জবির সুমিতার যুক্তরাষ্ট্রে সাফল্য, শীর্ষ ৫ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেলেন স্কলারশিপ ও ভর্তি প্রস্তাব
একজন শিক্ষার্থীর গবেষণার প্রতি নিরলস পরিশ্রম তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম আকাঙ্ক্ষিত উচ্চশিক্ষার দরজায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমিতা সাজনীন মারুফা যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি স্কলারশিপ দিয়েছে, যা দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার নতুন উদাহরণ হয়ে উঠেছে।[TECHTARANGA-POST:1629]সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুমিতা যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন, ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি এবং কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ফুল-ফান্ডেড পিএইচডি স্কলারশিপ পেয়েছেন। একই সঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন এবং ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়া থেকে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির প্রস্তাবও পেয়েছেন।গবেষণার পথেই সাফল্যের গল্পজবি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হন সুমিতা। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল হেটারোসাইক্লিক যৌগের সংশ্লেষণ এবং ইন ভিট্রো ও ইন সিলিকো পদ্ধতিতে এসব যৌগের জৈবিক কার্যকারিতা বিশ্লেষণ।গবেষণার ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে তাঁর ১২টি গবেষণা প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)-এর অধীনে গবেষণাকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশীদের জন্য সুমিতার পরামর্শউচ্চশিক্ষা নিয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সুমিতা বলেন, শুরু থেকেই একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা জরুরি। বিশেষ করে অনার্সের শেষ বর্ষ থেকে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করা সহজ হয়।[TECHTARANGA-POST:1626]তিনি বলেন, “গবেষণার অভিজ্ঞতা, ল্যাব দক্ষতা এবং শেখার আগ্রহ একজন শিক্ষার্থীকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখে। শুধু গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ নয়, গবেষণার প্রতিটি ধাপে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।”কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অর্জন?বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তবে অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ার জন্য শুধু ভালো ফলাফলই যথেষ্ট। সুমিতার অর্জন দেখাচ্ছে, গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা এবং ধারাবাহিক একাডেমিক প্রস্তুতি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবেদনকারীর সিজিপিএর পাশাপাশি গবেষণা দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, ল্যাব অভিজ্ঞতা এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে গবেষণাভিত্তিক প্রস্তুতি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নসুমিতার মতে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অনেক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ এবং কার্যকর মেন্টরশিপ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা যদি শুরু থেকেই গবেষণার সুযোগ, আধুনিক ল্যাব সুবিধা এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা পান, তাহলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে।এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন স্নাতক শেষ হওয়ার পর। অথচ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সফল আবেদনকারীদের বড় অংশ স্নাতক পর্যায়েই গবেষণা, প্রকাশনা ও দক্ষতা উন্নয়নের কাজ শুরু করেন। সুমিতার যাত্রা সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ।গুরুত্বপূর্ণ দিক• যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি স্কলারশিপ পেয়েছেন সুমিতা।• আরও দুটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্সে ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন।• আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর ১২টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1605]• বর্তমানে বিসিএসআইআরের অধীনে গবেষণাকাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন।• গবেষণাবান্ধব পরিবেশ ও মেন্টরশিপ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।সাধারণ মানুষের ভাবনাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে যে বিদেশে উচ্চশিক্ষা মানেই ব্যয়বহুল একটি যাত্রা। কিন্তু সুমিতার মতো উদাহরণ দেখায়, যোগ্যতা, গবেষণা দক্ষতা এবং পরিকল্পিত প্রস্তুতি থাকলে পূর্ণ অর্থায়নে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পড়ার সুযোগ পাওয়া সম্ভব। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার ফল নয়, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের দিকেও সমান মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।