখা যায়, ২০২৩ সালে দেশে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫০৫ জন। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আত্মহত্যা করেন ১৩ হাজার ৯২০ জন।

পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপে বাড়ছে আত্মহননের প্রবণতা

সম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন—এমন ১০টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে দৈনিক সমকাল। স্বজনদের ভাষ্যমতে, আত্মহত্যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সংকট, আর্থিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক চাপ ও দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা চিকিৎসকের সহায়তা নেননি।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা

গত সোমবার গাজীপুরের পুবাইলে রেলক্রসিংয়ে দুই সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন গৃহবধূ হাফেজা খাতুন মালা (৩৫)।
এর আগে ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর বড় মগবাজারে স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে আত্মহত্যা করেন শম্পা আক্তার রিভা (২৬)। একই দুই দিনে রাজধানীতে অন্তত ছয়জন আত্মহত্যা করেন।

আত্মহত্যার আগে স্বামী সুমনের মোবাইলে পাঠানো এক ভয়েস মেসেজে শম্পা বলেন,
“আজ আমার কোনো দোষ ছিল না। তুমি আমাকে চিৎকার করে কথা বলেছ। আমি তোমার কাছে আশ্রয় নিতে এসেছিলাম, অথচ তুমি সবাইকে আমার নামে কথা বলছো…”

বিষণ্নতা ও সম্পর্ক ভাঙনের চাপ

গত শনিবার খিলগাঁওয়ে আত্মহত্যা করেন ব্যাংক কর্মকর্তা শাহানুর রহমান (৪৪)। পরিবারের ভাষ্যমতে, স্ত্রী সঙ্গে বিচ্ছেদ ও আর্থিক চাপের কারণে তিনি দীর্ঘদিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

এছাড়া ১৭ জানুয়ারি মিরপুরে আত্মহত্যা করেন কলেজছাত্রী সানজিদা ইসলাম মিম (১৯)। পরিবার জানায়, দীর্ঘদিনের প্রেমিকের প্রতারণা ও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াই ছিল আত্মহত্যার কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মত

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন,

“মানুষ সাধারণত একটি কারণে আত্মহত্যা করে না। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, পারিবারিক সংকট ও ব্যক্তিত্বগত বৈশিষ্ট্য মিলেই আত্মহননের প্রবণতা তৈরি করে। সময়মতো চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং পেলে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন,

“রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষকে একাকী করে তোলে। এ অবস্থায় দুর্বল মানসিকতার মানুষ আত্মহত্যাকে মুক্তি হিসেবে দেখে।”

প্রতিরোধে যা বলছে পুলিশ

পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, আত্মহত্যা প্রতিরোধে—

  • পারিবারিক বিরোধে দ্রুত হস্তক্ষেপ

  • মানসিক স্বাস্থ্য সেবা জোরদার

  • কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম বাড়ানো

  • সচেতনতামূলক প্রচার

  • জরুরি অবস্থায় ৯৯৯–এ দ্রুত সহায়তা

এই পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যা কোনো একক সমস্যার ফল নয়। এটি সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিক সংকটের সমন্বিত ফলাফল। সময়মতো সহানুভূতি, চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে বহু প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬


দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সংকট ও মানসিক চাপই প্রধান কারণ

দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যার ঘটনা। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে আত্মহত্যা করেছেন ১৩ হাজার ৪৯১ জন। গড়ে প্রতিদিন আত্মহত্যার সংখ্যা ৪১ জন। ডিসেম্বর মাসের পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশ হয়নি।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অর্থায়নে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) পরিচালিত জাতীয় জরিপে দেখা যায়, ২০২৩ সালে দেশে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫০৫ জন। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আত্মহত্যা করেন ১৩ হাজার ৯২০ জন।

পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপে বাড়ছে আত্মহননের প্রবণতা

সম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন—এমন ১০টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে দৈনিক সমকাল। স্বজনদের ভাষ্যমতে, আত্মহত্যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সংকট, আর্থিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক চাপ ও দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা চিকিৎসকের সহায়তা নেননি।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা

গত সোমবার গাজীপুরের পুবাইলে রেলক্রসিংয়ে দুই সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন গৃহবধূ হাফেজা খাতুন মালা (৩৫)।
এর আগে ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর বড় মগবাজারে স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে আত্মহত্যা করেন শম্পা আক্তার রিভা (২৬)। একই দুই দিনে রাজধানীতে অন্তত ছয়জন আত্মহত্যা করেন।

আত্মহত্যার আগে স্বামী সুমনের মোবাইলে পাঠানো এক ভয়েস মেসেজে শম্পা বলেন,
“আজ আমার কোনো দোষ ছিল না। তুমি আমাকে চিৎকার করে কথা বলেছ। আমি তোমার কাছে আশ্রয় নিতে এসেছিলাম, অথচ তুমি সবাইকে আমার নামে কথা বলছো…”

বিষণ্নতা ও সম্পর্ক ভাঙনের চাপ

গত শনিবার খিলগাঁওয়ে আত্মহত্যা করেন ব্যাংক কর্মকর্তা শাহানুর রহমান (৪৪)। পরিবারের ভাষ্যমতে, স্ত্রী সঙ্গে বিচ্ছেদ ও আর্থিক চাপের কারণে তিনি দীর্ঘদিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

এছাড়া ১৭ জানুয়ারি মিরপুরে আত্মহত্যা করেন কলেজছাত্রী সানজিদা ইসলাম মিম (১৯)। পরিবার জানায়, দীর্ঘদিনের প্রেমিকের প্রতারণা ও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াই ছিল আত্মহত্যার কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মত

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন,

“মানুষ সাধারণত একটি কারণে আত্মহত্যা করে না। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, পারিবারিক সংকট ও ব্যক্তিত্বগত বৈশিষ্ট্য মিলেই আত্মহননের প্রবণতা তৈরি করে। সময়মতো চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং পেলে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন,

“রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষকে একাকী করে তোলে। এ অবস্থায় দুর্বল মানসিকতার মানুষ আত্মহত্যাকে মুক্তি হিসেবে দেখে।”

প্রতিরোধে যা বলছে পুলিশ

পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, আত্মহত্যা প্রতিরোধে—

  • পারিবারিক বিরোধে দ্রুত হস্তক্ষেপ

  • মানসিক স্বাস্থ্য সেবা জোরদার

  • কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম বাড়ানো

  • সচেতনতামূলক প্রচার

  • জরুরি অবস্থায় ৯৯৯–এ দ্রুত সহায়তা

এই পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যা কোনো একক সমস্যার ফল নয়। এটি সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিক সংকটের সমন্বিত ফলাফল। সময়মতো সহানুভূতি, চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে বহু প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর