দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

বরিশালে ২৮ কচ্ছপ ও শাপলা পাতা মাছ বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীর ৩ মাসের কারাদণ্ড

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বিক্রির জন্য রাখা ২৮টি কচ্ছপ ও একটি শাপলা পাতা মাছ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ফিলিপ অধিকারী নামে এক ব্যবসায়ীকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এই সাজা দেন।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আন্ধারমানিক গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ফিলিপ অধিকারীর কাছ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ২৮টি কচ্ছপ এবং একটি শাপলা পাতা মাছ উদ্ধার করা হয়।দণ্ডপ্রাপ্ত ফিলিপ অধিকারী উপজেলার কদমবাড়ি গ্রামের মৃত যতিন অধিকারীর ছেলে।অভিযানে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান উপস্থিত ছিলেন।অভিযানের পর ফিলিপ অধিকারীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।ইউএনও নিরুপম মজুমদার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কচ্ছপ ও শাপলা পাতা মাছ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।উদ্ধার করা কচ্ছপগুলো পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পাশের সন্ধ্যা নদীতে অবমুক্ত করা হয়।বন্যপ্রাণী উদ্ধারের পর সেগুলোকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এ ধরনের অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু বিক্রি বন্ধ বা প্রাণী উদ্ধার করাই নয়, উদ্ধার করা প্রাণীগুলোকে নিরাপদে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দিতে পারলেই সংরক্ষণের উদ্দেশ্য পূরণ হয়।কচ্ছপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে ধরা ও বিক্রির ঘটনা শুধু আইন ভঙ্গের বিষয় নয়, এর সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্যেরও সম্পর্ক রয়েছে। জলজ ও স্থলজ প্রাণীর প্রতিটি প্রজাতি খাদ্যশৃঙ্খল ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যে ভূমিকা রাখে।বিশেষ করে বাজারে বন্যপ্রাণীর চাহিদা থাকলে শিকার ও পাচারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই শুধু বিক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পাশাপাশি এসব প্রাণী কোথা থেকে আসছে, কারা সংগ্রহ করছে এবং কোথায় সরবরাহ হচ্ছে—সেই উৎসও খুঁজে দেখা প্রয়োজন।অরিজিনাল পর্যবেক্ষণ: এই ঘটনায় ২৮টি কচ্ছপ একসঙ্গে উদ্ধারের বিষয়টি দেখায়, বন্যপ্রাণী বিক্রির একটি স্থানীয় ঘটনাও আসলে সরবরাহব্যবস্থার ইঙ্গিত দিতে পারে। একটি দোকান বা বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান সফল হওয়ার পাশাপাশি প্রাণীগুলো সংগ্রহের উৎস শনাক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের বেচাকেনা ঠেকানো আরও কার্যকর হতে পারে।গুরুত্বপূর্ণ দিকআগৈলঝাড়ার আন্ধারমানিক গ্রামে অভিযান চালানো হয়।বিভিন্ন প্রজাতির ২৮টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে।একটি শাপলা পাতা মাছও উদ্ধার করা হয়।ব্যবসায়ী ফিলিপ অধিকারীকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।উদ্ধার করা কচ্ছপগুলো সন্ধ্যা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।বন্যপ্রাণী কিনে বা বিক্রি করে লাভ করার প্রবণতা বন্ধ করতে শুধু প্রশাসনের অভিযান যথেষ্ট নয়। মানুষকেও বুঝতে হবে, বন্যপ্রাণী কেনাবেচার চাহিদা থাকলে শিকারিরা আরও প্রাণী ধরতে উৎসাহিত হয়। তাই বাজারে কচ্ছপ বা অন্য কোনো বন্যপ্রাণী বিক্রি হতে দেখলে তা কেনা থেকে বিরত থাকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই দায়িত্বশীল আচরণ।

বরিশালে ২৮ কচ্ছপ ও শাপলা পাতা মাছ বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীর ৩ মাসের কারাদণ্ড