জ্বালানির দাম বাড়লেও বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ব্যবস্থা: বাণিজ্যমন্ত্রী
জ্বালানির দাম বাড়লেও সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, জ্বালানির দাম সমন্বয়ের প্রভাব যেন অযৌক্তিকভাবে পণ্যের বাজারে না পড়ে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটের একটি কনভেনশন হলে ব্যবসায়ী সমিতির অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানির দাম সমন্বয় করেছে। তবে জ্বালানির দাম বাড়ার সুযোগ নিয়ে বাজারে কোনো পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাক, সরকার তা চায় না।তিনি জানান, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।এর আগে ব্যবসায়ী সমিতির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।তিনি ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স সহজীকরণ এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানান। তাঁর বক্তব্যে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সিলেট-ঢাকা ছয় লেন সড়ক চলাচলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হবে।সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন হলে সিলেটের ব্যবসা-বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন এবং বিনিয়োগ কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রাজধানীর সঙ্গে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবসায়ীদের জন্য পরিবহন ব্যয় ও সময় ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এর প্রভাব ধাপে ধাপে নিত্যপণ্য ও অন্যান্য পণ্যের দামে পড়তে পারে। তবে সেই প্রভাব আর অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি।সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে সরবরাহ চেইন সচল রাখার পাশাপাশি পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে জ্বালানি ব্যয়ের বাড়তি চাপ সামলে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা এড়ানো সম্ভব হতে পারে।অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।