জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত আজ, অপেক্ষায় পরিবহন খাত ও যাত্রীরা
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হবে কি না—এ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বিষয়টি ঘিরে পরিবহন মালিক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট মহলে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও উদ্বেগ।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব পক্ষের মতামত নিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।সচিবালয়ে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত ঝুলে আছেবুধবার সচিবালয়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠলেও সেদিন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।তিনি বলেন, যাত্রীদের স্বার্থ এবং পরিবহন খাতের বাস্তব পরিস্থিতি—এই দুই দিক বিবেচনায় রেখেই সরকার সিদ্ধান্ত নিতে চায়। তাই তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে আরও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।আজ আবারও বসছে বৈঠকমন্ত্রী আরও জানান, বৃহস্পতিবার আবারও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠক হবে। সেখানে পরিবহন মালিক সমিতি, সরকারি দপ্তর এবং অন্যান্য অংশীজনদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ফলে আজকের বৈঠককে কেন্দ্র করে পরিবহন খাতে বাড়তি মনোযোগ তৈরি হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1064]জ্বালানি দামের প্রভাব ও মালিকদের দাবিসম্প্রতি ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ায় বাস ও ট্রাক পরিচালনায় খরচ অনেক বেড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা।তাদের মতে, শুধু জ্বালানি নয়—টায়ার, ব্যাটারি, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশসহ সব ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ খরচও বেড়েছে। এর সঙ্গে ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি করা যন্ত্রাংশের দামও বেড়ে গেছে।একজন পরিবহন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বর্তমান ভাড়ায় অনেক ক্ষেত্রে খরচই উঠছে না। তাই ভাড়া সমন্বয় এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।”যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগঅন্যদিকে ভাড়া বাড়ার সম্ভাবনায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দৈনন্দিন যাতায়াতকারীরা মনে করছেন, ভাড়া বাড়লে তা সরাসরি তাদের মাসিক খরচে চাপ ফেলবে।ঢাকাগামী এক যাত্রী বলেন, “সবকিছুর দাম বাড়ছে, এখন যদি বাসভাড়াও বাড়ে তাহলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।”অনেকে আবার দাবি করছেন, ভাড়া বাড়ালেও তা যেন বাস্তবসম্মত ও সহনীয় পর্যায়ে রাখা হয়।পরিবহন খাতে সরাসরি প্রভাববাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সাধারণত তার সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবহন খাতে। অতীতেও এমন পরিস্থিতিতে সরকার মালিক ও যাত্রীপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ভাড়া সমন্বয় করেছে।এ ক্ষেত্রে বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ভাড়া নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।বাজারে পরোক্ষ প্রভাবের শঙ্কাবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু যাত্রী পরিবহন নয়—সড়কপথে পণ্য পরিবহনেও ভাড়া বাড়লে এর প্রভাব দ্রুত বাজারে পৌঁছে যায়। ট্রাকভাড়া বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও চাপ পড়তে পারে।কারণ দেশের কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্যের বড় অংশই সড়কপথে পরিবহন করা হয়।[TECHTARANGA-POST:1041]সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সবাইসব মিলিয়ে আজকের বৈঠককে ঘিরে পরিবহন মালিক, যাত্রী এবং ব্যবসায়ীরা সবাই অপেক্ষায় রয়েছেন। ভাড়া বাড়বে নাকি আগের অবস্থাতেই থাকবে—এই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনের যাতায়াত ও খরচের চিত্র।
সরকারের সিদ্ধান্ত কী হয়, তা জানার অপেক্ষায় এখন সংশ্লিষ্ট সব মহল।