কালীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় এসআই ও বিএনপি নেতা নিহত, চালক গ্রেপ্তার
জীপুরের কালীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ও বিএনপি নেতা নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক মো. মাজহারুল ইসলামকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পিরোজপুরের ইন্দুরকান্দী থানার চারখালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।এসআরবি-১ ও এসআরবি-৮-এর যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপারেশনস ও মিডিয়া অফিসার) শাহ আলম।এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর রাতে কালীগঞ্জ থানার রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালন করছিল পুলিশের একটি দল। সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা তিন আসামিকে নিয়ে থানায় ফেরার পথে কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মোল্লার (৪৫) সঙ্গে কথা বলার জন্য পুলিশের গাড়িটি রাস্তার পাশে থামানো হয়।রাত আনুমানিক ৩টা ৩৫ থেকে ৩টা ৪০ মিনিটের মধ্যে টঙ্গী থেকে ঘোড়াশালগামী একটি দ্রুতগতির ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশের দল ও বিএনপি নেতাকে সজোরে ধাক্কা দেয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এতে পুলিশের নিরস্ত্র এসআই মো. মিজানুর রহমান ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মোল্লা ঘটনাস্থলেই নিহত হন।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনার পর পুলিশের অন্য সদস্যরা ট্রাকটিকে আটকানোর চেষ্টা করলে সেটি তাদেরও ধাক্কা দেয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন।ঘটনার পরদিন পুলিশ কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন।এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ট্রাকচালককে শনাক্ত করা হয়। পরে বুধবার দিবাগত রাতে এসআরবি-১ ও এসআরবি-৮-এর যৌথ অভিযানে পিরোজপুরের ইন্দুরকান্দী থানার চারখালী এলাকা থেকে মাজহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার মাজহারুল ইসলাম বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থানার চণ্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা।পরে তাকে কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ পরিচালনা করবে।ট্রাকের ধাক্কায় দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় চালক গ্রেপ্তার হলেও দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি ও দায় নির্ধারণে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাকটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, চালকের গতি ও সতর্কতার অবস্থা কেমন ছিল এবং ঘটনার সময় অন্য কোনো বিষয় জড়িত ছিল কি না—এসব প্রশ্ন তদন্তে উঠে আসতে পারে।