নির্বাচন ও বিএনপি প্রসঙ্গে ইউনূসের মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ মির্জা আব্বাসের
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য Mirza Abbas বলেছেন, জাপানে অবস্থান করে Muhammad Yunus বিএনপিকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা “দুঃখজনক” এবং দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।শুক্রবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে Ziaur Rahman-এর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।“বিদেশে বসে এমন মন্তব্য শোভন নয়”মির্জা আব্বাস বলেন, একটি রাজনৈতিক দল শুধু নির্বাচন চায়—এমন বক্তব্য দেশের বাইরে বসে দেওয়া ঠিক হয়নি।তার দাবি, এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।তিনি বলেন, “বিদেশে বসে দেশের রাজনৈতিক দল নিয়ে এভাবে মন্তব্য করা শোভন নয়। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”তবে মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যের নির্দিষ্ট কোন অংশ নিয়ে আপত্তি, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।বিদেশি পরামর্শক নিয়ে সরকারের সমালোচনাসংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের সমালোচনাও করেন বিএনপির এই নেতা।তার অভিযোগ, সরকার বিদেশি পরামর্শকদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।তিনি বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহু সংস্কার করেছিলেন। কিন্তু তিনি কখনো বিদেশি পরামর্শক এনে দেশ চালাননি।”মির্জা আব্বাসের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিরিক্ত বিদেশি সম্পৃক্ততা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার অভিযোগজাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, আগে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হলেও পরে সময় পরিবর্তনের আলোচনা এসেছে বলে বিএনপির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।তার দাবি, নির্বাচন নিয়ে বারবার ভিন্ন বার্তা আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।তিনি বলেন, “ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না হলে তার দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।”একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিএনপি প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে পারে।“দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন”বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে দ্রুত নির্বাচন জরুরি।তার মতে, দীর্ঘ সময় নির্বাচন অনিশ্চয়তায় থাকলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং অর্থনীতি ও প্রশাসনেও প্রভাব পড়তে পারে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, নির্বাচন নিয়ে বড় দলগুলোর অবস্থান যত বেশি মুখোমুখি হবে, রাজনৈতিক পরিবেশ তত বেশি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিএ সময় বিএনপির আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।তাদের মধ্যে ছিলেন Goyeshwar Chandra Roy, Salahuddin Ahmed এবং AZM Zahid Hossain।তারা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটবাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন নয়। নির্বাচনকালীন সরকার, ভোটের পরিবেশ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং সময়সূচি নিয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে।বিশেষ করে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য ততই তীব্র হয়ে ওঠে।বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি না হলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।এখন নজর রাজনৈতিক সমীকরণের দিকেসব মিলিয়ে, মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির প্রতিক্রিয়া নতুন রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে।
নির্বাচনের সময়সূচি, রাজনৈতিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।