কৃষির আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নেওয়া বৃহৎ সরকারি প্রকল্প—কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কর্মসূচিতে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জানা গেছে, বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে অন্তত ৫১৭ কোটি টাকার ভর্তুকি আত্মসাৎ করা হয়েছে। অথচ বিস্ময়করভাবে এখনো অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বরং একটি প্রভাবশালী মহল তাদের রক্ষায় সক্রিয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে দেখা গেছে, ১৩টি প্রতিষ্ঠান ৮৫০টি কম্বাইন হারভেস্টর যন্ত্রের বিপরীতে একাধিকবার বিল তুলেছে। আরও ৯৭১টি যন্ত্রের নামে ভর্তুকি নেওয়া হয়েছে, যেগুলোর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে যন্ত্র দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অনিয়ম করেছে: বাংলামার্ক করপোরেশন – আমদানির চেয়ে ৭৩২টি বেশি যন্ত্র দেখিয়ে বিল উত্তোলন এসকিউ ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং – ৫৮৩টি বেশি যন্ত্র দেখানো এছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শতাধিক ভুয়া যন্ত্র দেখিয়ে ভর্তুকি নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অনিয়মকারীদের আড়াল করতেই প্রকল্পটি বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাম্প্রতিক সভায় প্রকল্পটি বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে। অথচ প্রকল্পে এখনো ৫০০ কোটির বেশি টাকা অবশিষ্ট রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সময়মতো সংশোধনের প্রস্তাব না দেওয়াও ছিল ‘ইচ্ছাকৃত’ বলে অভিযোগ। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকল্পের প্রায় ১০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা ৭ মাসের বেশি সময় ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না, অথচ তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এই দুর্নীতিতে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের সুবিধা দিয়েছেন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করেছেন এমন সময় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যখন নিয়ম অনুযায়ী তা গ্রহণযোগ্য নয় এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা এখনো প্রকল্পটি পুনরায় চালু না হওয়ার জন্য তৎপর বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে, তারাই আবার বকেয়া বিল তুলতে সক্রিয় তদবির চালাচ্ছে। মোট বকেয়া দাবি: ১০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এর মধ্যে একাই প্রায় ৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা দাবি করেছে বাংলামার্ক করপোরেশন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে: প্রকল্প বন্ধ করা সমাধান নয় কারা কীভাবে ভর্তুকি আত্মসাৎ করেছে তা চিহ্নিত করা হবে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও বলেছেন, “দুর্নীতি হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি পুনরায় চালু করলে— অবশিষ্ট ৫২৮ কোটি টাকা স্বচ্ছভাবে ব্যয় করা সম্ভব ভুয়া বিলের মাধ্যমে নেওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে কৃষির উন্নয়নের নামে নেওয়া এই বড় প্রকল্প এখন দুর্নীতির এক বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্প বন্ধ করে দায় এড়ানো নয়—বরং স্বচ্ছ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সময়ের দাবি। না হলে কৃষি খাতের উন্নয়ন যেমন ব্যাহত হবে, তেমনি জনগণের আস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আর্কাইভ
অনলাইন জরিপ
রাজধানীর জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে—দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ সাধারণত কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এতে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা খাতে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। তাই এই সাক্ষাৎকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য সরকারি সূত্রের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক সংস্কার থেকে পিছিয়ে গেলে দেশে আবারও অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা–৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার থেকে সরে আসে, তাহলে ২০২৪ সালের মতো আরেকটি গণ–অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি সময়ের ব্যাপার মাত্র। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি। ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল ও গুম প্রতিরোধ/প্রতিকার অধ্যাদেশ স্থগিত: সুশাসন ও মানবাধিকারের অগ্রযাত্রার প্রতি হুমকি’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে Voice for Reform। সংলাপে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য হয়নি; বরং রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক পরিবর্তনের দাবিতেই সেই আন্দোলন হয়েছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি পুরোনো ব্যবস্থাই বহাল রাখা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যে কেউ আবার স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে।” এ প্রসঙ্গে তিনি শেখ হাসিনা-র নাম উল্লেখ করে বলেন, “হাসিনা কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং ফ্যাসিবাদী চিন্তার সমষ্টি।” তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন না হলে দেশ আবারও অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছিল