এশিয়ান গেমসে মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, বাংলাদেশের বিদায়
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পরও কিছুক্ষণ মাঠে স্থির দাঁড়িয়ে ছিলেন ঋতুপর্ণা চাকমাসহ বাংলাদেশের ফুটবলাররা। জয়ের সুযোগ ছিল, গোলের সুযোগও এসেছিল—কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলটি আর পাওয়া হলো না। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে এশিয়ান গেমস থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।গত বছর মিয়ানমারের মাঠেই স্বাগতিকদের হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। প্রায় দেড় বছর পর একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নেমে এবার অবশ্য জয়ের পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি দল। ম্যাচে দুদলই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের খাতা খোলেনি।ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল মিয়ানমার। বাংলাদেশের রক্ষণভাগে দ্রুত চাপ তৈরি করে তারা। ১০ মিনিটের মাথায় বাংলাদেশের গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি মিয়ানমারের আক্রমণভাগ।বাংলাদেশও ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের গুছিয়ে নেয়। ৩৮ মিনিটে মিয়ানমারের এক ডিফেন্ডারের ভুলের সুযোগ নিয়ে বক্সের সামনে বল পেয়ে যান ঋতুপর্ণা চাকমা। দ্রুত শট নিলেও তাঁর প্রচেষ্টা মিয়ানমারের পোস্টের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়।সেই সুযোগটিই ম্যাচের অন্যতম বড় মুহূর্ত হয়ে থেকে যায়।মিয়ানমারের বিপক্ষে গত বছর বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন ঋতুপর্ণা। তাঁর জোড়া গোলেই সেবার জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। মিয়ানমার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় প্রতিপক্ষের কয়েকজন খেলোয়াড়কেও কাছ থেকে চেনেন তিনি।এদিনও আক্রমণভাগে বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা ছিলেন ঋতুপর্ণা। প্রথমার্ধের শেষদিকে বাজে ট্যাকলের শিকার হলেও মাঠ ছাড়েননি। ম্যাচের পুরো সময় খেলেই লড়াই চালিয়ে যান তিনি।তবে ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করেও দলকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দিতে পারেননি ঋতুপর্ণা।বিরতির পর বাংলাদেশের আক্রমণের ধার কিছুটা কমে যায়। বরং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের দিকে নিতে থাকে মিয়ানমার।৭৭ মিনিটে বাংলাদেশের জন্য বড় বিপদ তৈরি হয়। গোলরক্ষক রুপ্না চাকমাকে একা পেয়েও মিয়ানমারের খেলোয়াড় গোল করতে পারেননি। সহজ সেই সুযোগ নষ্ট হওয়ায় স্বস্তি পায় বাংলাদেশের রক্ষণভাগ।ম্যাচের শেষ দিকেও মিয়ানমার বেশির ভাগ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। তবে বাংলাদেশের রক্ষণ ভেদ করে শেষ পর্যন্ত গোল আদায় করতে পারেনি তারা। অন্যদিকে বাংলাদেশও পালটা আক্রমণ থেকে কাঙ্ক্ষিত গোলের সন্ধান পায়নি।শেষ পর্যন্ত ০-০ গোলের ড্রয়ে ম্যাচ শেষ হয়। ফলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার—দুই দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় এক পয়েন্ট করে। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় গ্রুপের চতুর্থ দল হিসেবে এশিয়ান গেমস শেষ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।গত আসরেও ড্র দিয়েই এশিয়ান গেমসের যাত্রা শেষ করেছিল বাংলাদেশ। হাংজু আসরে জাপান ও ভিয়েতনামের কাছে হারার পর নেপালের বিপক্ষে ড্র করেছিল দল।এবারও সেই ড্র-তেই থামতে হলো বাংলাদেশের যাত্রা। তবে মিয়ানমারের বিপক্ষে গোল না পেলেও প্রতিপক্ষকে গোল করতে না দেওয়ার দিকটি বাংলাদেশের রক্ষণভাগের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা যেতে পারে।মিয়ানমারের বিপক্ষে ০-০ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে উল্লেখযোগ্য সুযোগ পেয়েছিলেন ঋতুপর্ণা চাকমা।মিয়ানমারও এক পয়েন্ট পেয়েছে, তবে গোল ব্যবধানে বাংলাদেশ পিছিয়ে।গ্রুপের চতুর্থ দল হয়ে এশিয়ান গেমস শেষ করেছে বাংলাদেশ।গত বছর মিয়ানমারকে হারিয়ে এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল বাংলাদেশ।বাংলাদেশের সামনে সুযোগ এসেছিল ম্যাচটি জিতে এশিয়ান গেমসের যাত্রা অন্যভাবে শেষ করার। কিন্তু গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এমন ম্যাচে একটি গোলই পুরো ফল বদলে দিতে পারে।মিয়ানমারের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে লড়াইয়ের মানসিকতা থাকলেও আক্রমণভাগে সুযোগকে গোলে রূপ দেওয়ার ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। ঋতুপর্ণার মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা সুযোগ তৈরি করতে পারলেও শেষ মুহূর্তে ফিনিশিংয়ে কার্যকর হতে না পারায় জয় অধরাই থেকেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সেই সুযোগকে গোলে পরিণত করার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।