কারিগরি শিক্ষায় চীনের সঙ্গে নতুন দিগন্ত: দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা
ইন্ট্রো:
বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রীর আলোচনা এ ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দিয়েছে।বৈঠকে কী আলোচনা হলোবুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে চীনের আনহুই নরমাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট সিয়ং ইউজির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি) খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে এই অর্জনকে আরও এগিয়ে নিতে এখন দক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি জরুরি, আর সে ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। এই খাতে চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।[TECHTARANGA-POST:1113]চীনের পক্ষ থেকে আগ্রহআনহুই নরমাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট সিয়ং ইউজি বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষভাবে পরিচিত। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পাঠদানের মান উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হলে তা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে।তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, শিক্ষক বিনিময় এবং গবেষণা কার্যক্রমে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে প্রতিনিধিদলটি আশাবাদ ব্যক্ত করে।কেন গুরুত্ব পাচ্ছে টিভিইটিবর্তমান বিশ্বে শুধু ডিগ্রি নয়, দক্ষতাই কর্মসংস্থানের প্রধান চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও শিল্প খাত, নির্মাণ, প্রযুক্তি ও সেবা খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তবে সেই তুলনায় প্রশিক্ষিত জনশক্তির ঘাটতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।একজন শিক্ষা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“অনেক সময় দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি অর্জন করলেও চাকরির বাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। এই গ্যাপ কমাতে হলে টিভিইটি খাতে বড় ধরনের সংস্কার দরকার।”তিনি আরও বলেন, বিদেশি অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে এই খাতে দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব।[TECHTARANGA-POST:1111]সম্ভাব্য প্রভাব ও বিশ্লেষণবিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে—
কারিগরি প্রশিক্ষণের মান বৃদ্ধি পাবে
শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন হবে
আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিকুলাম সংযোজন সম্ভব হবে
শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ইতোমধ্যে টিভিইটি খাতে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ দ্রুত দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারবে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।প্রশাসনের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণএ ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কার্যকর করতে সরকারের নীতিগত সহায়তা ও সঠিক পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু চুক্তি করলেই হবে না—তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ, পর্যাপ্ত বাজেট এবং নিয়মিত তদারকি।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন,
“এই ধরনের উদ্যোগ সফল করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।”যোগাযোগের চেষ্টাএই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।[TECHTARANGA-POST:1094]উপসংহার
বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা খাতকে আধুনিক ও কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি। চীনের মতো অভিজ্ঞ দেশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ সেই পথকে আরও সহজ করতে পারে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ, স্বচ্ছতা এবং ধারাবাহিক উদ্যোগ। সঠিকভাবে এগোতে পারলে এই সহযোগিতা দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।