যেখানে কাউকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নিখোঁজ করা হবে না। মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, কমিশনকে যদি সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, তাহলে এর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ কার্যকর না হয়, তবে ২০০৯ সালের আইনে ফিরে গিয়ে তদন্তের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে যেতে পারে—যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। সংলাপে আরও বক্তব্য দেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী মানজুর-আল-মতিন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ দ্রুত প্রণয়ন করা হলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী আইন এখনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে রয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং গুম বন্ধের অঙ্গীকার রক্ষায় দ্রুত বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। সংলাপে আরও বক্তব্য দেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান। নাগরিক সংলাপটি সঞ্চালনা করেন ভয়েস ফর রিফর্মের উদ্যোক্তা ও সংগঠক ফাহিম মাশরুর। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংলাপে উত্থাপিত বক্তব্যগুলো দেশের চলমান রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিকে আরও জোরালো করতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশনের ১১তম সভা শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত আছেন। পাশাপাশি ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নিয়েছেন। ইসি সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তপশিল ও ভোটের তারিখ নির্ধারণই প্রধান আলোচ্য বিষয়। তবে এর বাইরেও আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সভায় মোট পাঁচটি এজেন্ডা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়াদি, নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা, শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন, নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী বিভিন্ন মামলা সংক্রান্ত বিষয় এবং নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ নীতিমালা। এদিকে আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের দিন থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে রাজনৈতিক দলগুলো জোটগতভাবে নির্বাচন করবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেই সময়সীমা রোববার শেষ হয়েছে। ফলে আজ সোমবার সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। আইন আরও বলছে, গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেই হিসেবে আগামী ১৪ মে’র মধ্যে নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক। তবে নির্বাচন কমিশন চলতি এপ্রিল মাসের মধ্যেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সব মিলিয়ে, আজকের কমিশন সভা সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিতে পারে। এখন সবার নজর তপশিল ঘোষণা ও সম্ভাব্য ভোটের তারিখের দিকে।
সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক: ‘আবেগ নয়, চলতে হবে সাংবিধানিক পথে’সংসদীয় প্রতিবেদক | ঢাকাজাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মধ্যে আইনি ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা নিয়ে এই বিতর্ক হয়।বিরোধীদলীয় নেতার উদ্বেগ ও দাবিঅনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ১৩ নভেম্বর ২০২৫-এ রাষ্ট্রপতির জারিকৃত ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার কথা ছিল। কিন্তু সেই নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও তা করা হয়নি।তিনি যুক্তি দেন, সংসদ সদস্যরা বর্তমানে দুটি ভিন্ন ক্ষমতায় (ক্যাপাসিটি) নির্বাচিত হয়েছেন—একইসাথে তারা জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পরামর্শে সংসদের অধিবেশন ডাকা হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকা আইনের লঙ্ঘন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টা যুক্তি: ‘রাষ্ট্র চলে আইনে, ইমোশনে নয়’বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্র কেবল আবেগ দিয়ে নয়, বরং সংবিধান ও আইনের কঠোর ধারা অনুযায়ী চলে। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশটির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে একে ‘না অধ্যাদেশ, না আইন—একটি আরোপিত আদেশ’ হিসেবে অভিহিত করেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো ছিল:সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা: বর্তমান সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিতে পারেন না।আদালতের রুল: এই আদেশের নির্দিষ্ট অংশ কেন অসাংবিধানিক হবে না, তা নিয়ে আদালত রুল জারি করেছেন। যদিও সংসদ সার্বভৌম, তবুও সংবিধান লঙ্ঘন করে কোনো আইন প্রণয়ন করা সম্ভব নয়।গণভোটের বিতর্ক: তিনি দাবি করেন, গণভোটে চারটি ভিন্ন প্রশ্ন থাকলেও মানুষের জন্য আলাদাভাবে উত্তর দেওয়ার সুযোগ ছিল না, যা পদ্ধতিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ।সমাধানের পথ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনরায়কে সম্মান দিতে হলে তা সাংবিধানিক পথেই দিতে হবে। তিনি প্রয়োজনে বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল আনার বিষয়টি কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার প্রস্তাব দেন।