দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

১২ বছরের অবদানের স্বীকৃতি, শেরেবাংলায় সম্মানিত হচ্ছেন পেসার রুবেল হোসেন

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক পেসার রুবেল হোসেনকে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের হয়ে টানা ১২ বছর দায়িত্ব পালন করা এই বোলারকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানো হবে বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে, শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।বিসিবি তাদের এক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, জাতীয় দলের জার্সিতে রুবেলের অবদান বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়াররুবেল হোসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেন ২০০৯ সালের ১৪ জানুয়ারি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে। একই বছর তিনি টি–টোয়েন্টি ও টেস্ট ক্রিকেটেও অভিষেকের সুযোগ পান।ধীরে ধীরে তিনি বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ হয়ে ওঠেন। তার গতি ও আক্রমণাত্মক বোলিং বহু ম্যাচে দলকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দিয়েছে।তিন ফরম্যাটে ১৯৩ উইকেটজাতীয় দলের হয়ে রুবেল খেলেছেন— ২৭টি টেস্ট ১০৪টি ওয়ানডে ২৮টি টি–টোয়েন্টি সব মিলিয়ে তার আন্তর্জাতিক উইকেট সংখ্যা ১৯৩। এর মধ্যে টেস্টে ৩৬টি, ওয়ানডেতে ১২৯টি এবং টি–টোয়েন্টিতে ২৮টি উইকেট রয়েছে।দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে দলের বোলিং ইউনিটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।স্মরণীয় পারফরম্যান্সরুবেল হোসেনের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে শেষ মুহূর্তে দুই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে তিনি বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন, যা দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দেয়।এছাড়া ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে তার বোলিং পারফরম্যান্সও ছিল উল্লেখযোগ্য। সেই সিরিজে তার ভূমিকা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করেন রুবেল, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।জাতীয় দলের বাইরে সময়গত কয়েক বছরে জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ না পেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে সক্রিয় ছিলেন রুবেল। সবশেষ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খুলনা টাইগার্সের হয়ে মাঠে নামেন তিনি।এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও তাকে নিয়মিত দেখা যায়নি। জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ ছিল ২০২১ সালের ১ এপ্রিল নিউজিল্যান্ড সফরে।বিসিবির সম্মাননা উদ্যোগবাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে বিভিন্ন সময় সংবর্ধনার আয়োজন করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে অবসর বা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তির পর আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সম্মাননার প্রবণতা বেড়েছে।রুবেল হোসেনও সেই ধারার অংশ হিসেবে এবার পাচ্ছেন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।ক্রিকেট ইতিহাসে অবস্থানবিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের পেস আক্রমণের উন্নতির পথে রুবেল হোসেন ছিলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তার গতি, অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা দলকে বহুবার ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে।বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।শেষ কথা এক দশকেরও বেশি সময় জাতীয় দলের হয়ে লড়াই করা রুবেল হোসেনের জন্য শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের এই সম্মাননা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তার ক্রিকেটীয় যাত্রার স্বীকৃতি। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে তার স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ভক্তদের মনে দীর্ঘদিন জাগরূক থাকবে।

১২ বছরের অবদানের স্বীকৃতি, শেরেবাংলায় সম্মানিত হচ্ছেন পেসার রুবেল হোসেন