দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

কুড়িগ্রামে প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের অভিযোগ এমপি আতিক মোজাহিদের, উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার দাবি

প্রশাসনের সিন্ডিকেটে ও দুর্নীতিতে উন্নয়ন ব্যাহত: এমপি আতিক মোজাহিদ, কুড়িগ্রাম-২কুড়িগ্রামে প্রশাসনের একটি অংশের বিরুদ্ধে সরাসরি সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান মোজাহিদ। তার দাবি, জেলার উন্নয়নমূলক কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে কাঙ্ক্ষিত সরকারি সেবা থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। এমনকি কিছু কর্মকর্তা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় একযোগে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসা শিক্ষক মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1398]তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের উন্নয়নের জন্য সংসদে একাধিকবার কথা বলেছেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বরাদ্দ আনার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মাঠ প্রশাসনের একটি অংশ সহযোগিতা না করায় অনেক কাজ থমকে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।“জনগণের সেবা নয়, ক্ষমতার চর্চা চলছে”প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এমপি আতিক মোজাহিদ। বিশেষ করে সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলার কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জনবান্ধব আচরণ না করার অভিযোগ তোলেন তিনি।তার ভাষায়, “অনেকে নিজেদের ‘স্যার’ পরিচয় প্রতিষ্ঠায় বেশি আগ্রহী। কিন্তু সাধারণ মানুষ যখন সেবা নিতে যায়, তখন হয়রানির শিকার হয়। জনগণের কষ্ট বুঝতে না পেরে উল্টো তাদের দুর্ভোগ বাড়ানো হচ্ছে।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।তবে অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।ভূমি অফিস থেকে ইউএনও পর্যন্ত ‘সিন্ডিকেট’ অভিযোগএমপি আতিকুর রহমান মোজাহিদের অভিযোগের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল প্রশাসনের ভেতরে একটি “সমন্বিত সিন্ডিকেট” থাকার দাবি। তিনি বলেন, ভূমি অফিস থেকে শুরু করে ইউএনও পর্যায় পর্যন্ত কিছু কর্মকর্তা একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন।তার দাবি, “নিজেদের ভাগ-বাটোয়ারা ঠিক রাখতেই তারা উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা করছে না। জনগণের জন্য যে বরাদ্দ আসে, সেখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গেলেই বাধা তৈরি করা হয়।”টিআর ও কাবিখা প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার মতে, এসব প্রকল্প জনগণের সম্পদ এবং এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কমিশন বাণিজ্য চলতে দেওয়া হবে না।তিনি বলেন, “একটি টাকাও কাউকে দেওয়া হবে না। যদি সিন্ডিকেটের কারণে কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সব প্রকাশ করা হবে।”স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টিআর ও কাবিখা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অতীতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ফলে কুড়িগ্রামে এমপির এই বক্তব্য নতুন করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।সদর হাসপাতাল নিয়ে অভিযোগ ‘অপপ্রচার’কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালকে কেন্দ্র করে প্রতি মাসে ১৪ লাখ টাকা উত্তোলনের যে অভিযোগ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে ছড়িয়েছে, সেটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এমপি আতিক মোজাহিদ।তিনি বলেন, “যারা এসব অভিযোগ করছে, তারা যেন তথ্য-প্রমাণসহ সামনে আসে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”তার মতে, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তার জনপ্রতিনিধিত্বমূলক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রম থামিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।যদিও এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিভাগের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।কেন বারবার উঠছে প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের অভিযোগ?দেশের বিভিন্ন জেলায় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারি স্বার্থ—এই তিনটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।বিশেষ করে টিআর, কাবিখা, খাদ্য সহায়তা বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে জনগণের আস্থা কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে কিংবা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও সামনে আসে।সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, মাঠ প্রশাসনের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেখানে যদি সেবার বদলে প্রভাব, তদবির বা সিন্ডিকেটের অভিযোগ সামনে আসে, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি রাষ্ট্রীয় সেবার প্রতি অনাস্থাও বাড়াতে পারে।[TECHTARANGA-POST:1400]একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব উন্নয়ন প্রকল্পের গতি কমিয়ে দেয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং জনসাধারণের মৌলিক সেবা ব্যবস্থা।রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনাএমপি আতিক মোজাহিদের এমন প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যে কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ তার বক্তব্যকে “দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান” হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে এটিকে প্রশাসনের সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্বের বহিঃপ্রকাশ বলেও মনে করছেন।তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণা আসেনি। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক বক্তব্যের পর্যায়েই রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সদস্য সচিব মাসুম মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান তাওহীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, শ্রমিক শক্তির জেলা আহ্বায়ক মজনু মিয়া এবং ছাত্রশক্তির প্রধান সংগঠক নুর আমিনসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

কুড়িগ্রামে প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের অভিযোগ এমপি আতিক মোজাহিদের, উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার দাবি