দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

উত্তরায় ডিজিএফআই পরিচয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ৩

রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ।পুলিশের দাবি, মামলা আছে—এমন ভয় দেখিয়ে নিজেদের ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দেন অভিযুক্তরা। মামলা নিষ্পত্তির কথা বলে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখিয়ে ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা নেওয়ার পর তিনি বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের একটি বাড়ির দশম তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী নামে এক ব্যক্তিকে অভিযুক্তরা জানান, তার নামে মামলা রয়েছে। নিজেদের ডিজিএফআই সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে মামলা থেকে রেহাই বা নিষ্পত্তির কথা বলে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।ভয়ভীতির মধ্যে পড়ে একপর্যায়ে জাহেদী তাদের ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা দেন। পরে অভিযুক্তদের কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান।তার ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়।ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ একজনের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের একটি পরিচয়পত্র পায়।পরিচয়পত্রটি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভুয়া ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেন।অভিযানে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে—ডিজিএফআইয়ের একটি ভুয়া পরিচয়পত্রনগদ ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকাএকটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেলএকটি ওয়াকিটকিএক জোড়া হ্যান্ডকাফগ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাসেল মাহবুব ওরফে মাছুম (৪২), সোহেল মির্জা (৪১) ও মো. সজিব (৩৬)।ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।তবে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করার যে তথ্য দিয়েছে, সেটি তদন্তাধীন অভিযোগের অংশ; আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে এটিকে চূড়ান্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর অভিযোগ গুরুতর। এ ধরনের ঘটনায় শুধু অর্থ আদায়ের চেষ্টা নয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলার সুযোগ তৈরি হয়।এ ধরনের পরিস্থিতিতে কারও পরিচয় বা সরকারি সংস্থার নাম শুনেই অর্থ দেওয়ার বদলে সংশ্লিষ্ট থানায় বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তরায় ডিজিএফআই পরিচয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ৩