দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

সাপাহার ও পোরশায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন: “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ” বার্তা ঘিরে সচেতনতার ডাক

নওগাঁর সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় শুরু হয়েছে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ–২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোতে পুষ্টি সচেতনতা বাড়ানো এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচি ঘিরে দুই উপজেলাতেই সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি সচেতনতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়।সাপাহারে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মসূচির সূচনাবৃহস্পতিবার সকালে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।[TECHTARANGA-POST:996]অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফুজ্জামান। তিনি বলেন, একটি সুস্থ জাতি গঠনের ভিত্তি হলো সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে পুষ্টির ঘাটতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।“পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে পুষ্টি সচেতনতা”অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পুষ্টি শুধু চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য বিভাগের বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব। পরিবার, স্কুল ও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি না হলে অপুষ্টির সমস্যা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়।তারা আরও বলেন, শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সুষম খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। ভাত বা প্রধান খাবারের পাশাপাশি শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম ও দুধ নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখার ওপর জোর দেন তারা।সাপাহারে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিসাপাহারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুনিরুজ্জামান টকি, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার ওহেদুল্লাহ প্রামানিক।এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা পুষ্টি বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।পোরশায় আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমএকই দিনে নওগাঁর পোরশা উপজেলাতেও জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ–২০২৬ পালন করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে সেখানে আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।সভায় পুষ্টির গুরুত্ব, সুষম খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, অপুষ্টি শুধু শারীরিক দুর্বলতা নয়, এটি শিশুদের মানসিক বিকাশেও বাধা সৃষ্টি করে।[TECHTARANGA-POST:1060]পোরশায় উপস্থিত ছিলেন প্রশাসন ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরাপোরশার অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।এছাড়া কারিতাসসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তারা মাঠপর্যায়ে পুষ্টি বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।অপুষ্টি ও সামাজিক সমস্যার সম্পর্কবক্তারা আরও বলেন, অপুষ্টির পেছনে শুধু খাদ্য নয়, সামাজিক কিছু সমস্যাও ভূমিকা রাখে। বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য ও মাদকাসক্তির মতো বিষয়গুলো শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।তাদের মতে, এসব সমস্যা কমাতে হলে পরিবার ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতার ঘাটতি এখনো চ্যালেঞ্জবাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি হলেও গ্রামীণ এলাকায় এখনো সচেতনতার ঘাটতি রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক পরিবার অর্থনৈতিক সক্ষমতার অভাব নয়, বরং অজ্ঞতার কারণে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করে না।বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টি সম্পর্কে সঠিক ধারণা ছড়িয়ে দিতে স্কুল পর্যায় থেকে শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাদেশের বিভিন্ন এলাকায় জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে পুষ্টি বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা প্রশিক্ষণ, সচেতনতামূলক প্রচার ও গবেষণার মাধ্যমে অপুষ্টি হ্রাসে কাজ করছে।তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাড়ানো গেলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব।উপসংহারসব মিলিয়ে সাপাহার ও পোরশায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ–২০২৬ উদযাপন শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং জনসচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে শিশু মৃত্যুহার কমানো, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং একটি সুস্থ কর্মক্ষম জাতি গঠন সম্ভব। তাই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগই পারে “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ” এই লক্ষ্য বাস্তবে রূপ দিতে।[TECHTARANGA-POST:1069]

সাপাহার ও পোরশায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন: “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ” বার্তা ঘিরে সচেতনতার ডাক