ভোরের নির্জনতা ভেঙে হঠাৎই বিকট শব্দ। মুহূর্তের মধ্যেই থমকে যায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের যানচলাচল। টাঙ্গাইলের রাবনা এলাকায় ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন, আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
সোমবার (৪ মে) ভোর আনুমানিক সোয়া ৫টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সেতুমুখী একটি ট্রাক রাবনা ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি পিকআপ ভ্যানকে অতিক্রম করার চেষ্টা করে। এ সময় দুটি যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফ জানিয়েছেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওভারটেক করতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।”
দুর্ঘটনার সময় আশপাশে থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভোরের দিকে মহাসড়কে যানবাহন তুলনামূলক কম থাকলেও কিছু গাড়ি দ্রুতগতিতে চলছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“হঠাৎ জোরে ধাক্কার শব্দ শুনে বাইরে বের হই। দেখি দুইটা গাড়ি একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। কয়েকজন মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। আমরা দ্রুত উদ্ধার কাজে নামি।”
আরেকজন বলেন,
“এখানে প্রায়ই দ্রুতগতির কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটে। ফ্লাইওভারের ওপর গাড়ি চালানোর সময় অনেকেই নিয়ম মানে না।”
দুর্ঘটনায় আহত দুইজনকে দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হতে পারে বলে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন।
হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান,
“রোগীদের শরীরে আঘাত গুরুতর। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিস্তারিত বলা যাবে।”
ঘটনার পরপরই নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিচয় শনাক্তের জন্য চেষ্টা চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এই দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ভোর বা রাতের সময় অনেক চালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা এক ব্যক্তির মতে,
“মহাসড়কে নিয়ম না মানার সংস্কৃতি এখনও বড় সমস্যা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,
“ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, এই এলাকায় নিয়মিত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে ফ্লাইওভার অংশে গতিনিয়ন্ত্রণ ও ওভারটেকিং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানি নয়, পরিবারগুলোর ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। নিহতদের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া, আর আহতদের চিকিৎসা ব্যয় হয়ে ওঠে বড় বোঝা।
একই সঙ্গে দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থাও কমে যায়। নিয়মিত দুর্ঘটনা মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
টাঙ্গাইলের রাবনা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সড়কে এক মুহূর্তের অসতর্কতা কত বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। জীবন বাঁচাতে নিয়ম মেনে চলা এবং দায়িত্বশীল ড্রাইভিংয়ের বিকল্প নেই।
প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধি—এই দুইয়ের সমন্বয়েই কমানো সম্ভব এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
ভোরের নির্জনতা ভেঙে হঠাৎই বিকট শব্দ। মুহূর্তের মধ্যেই থমকে যায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের যানচলাচল। টাঙ্গাইলের রাবনা এলাকায় ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন, আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
সোমবার (৪ মে) ভোর আনুমানিক সোয়া ৫টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সেতুমুখী একটি ট্রাক রাবনা ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি পিকআপ ভ্যানকে অতিক্রম করার চেষ্টা করে। এ সময় দুটি যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফ জানিয়েছেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওভারটেক করতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।”
দুর্ঘটনার সময় আশপাশে থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভোরের দিকে মহাসড়কে যানবাহন তুলনামূলক কম থাকলেও কিছু গাড়ি দ্রুতগতিতে চলছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“হঠাৎ জোরে ধাক্কার শব্দ শুনে বাইরে বের হই। দেখি দুইটা গাড়ি একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। কয়েকজন মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। আমরা দ্রুত উদ্ধার কাজে নামি।”
আরেকজন বলেন,
“এখানে প্রায়ই দ্রুতগতির কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটে। ফ্লাইওভারের ওপর গাড়ি চালানোর সময় অনেকেই নিয়ম মানে না।”
দুর্ঘটনায় আহত দুইজনকে দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হতে পারে বলে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন।
হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান,
“রোগীদের শরীরে আঘাত গুরুতর। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিস্তারিত বলা যাবে।”
ঘটনার পরপরই নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিচয় শনাক্তের জন্য চেষ্টা চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এই দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ভোর বা রাতের সময় অনেক চালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা এক ব্যক্তির মতে,
“মহাসড়কে নিয়ম না মানার সংস্কৃতি এখনও বড় সমস্যা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,
“ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, এই এলাকায় নিয়মিত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে ফ্লাইওভার অংশে গতিনিয়ন্ত্রণ ও ওভারটেকিং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানি নয়, পরিবারগুলোর ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। নিহতদের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া, আর আহতদের চিকিৎসা ব্যয় হয়ে ওঠে বড় বোঝা।
একই সঙ্গে দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থাও কমে যায়। নিয়মিত দুর্ঘটনা মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
টাঙ্গাইলের রাবনা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সড়কে এক মুহূর্তের অসতর্কতা কত বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। জীবন বাঁচাতে নিয়ম মেনে চলা এবং দায়িত্বশীল ড্রাইভিংয়ের বিকল্প নেই।
প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধি—এই দুইয়ের সমন্বয়েই কমানো সম্ভব এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

আপনার মতামত লিখুন