দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহে জেসমিন প্রকল্পের উদ্যোগ, ইসলামপুর ও মেলান্দহে সচেতনতা কার্যক্রম

জামালপুরের ইসলামপুর ও মেলান্দহ উপজেলায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজন করেছে জেসমিন প্রকল্প। ২৩ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং গ্রামভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে শতাধিক নারী ও কিশোরীরা অংশ নেন। ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে এবং উন্নয়ন সংঘ ও পারির সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়। সপ্তাহজুড়ে নানা কার্যক্রমের মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য র‌্যালি, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র‌্যালি শেষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, যেখানে পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই কর্মসূচির আওতায় গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মধ্য গোয়ালেরচর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ সচেতনতামূলক আলোচনা। এতে স্থানীয় শতাধিক নারী ও কিশোরী অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় সুষম খাদ্যের গুরুত্ব, শিশু ও মাতৃ পুষ্টি এবং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে পুষ্টিকর খাবার যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। অন্যদিকে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগেও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভার পাশাপাশি দুরমুঠ ইউনিয়নের সুলতানখালি গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা। এখানেও নারী ও কিশোরীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকরা জানান, এই ধরনের সরাসরি গ্রামভিত্তিক কার্যক্রম মানুষকে দ্রুত সচেতন করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানগুলোতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, কৃষি অফিসার, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং থানার অফিসার ইনচার্জসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেসমিন প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী বিজন কুমার দেবসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য পুষ্টি একটি মৌলিক বিষয়। অপুষ্টি শুধু ব্যক্তির স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে না, এটি দেশের অর্থনীতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও বাধা সৃষ্টি করে। তাই পরিবার থেকেই পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের মধ্যে এই সচেতনতা তৈরি হলে পুরো সমাজই উপকৃত হবে। জেসমিন প্রকল্প মূলত জেন্ডার ইনক্লুসিভ মার্কেট সিস্টেমস ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশন (GESMIN) উদ্যোগের অংশ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান সরকারের সহায়তায় অস্ট্রেলিয়ান এনজিও কো-অপারেশন প্রোগ্রামের আওতায় উন্নয়ন সংঘ ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ যৌথভাবে এটি বাস্তবায়ন করছে। পটভূমি হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশে এখনো অনেক এলাকায় অপুষ্টি একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে সুষম খাদ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাব এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়। সরকার ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ সেই প্রচেষ্টারই একটি অংশ, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু প্রচারণা নয়, খাদ্য উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে পুষ্টিকে যুক্ত করা গেলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। জেসমিন প্রকল্প সেই দিকেই কাজ করছে—যাতে মানুষ শুধু পুষ্টির কথা জানে না, বরং সহজে পুষ্টিকর খাবার পেতেও পারে। সব মিলিয়ে ইসলামপুর ও মেলান্দহে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এসব কর্মসূচি স্থানীয় মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। আয়োজকরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা আরও বাড়বে এবং মানুষ স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে আগ্রহী হবে। একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গঠনে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহে জেসমিন প্রকল্পের উদ্যোগ, ইসলামপুর ও মেলান্দহে সচেতনতা কার্যক্রম