ভিসি প্রত্যাহারের দাবিতে ডুয়েটে শাটডাউন ঘোষণা, সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
গাজীপুরের <span>ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)</span> ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। নবনিযুক্ত ভিসিকে প্রত্যাহার না করলে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শহীদ মিনারের পাদদেশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আমান উল্লাহ।[TECHTARANGA-POST:1356]শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহ ধরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও রোববারের ঘটনায় পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। তবে ছাত্রদল পাল্টা দাবি করেছে, আন্দোলনের আড়ালে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।তিন দফা দাবি সামনে এনে কঠোর অবস্থানসংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তিনটি দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো— <span>ড. মোহাম্মদ ইকবাল</span>-এর ডুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগ বাতিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষক থেকে নতুন ভিসি নিয়োগ এবং সাম্প্রতিক সংঘর্ষে জড়িতদের বিচার।শিক্ষার্থীরা বলেন, এসব দাবিকে তারা “ডুয়েটের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যৌক্তিক দাবি” হিসেবে দেখছেন। দলমত নির্বিশেষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের এক হয়ে দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।তাদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।সংঘর্ষ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন দাবিআন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৭ মে সকাল থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি চলছিল। একপর্যায়ে ছাত্রদল ও বহিরাগতদের একটি দল গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ তোলা হয়।শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা বাধা দিলে বাইরে থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ডুয়েট শাখা ছাত্রদল। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বাইরে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি জামিরুল ইসলাম জামিল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির দাবি করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে শিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা আন্দোলন পরিচালনা করছেন।তাদের অভিযোগ, সাবেক ভিসি <span>ড. জয়নাল আবেদীন</span>-এর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ আড়াল করতেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করা হচ্ছে।ছাত্রদল আরও দাবি করে, তারা ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং সহিংসতার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নেই।শিক্ষকদের বিবৃতিতে উদ্বেগএদিকে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডুয়েট শিক্ষক সমিতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা সহিংস ঘটনার নিন্দা জানান।[TECHTARANGA-POST:1321]সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. খসরু মিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানচর্চা ও মত প্রকাশের নিরাপদ জায়গা। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সাংবিধানিক অধিকার।তিনি জানান, ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ শিক্ষককে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আগেও রেজোল্যুশন ছিল। সেই নীতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত এলে বর্তমান সংকট কিছুটা কমতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তবে সরকার যাকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। একই সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করা হয়।ক্যাম্পাসে বাড়ছে অনিশ্চয়তাচলমান পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ক্লাস-পরীক্ষা স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা শাটডাউনের ঘোষণা দেওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছেন, আন্দোলনের মূল বিষয়টি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে হলেও এখন তা রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ক্যাম্পাসসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে অমীমাংসিত প্রশাসনিক সংকট থাকলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি বহিরাগত সম্পৃক্ততার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে।সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব নিয়ে শঙ্কাদেশের প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডুয়েটের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে সংঘাত তৈরি হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনা না থাকলে প্রায়ই অস্থিরতা তৈরি হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মেরুকরণ শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশকে দ্রুত উত্তপ্ত করে তোলে।[TECHTARANGA-POST:1305]তারা মনে করেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত সংলাপভিত্তিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা কার্যক্রম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।এখন কী হচ্ছেসোমবার রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। অন্যদিকে ছাত্রদলও তাদের অবস্থানে অনড় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে ডুয়েট ক্যাম্পাসে উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি।
এ পরিস্থিতিতে সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকে।