দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

কুমিল্লার লাকসামে ধর্ষণ-অপহরণ মামলার প্রধান আসামি শামীম ১ দিনের রিমান্ডে

কুমিল্লার লাকসামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতন ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে দায়ের করা আলোচিত মামলার প্রধান আসামি সুফিয়ান মজুমদার প্রকাশ শামীমকে (২২) এক দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।বুধবার (৪ নভেম্বর) আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ উল্লাহ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেন। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরদিন ১৯ অক্টোবর লাকসাম থানা পুলিশ তাঁকে কুমিল্লার আদালতে পাঠায়।লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী জানিয়েছেন, আদালত প্রধান আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। ঘটনার সঠিক তথ্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।অপহরণ থেকে দ্বিতীয়বার উদ্ধারের অভিযোগমামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এজাহারে অপহরণের পর জোরপূর্বক ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন, অবৈধভাবে গর্ভপাত করানো এবং মাদক সেবনে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে।পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল প্রথমবার ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ এপ্রিল তাঁকে আবারও অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ২৩ জুন দ্বিতীয়বার তাঁকে উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় ২৪ জুন লাকসাম থানায় জিআর-২১ নম্বরে মামলা দায়ের করা হয়।মামলায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগমামলার প্রধান অভিযুক্ত সুফিয়ান মজুমদার প্রকাশ শামীম (২২)। তিনি পশ্চিমগাঁও এলাকার শাহাজাহান মজুমদারের ছেলে।এ ছাড়া মামলার অন্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আলামিন (২১), পিতা ওবায়দুল হক, সাং গোবিন্দপুর এবং শাহাজাহান (৫৫), পিতা মৃত সিদ্দিক মজুমদার, সাং পশ্চিমগাঁও। এজাহারে অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।এর আগে গত ২ জুলাই বুধবার ভোরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এ মামলার আরেক আসামি আলামিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।বাদীর অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে দুর্ব্যবহারের দাবিমামলার বাদী ফারহানা মাহমুদা ঝর্ণা অভিযোগ করেছেন, রিমান্ডে থাকা অবস্থায় আসামি শামীম তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। এ ছাড়া আসামি থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।বাদীর ভাষায়, আসামিকে থানায় ‘জামাই আদরে’ রাখা হচ্ছে। তাঁর এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, “মামলার প্রধান আসামি শামীমকে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। সঠিক তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে।”তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণমামলাটির অভিযোগের ধরন ও ভুক্তভোগীর বয়স বিবেচনায় তদন্তে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। কিশোরীকে প্রথমবার উদ্ধারের পর কীভাবে আবার অপহরণের ঘটনা ঘটল, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না এবং অভিযোগে উল্লিখিত অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় তদন্তে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের ঘটনায় শুধু অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়; ভুক্তভোগীর বক্তব্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যমামলার ধরন: ধর্ষণ, অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ।প্রধান আসামি: সুফিয়ান মজুমদার প্রকাশ শামীম (২২)।রিমান্ড: আদালতের নির্দেশে এক দিন।মামলা দায়ের: ২৪ জুন, লাকসাম থানা।মামলা নম্বর: জিআর-২১।আদালতের নির্দেশে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার অভিযোগগুলোর সত্যতা, ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা এবং কিশোরীকে দুই দফায় অপহরণের পেছনের ঘটনা উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য জানা যাবে।

কুমিল্লার লাকসামে ধর্ষণ-অপহরণ মামলার প্রধান আসামি শামীম ১ দিনের রিমান্ডে