স্পিকারের সিদ্ধান্তবিতর্ক শেষে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ধরনের জটিল বিষয়ে তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে যথাযথ বিধি অনুযায়ী নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং এরপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা জানান।প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ (Quick Highlights):ইস্যু: জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন না করা।জামায়াত আমিরের দাবি: ৩০ দিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান: সংবিধানে সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব নেই; আইনানুগ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই একমাত্র পথ।ফলাফল: বিষয়টি সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল: সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই হবেন প্রধাননিজস্ব প্রতিবেদক, সুপ্রিম কোর্ট | রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬সংবিধানে বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের লেখা ৭৪ পৃষ্ঠার এই ঐতিহাসিক রায়টি আপলোড করা হয়।রায়ের মূল দিকসমূহগত ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেছিলেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা ছিলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য।দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরিক্রমাএই রায়ের পথ প্রশস্ত হয়েছে কয়েক মাসের টানা শুনানির মাধ্যমে:রিভিউ আবেদন: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রথম রিভিউ আবেদন করেন। পরবর্তীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথক আবেদন জানান।শুনানি: অক্টোবর ও নভেম্বর মাস জুড়ে প্রায় ১০ দিনব্যাপী এই মামলার শুনানি চলে। যেখানে ড. শরীফ ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অ্যাডভোকেট শিশির মনির আবেদনকারীদের পক্ষে এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার ইতিহাসঅন্তর্ভুক্তি: ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটি সংবিধানে যুক্ত হয়।বৈধতা: ২০০৪ সালে হাইকোর্ট একে বৈধ ঘোষণা করলেও ২০১১ সালে আপিল বিভাগের তৎকালীন বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এটি বাতিল করে দেয়।বাতিল ও পুনঃস্থাপন: ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যবস্থাটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ আদালত আগের রায় পুনর্বিবেচনা করে পুনরায় এই ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনলেন।ভবিষ্যৎ প্রভাবএই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনসমূহ একটি নিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।
আপনার দেওয়া বিস্তারিত তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রতিবেদন নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো। এটি যেকোনো সংবাদ মাধ্যম বা পোর্টালের জন্য উপযুক্ত।সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ: আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াত জোটের, অনড় বিএনপিনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ মার্চ, ২০২৬ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং পৃথক অধিবেশন ডাকার দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী জোট। দাবি আদায় না হলে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্র দলগুলো। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপি বিষয়টিকে সংসদের নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে চায়।অধিবেশনের শুরুতেই হট্টগোল ও ওয়াকআউটগত বৃহস্পতিবার সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ চলাকালে নজিরবিহীন হট্টগোল সৃষ্টি হয়। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্র ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টার আলোচনায় তারা অংশ নেবেন এবং কেন তারা ওয়াকআউট করেছেন তার ব্যাখ্যা সংসদে তুলে ধরবেন।‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও সময়সীমার সংকটজুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যার সময়সীমা আজ ১৫ মার্চ শেষ হচ্ছে। জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ তাদের জোটের সদস্যরা এরই মধ্যে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে পৃথক শপথ নিয়েছেন।জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোট সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন:"আজ ১৫ মার্চ সরকারের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। সরকার যদি আজই জুলাই সনদ অনুযায়ী অধিবেশন না ডাকে, তবে তাদের এর দায় নিতে হবে। দাবি মানা না হলে আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হব।"সরকারের অবস্থান ও বিএনপির যুক্তিসংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন নীতিনির্ধারকরা। কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি এবং সরকার চায় সব সমাধান সংসদের মাধ্যমেই হোক। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও জানিয়েছেন, বিএনপি এই মুহূর্তে আলাদা অধিবেশন ডাকার পক্ষে নয় এবং সংসদের ভেতরেই এ নিয়ে আলোচনা হবে।সংসদ সচিবালয়ের সর্বশেষ তথ্যআজ রবিবার বেলা ১১টায় সংসদের মুলতবি অধিবেশন পুনরায় শুরু হচ্ছে। কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী:অধিবেশন চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি এবং বিভিন্ন মন্ত্রীদের জন্য ৪৬০টি প্রশ্ন জমা পড়েছে।