সেন্টমার্টিনে যৌথ অভিযানে ১৬ লাখ টাকার সিমেন্ট জব্দ, আটক ৩৩
কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন উপকূল এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে তিনটি ফিশিং বোটসহ ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।শনিবার (১৬ মে) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ২ হাজার ৪০০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব সিমেন্ট মিয়ানমারে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল।[TECHTARANGA-POST:1357]গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সমুদ্রে অভিযানকোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিম সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরী, স্টেশন সেন্টমার্টিন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।অভিযান চলাকালে সন্দেহজনক তিনটি ফিশিং বোট থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট জব্দ করা হয়।আটক ৩৩ জন, জব্দ তিনটি বোটঅভিযানে পাচার কাজে ব্যবহৃত তিনটি ফিশিং বোটও জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৩ জনকে আটক করা হয়।তবে আটক ব্যক্তিদের পূর্ণ পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগপ্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা হাতিয়া ও সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকা থেকে সিমেন্ট সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফিশিং বোটের মাধ্যমে এসব সিমেন্ট মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, সীমান্তপথ ব্যবহার করে সক্রিয় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এমন পাচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।সীমান্তপথে চোরাচালান নিয়ে উদ্বেগসংশ্লিষ্টদের মতে, সেন্টমার্টিন ও আশপাশের সমুদ্রপথ দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময় মাদক, ভোগ্যপণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী পাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রপথে অবৈধ পণ্য পাচার শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়, এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মিত নজরদারি ও সমন্বিত অভিযান জরুরি বলে মনে করছেন তারা।গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণাআইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মূলহোতাদের শনাক্তে গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত অভিযানও বাড়ানো হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:1356]কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উপকূল ও সমুদ্রসীমায় অবৈধ কার্যক্রম ঠেকাতে নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।বর্তমানে জব্দ হওয়া সিমেন্ট, ব্যবহৃত বোট এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এই পাচারচক্রের নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।