দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। সাম্প্রতিক হৃদ্‌রোগজনিত চিকিৎসার পর তার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। রাষ্ট্রপতির সফর ও চিকিৎসা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই জনমনে আগ্রহ ছিল।লন্ডনে চিকিৎসা, হৃদ্‌যন্ত্রে ধরা পড়ে জটিল ব্লকরাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ৯ মে চিকিৎসকের পরামর্শে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। মূলত নিয়মিত ফলো-আপ চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতেই তার এই সফর ছিল। তবে পরীক্ষার সময় তার হৃদ্‌যন্ত্রে গুরুতর একটি ব্লক শনাক্ত হয় বলে জানা গেছে।[TECHTARANGA-POST:1367]গত ১২ মে ক্যামব্রিজের রয়্যাল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলির তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা দ্রুত এনজিওপ্লাস্টি করার সিদ্ধান্ত নেন। সফলভাবে তার হৃদ্‌যন্ত্রে একটি স্টেন্ট বসানো হয়।রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক। চিকিৎসকেরা তাকে কিছুদিন নিয়ম মেনে চলা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।আগেও হয়েছিল বড় ধরনের হার্ট সার্জারিএটি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের প্রথম বড় হৃদ্‌রোগসংক্রান্ত চিকিৎসা নয়। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে তিনি সিঙ্গাপুরে কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি করান। তখনও কয়েক সপ্তাহ বিদেশে অবস্থান করে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন তিনি।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বয়সজনিত কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকেই তার সাম্প্রতিক সফর। রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা নিয়ে সরকারিভাবে খুব বেশি উদ্বেগ প্রকাশ না করা হলেও চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।বিদেশে থেকেও চালিয়ে গেছেন দাপ্তরিক কাজরাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ছিলেন না। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সামারি ডিজিটালি অনুমোদন এবং স্বাক্ষর করেছেন তিনি।প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় অনেক কাজ ভার্চুয়াল ও ডিজিটাল ব্যবস্থায় সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে কোনো ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়নি বলেও দাবি করা হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:1366]বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিদেশে অবস্থান করেও দায়িত্ব পালনের এই ধারা প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।লন্ডনে সুদানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎচিকিৎসার ব্যস্ততার মধ্যেও যুক্তরাজ্য সফরে একটি অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সাক্ষাৎ করেছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। লন্ডনের হোটেল হিলটনে সুদানের প্রধানমন্ত্রী ড. কামিল ইদ্রিসের সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।যদিও বৈঠকটি আনুষ্ঠানিক ছিল না, তবুও কূটনৈতিক মহলে এটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সফরের মূল উদ্দেশ্য চিকিৎসা হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতি আগ্রহ দেখিয়েছেন।স্বাস্থ্য নিয়ে জনমনে বাড়ছে সচেতনতারাষ্ট্রপতির অসুস্থতা ও চিকিৎসার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা দেখা যায়। অনেকে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। আবার কেউ কেউ উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এনেছেন।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদ্‌রোগ এখন বাংলাদেশে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি। বয়স, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার কারণে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে রাষ্ট্রপতির চিকিৎসার ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করতে পারে।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1361]দেশে ফেরার পর কী হতে পারেরাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার পর তার চিকিৎসা-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি কিছুদিন সীমিত কর্মসূচিতে থাকতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সবসময়ই জনস্বার্থের একটি বিষয়। তাই ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য আরও স্বচ্ছভাবে প্রকাশের দাবি জোরালো হতে পারে। সব মিলিয়ে, চিকিৎসা সফলভাবে শেষ করে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরা সরকার ও প্রশাসনের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন তার পূর্ণ সুস্থতা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল