ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ১২, ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগ
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের রাতভর বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩৩ জনের বেশি। হামলায় আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষ।শনিবার হুতিদের নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। তবে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকালে ইয়েমেনের তায়েজ গভর্নরেটে একটি ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা চালায় সৌদি যুদ্ধবিমান।হুতি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকা পড়ে আছেন বলে জানানো হয়েছে।উদ্ধারকাজের অগ্রগতি এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।এর আগে ইয়েমেনের ধামার প্রদেশে চালানো পৃথক বিমান হামলায় তিন শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে হুতি কর্তৃপক্ষ। ওই হামলায় আরও ১৭ জন আহত হয়েছেন।তায়েজ ও ধামারের হামলায় হতাহতের সংখ্যা মিলিয়ে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩৩ জনের বেশি আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম।তবে হতাহতদের পরিচয় এবং হামলার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।হুতি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিমান হামলায় আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়েছে।ক্লাস্টার বোমা বিস্ফোরণের সময় অসংখ্য ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে দিতে পারে। এসব বিস্ফোরকের কিছু অবিস্ফোরিত অবস্থায় থেকে গেলে পরবর্তী সময়েও বেসামরিক মানুষের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।তবে ইয়েমেনে সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।হুতি কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিমান হামলায় ইয়েমেনে অন্তত ১১৫ জন নিহত এবং ৩০৫ জন আহত হয়েছেন।এই পরিসংখ্যান হুতি কর্তৃপক্ষের দেওয়া। হতাহতের সংখ্যা ও হামলার পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই।অন্যদিকে, শনিবার সকালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি দাবি করেন, তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হুতিদের পাঠানো অন্তত চারটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করেছে।তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনগুলোর মধ্যে একটি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দিকে যাচ্ছিল।ইয়েমেনে বিমান হামলা ও সৌদি আরবের দিকে ড্রোন পাঠানোর পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে।ইয়েমেনের আবাসিক এলাকায় হামলা এবং শিশুদের হতাহতের খবর বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সামরিক অভিযান চালানোর সময় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর লক্ষ্য, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং হতাহতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র সম্পর্কে স্বাধীন তদন্তের ফল না পাওয়া পর্যন্ত সব অভিযোগকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।