হরমুজ প্রণালিতে আবারও তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, তদন্তে ইউকেএমটিও
হরমুজ প্রণালিতে আবারও তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রণালিটি অতিক্রমের সময় একটি ট্যাংকারে ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ আঘাতে আগুন ধরে যায় এবং কিছু সময়ের জন্য জাহাজটি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং জাহাজটি আবার যাত্রা শুরু করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।ঘটনাটির কয়েক ঘণ্টা পর ওমানের পূর্বে আরও একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ আঘাতের খবর পাওয়া যায়। দুই ঘটনারই তদন্ত চলছে।ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালি থেকে বের হওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতের পর জাহাজটিতে ছোট আকারের আগুন ধরে যায়।আগুনের কারণে জাহাজটি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও পরে আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এরপর ট্যাংকারটি পুনরায় যাত্রা শুরু করতে সক্ষম হয়েছে।তবে জাহাজটির নাম, কোথা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল কিংবা গন্তব্য কোথায় ছিল—এসব তথ্য প্রকাশ করেনি ইউকেএমটিও।প্রথম ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ওমানের পূর্বে আরেকটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ আঘাতের খবর জানায় ইউকেএমটিও।সংস্থাটি বলেছে, ওই জাহাজের সব নাবিক নিরাপদে আছেন। পরিবেশের ওপর কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, কিংবা হামলায় কী ধরনের বস্তু ব্যবহার করা হয়েছিল—তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইউকেএমটিও ঘটনাগুলোর তদন্ত করছে।হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের জন্য এই জলপথের ওপর নির্ভর করতে হয়।ফলে এখানে কোনো জাহাজে হামলা, নৌ চলাচলে বাধা কিংবা নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথের বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।চলমান ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে এমন ঘটনাগুলো নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। তবে সর্বশেষ দুই ঘটনার জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে ইউকেএমটিওর পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালি সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। এরপর জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা বাড়ে এবং কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে এসব হামলার দায়, উদ্দেশ্য এবং ঘটনাগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন দাবি রয়েছে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে সর্বশেষ ট্যাংকার হামলার জন্য দায়ী করা যাচ্ছে না।