দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

দেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ, আরও ৬ শিশুর মৃত্যু; ২৪ ঘণ্টায় নতুন উপসর্গ ১,৪০৮ জনের

হাম ও উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে আতঙ্কদেশজুড়ে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হাম। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৪০৮ জনের শরীরে হামের লক্ষণ পাওয়া গেছে। ক্রমাগত বাড়তে থাকা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা, সিলেট ও খুলনা বিভাগে একজন করে মোট ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়া আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২ জন এবং ঢাকা বিভাগে একজন রয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1418]স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৪৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চাপস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১ হাজার ২৭০ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে ৫৭ হাজার ৮৫৬ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৬৭ জনে।রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর চাপ বাড়ছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে জ্বর, শরীরে লালচে দানা, চোখ লাল হওয়া এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে অনেক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, অনেক হাসপাতালে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত শয্যা ও আলাদা ওয়ার্ডের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।কেন বাড়ছে হামের সংক্রমণ?জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানে অনিয়ম, সচেতনতার অভাব এবং অনেক এলাকায় শিশুদের সময়মতো টিকা না পাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছিল।চিকিৎসকদের ভাষ্য, হাম সাধারণ ভাইরাসজনিত রোগ হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে এটি দ্রুত জটিল রূপ নিতে পারে। অপুষ্টি, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং চিকিৎসা পেতে দেরি হলে নিউমোনিয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা তৈরি হয়। তখন মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যায়।একজন শিশু বিশেষজ্ঞ বলেন, “অনেক পরিবার প্রথম দিকে জ্বর বা র‍্যাশকে সাধারণ সমস্যা মনে করে। হাসপাতালে আনতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাচ্ছে।”তবে স্বাস্থ্য বিভাগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কোনো জরুরি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে কি না।গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই উদ্বেগহামের বিস্তার এখন শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। ঢাকা, সিলেট, খুলনা ও বরিশালসহ বিভিন্ন বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর আসছে। এতে করে অভিভাবকদের মধ্যে ভয় বাড়ছে[TECHTARANGA-POST:1396]বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যও অনেক পরিবারকে দ্বিধায় ফেলছে। ফলে অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাচ্ছে। এর প্রভাব এখন বড় আকারে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।এদিকে বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্ত শিশুদের পরিবার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটেও পড়ছে। নিম্নআয়ের পরিবারগুলো দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।স্বাস্থ্যবিধি মানার তাগিদস্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অভিভাবকদের শিশুদের জ্বর বা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় একটি শিশু আক্রান্ত হলে দ্রুত অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই স্কুল, মাদরাসা বা জনসমাগমপূর্ণ স্থানে অসুস্থ শিশুকে না পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।বাড়ছে মানসিক চাপওক্রমাগত মৃত্যুর খবর অনেক পরিবারকে আতঙ্কিত করে তুলছে। শিশুদের সাধারণ জ্বর নিয়েও এখন দুশ্চিন্তায় পড়ছেন অভিভাবকরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য সংকট দীর্ঘ হলে এর মানসিক প্রভাবও সমাজে পড়ে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বেড়ে যায়।জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা দিয়ে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন। সচেতনতা, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগ কত দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ, আরও ৬ শিশুর মৃত্যু; ২৪ ঘণ্টায় নতুন উপসর্গ ১,৪০৮ জনের