বিআইডিএসের গবেষণা অনুযায়ী, সার্বিকভাবে শিক্ষিতদের মধ্যে ৩৩ শতাংশের বেশি বেকার। আর এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে যারা প্রথম শ্রেণি পেয়েছে, তাদের মধ্যে বেকারত্ব ১৯ থেকে সাড়ে ৩৪ শতাংশ। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রথম শ্রেণিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশই বেকার। স্নাতক পর্যায়ে এমন মেধাবীদের বেকারত্বের হার প্রায় ২৮ শতাংশ।প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে চাকরি পাওয়ার জন্য যখন মানুষ দিশাহারা, বেকার নারী-পুরুষ চাকরির আশায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক এটাকেই পুঁজি করছে একশ্রেণির প্রতারকচক্র যা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার জন্ম দিচ্ছে। প্রতারকরা চাকরি প্রত্যাশীদের বিপদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারক চক্র নানা কৌশল অবলম্বন করে থাকে। কখনো ব্যক্তিগতভাবে তারা চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, কখনো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালায়। চাকরি দেওয়ার বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করতে তারা কিছুদিনের জন্য অভিজাত এলাকায় জৌলুশপূর্ণ অফিস ভাড়া নেয়, বিশ্বস্ত লোকজন নিয়োগ করে বেকার যুবকদের ফাঁদে ফেলতে চেষ্টা করে। এরপর চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সেখান থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে তারা অন্যখানে চলে যায়।ইদানীং বেসরকারি চাকরি পেতে গিয়েও কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হচ্ছে কর্মহীন এ জনগোষ্ঠী। বেকারদের কেন্দ্র করে নগরীতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রতারক চক্র। এরা বিভিন্নভাবে বেকার জনগোষ্ঠীকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে।চাকুরির কথা বলে,তাদের নাম মাত্র অফিসে ডেকে তাদের সব কিছু লুঠে নিচ্ছে।
এমন কি প্রতারণার ফাদে ফেলে,হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা।শুধু তাই নয়,মেয়েদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে,তার ভিডিও আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দিচ্ছে।পরে মেয়েরা নানা রকম ব্লাকমেইলের শিখার হয়ে আত্নহত্যার পথ ও চেছে নিচ্ছে।ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তার পাশে, দেয়ালে, বাসে লোভনীয় চাকরির বিজ্ঞপ্তির পোস্টার সেঁটে অথবা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতারকচক্র আকৃষ্ট করছে বেকার তরুণ-তরুণীদের। প্রতারকচক্রের প্রধান টার্গেট বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকরির কথা বলে তাদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। এরপর নানা কৌশলে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংক, বীমা, এমএলএম কোম্পানি, বিপণন কোম্পানি, মার্কেটিং কোম্পানির নামে বেশি প্রতারণা করা হচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বাসে, জনসমাগম হয় এমন স্থানে চাকরির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়।
এতে পার্ট টাইম এবং ফুল টাইম চাকরির নামে ছাত্রছাত্রীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হয়। এসব প্রতারক চক্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে। তারা নিজেদের বিএনপির বড় নেতা,সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা, দুদক কর্মকর্তা, টিভি চ্যানেলের মালিক ও ম্যাজিস্ট্রেট বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। তাই প্রতারকচক্রগুলোকে রুখে দেয়ার প্রচেষ্টা আমাদের চালাতেই হবে। চাকরি দেয়ার নামে যারা নানা কথা বলে তাদের ব্যাপারেও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। মনে রাখা দরকার, প্রতারকদের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে যথাযথ সচেতনতাও জরুরি। দুষ্ট লোকের মিষ্টি কথায় না ভুলে বাস্তবতা এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে চাকরি প্রত্যাশীদের সতর্ক থাকতে হবে।যদি কখনো এমন কিছুর স্বীকার হয়ে থাকে,সাথে সাথে পুলিশকে জানাতে হবে।
বিভিন্ন কায়দায় তাদের ধরতে সাহায্য করতে হবে।পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপানোর আগে নূন্যতম যাচাই করা প্রয়োজন। তাহলে প্রতারকরা আর সাধারণ মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারবে না। ভাল পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে মানুষ আশ্বস্থ হয়। মোট কথা তাদের কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে।
রুপের মায়াজালে ফাঁসিয়ে শিলার অর্থ বাণিজ্য তদন্ত চলমান থাকবে।
সূত্র: অপরাধ বিচিত্রা
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬
আপনার মতামত লিখুন