যশোর-নড়াইল মহাসড়কে বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একটি প্রাইভেট কারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল স্বর্ণগুলো। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ, প্রাইভেট কার, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ মিলিয়ে জব্দকৃত মালামালের মোট মূল্য প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা।
ভোরের অভিযানে মিলল স্বর্ণের চালান
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল যশোর-নড়াইল মহাসড়কের নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে গাড়ির হেডরেস্টের ভেতরে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ২৬টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ৩ কেজি ৪৮ গ্রাম।
আটক তিনজনের পরিচয়
অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—
শার্শা উপজেলার রাজনগর গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে রনি (৩৬)
চৌগাছা উপজেলার উত্তর কয়েরপাড়া গ্রামের ইসহাকের ছেলে আব্দুল গনি (৫৪)
যশোর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের ইব্রাহিম সরদারের ছেলে ইসরাইল (৪৬)
বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, স্বর্ণের বারগুলো ঢাকা থেকে যশোর হয়ে সীমান্ত পথে ভারতে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল।
কীভাবে লুকানো হয়েছিল স্বর্ণ
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাইভেট কারটির ভেতরে খুবই কৌশলে স্বর্ণের বারগুলো রাখা হয়েছিল যাতে সাধারণ তল্লাশিতে সহজে ধরা না পড়ে।
গাড়ির হেডরেস্ট খুলে ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি করা গোপন স্থানে স্বর্ণগুলো রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেছে বিজিবি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে চোরাচালানের চেষ্টা নতুন নয়, তবে এত বড় চালান উদ্ধারের ঘটনা এলাকায় নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
জব্দ মালামালের মূল্য কত
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী—
উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য: ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৪০ টাকা
জব্দ প্রাইভেট কারের মূল্য: ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা
পাঁচটি মোবাইল ফোনের মূল্য: ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা
নগদ টাকা: ৭ হাজার ৩২৭ টাকা
সব মিলিয়ে জব্দকৃত মালামালের মোট সিজার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার ৮৬৭ টাকা।
সীমান্তে বাড়ছে স্বর্ণ পাচারের ঝুঁকি
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তপথ ব্যবহার করে স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা বেড়েছে বলে বিভিন্ন সংস্থার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষ করে যশোর ও আশপাশের সীমান্ত এলাকাগুলোকে ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা।
তবে এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিরা কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিজিবির বক্তব্য
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, “কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের চোরাচালান রোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “এরই ধারাবাহিকতায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বর্ণসহ পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
মামলা ও পরবর্তী ব্যবস্থা
বিজিবি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মাধ্যমে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের উৎস, সম্ভাব্য গন্তব্য এবং এর পেছনে বড় কোনো চক্র জড়িত আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ব্যালান্সড রিপোর্টিং
অভিযোগের বিষয়ে আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উপসংহার
যশোরে বিজিবির এই অভিযান আবারও সীমান্তপথে স্বর্ণ পাচারের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান নয়, পাচারচক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা গেলে এ ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
যশোর-নড়াইল মহাসড়কে বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একটি প্রাইভেট কারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল স্বর্ণগুলো। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ, প্রাইভেট কার, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ মিলিয়ে জব্দকৃত মালামালের মোট মূল্য প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা।
ভোরের অভিযানে মিলল স্বর্ণের চালান
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল যশোর-নড়াইল মহাসড়কের নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে গাড়ির হেডরেস্টের ভেতরে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ২৬টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ৩ কেজি ৪৮ গ্রাম।
আটক তিনজনের পরিচয়
অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—
শার্শা উপজেলার রাজনগর গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে রনি (৩৬)
চৌগাছা উপজেলার উত্তর কয়েরপাড়া গ্রামের ইসহাকের ছেলে আব্দুল গনি (৫৪)
যশোর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের ইব্রাহিম সরদারের ছেলে ইসরাইল (৪৬)
বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, স্বর্ণের বারগুলো ঢাকা থেকে যশোর হয়ে সীমান্ত পথে ভারতে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল।
কীভাবে লুকানো হয়েছিল স্বর্ণ
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাইভেট কারটির ভেতরে খুবই কৌশলে স্বর্ণের বারগুলো রাখা হয়েছিল যাতে সাধারণ তল্লাশিতে সহজে ধরা না পড়ে।
গাড়ির হেডরেস্ট খুলে ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি করা গোপন স্থানে স্বর্ণগুলো রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেছে বিজিবি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে চোরাচালানের চেষ্টা নতুন নয়, তবে এত বড় চালান উদ্ধারের ঘটনা এলাকায় নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
জব্দ মালামালের মূল্য কত
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী—
উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য: ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৪০ টাকা
জব্দ প্রাইভেট কারের মূল্য: ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা
পাঁচটি মোবাইল ফোনের মূল্য: ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা
নগদ টাকা: ৭ হাজার ৩২৭ টাকা
সব মিলিয়ে জব্দকৃত মালামালের মোট সিজার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার ৮৬৭ টাকা।
সীমান্তে বাড়ছে স্বর্ণ পাচারের ঝুঁকি
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তপথ ব্যবহার করে স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা বেড়েছে বলে বিভিন্ন সংস্থার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষ করে যশোর ও আশপাশের সীমান্ত এলাকাগুলোকে ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা।
তবে এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিরা কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিজিবির বক্তব্য
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, “কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের চোরাচালান রোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “এরই ধারাবাহিকতায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বর্ণসহ পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
মামলা ও পরবর্তী ব্যবস্থা
বিজিবি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মাধ্যমে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের উৎস, সম্ভাব্য গন্তব্য এবং এর পেছনে বড় কোনো চক্র জড়িত আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ব্যালান্সড রিপোর্টিং
অভিযোগের বিষয়ে আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উপসংহার
যশোরে বিজিবির এই অভিযান আবারও সীমান্তপথে স্বর্ণ পাচারের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান নয়, পাচারচক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা গেলে এ ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন