দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

গ্যাস সংকটে চাপে থাকা শিল্পকারখানার জন্য স্বস্তির আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আগামীকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ প্রায় দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে।গ্যাস সরবরাহে সাম্প্রতিক সংকটের পেছনে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা এরই মধ্যে সমাধান হয়েছে।তবে সংকট পুরোপুরি সামলাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও করছে। ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যা ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করার আশা করছে সরকার।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, প্রায় তিন ঘণ্টার আলোচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনাও দেওয়া হয়।গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। এর প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। তবে সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরলে উৎপাদননির্ভর শিল্পগুলো কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।বর্তমান সংকট যাতে বারবার একইভাবে শিল্প ও অর্থনীতিকে চাপে না ফেলে, সে জন্য তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) গত এক মাসে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত এর কাজ শুরু হবে।সরকারের আশা, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন টার্মিনালটি গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা যাবে।এখানেই বর্তমান সংকটের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পার্থক্যটা স্পষ্ট। একটি টার্মিনালে দুর্ঘটনা বা সরবরাহের সমস্যা হলে যাতে পুরো ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা না লাগে, তৃতীয় টার্মিনাল সেই ঝুঁকি কমানোর একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে।বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এত বড় ও জটিল সমস্যার পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়।তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।সরকার কোন কাজ কখন শেষ করতে চায়, তার একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সামনে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ দিক মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফেরার আশা। সাম্প্রতিক সংকটের পেছনে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার কথা জানিয়েছে সরকার। ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন টার্মিনালটি ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়।শিল্পে গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরলে তা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি দেবে। কারণ গ্যাসনির্ভর কারখানায় সরবরাহ কমে গেলে শুধু উৎপাদন কমে না, বাড়ে উৎপাদন ব্যয়, সময়মতো পণ্য সরবরাহের চাপ তৈরি হয় এবং রপ্তানি বাজারেও প্রতিযোগিতায় সমস্যা হতে পারে।তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার—‘সরবরাহ আগের অবস্থায় ফেরা’ আর ‘নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হওয়া’ এক কথা নয়। মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের জন্য নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা তৈরি করা যাচ্ছে, সেটিই হবে বড় পরীক্ষা।নিজস্ব পর্যবেক্ষণে, তৃতীয় এলএনজি টার্মিনালের উদ্যোগের গুরুত্ব এখানেই। এটি বাস্তবায়িত হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি অতিরিক্ত উৎস তৈরি হতে পারে। তবে টার্মিনাল স্থাপন করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; গ্যাস আমদানি, মূল্য, পাইপলাইন সক্ষমতা, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে পুরো ব্যবস্থার সমন্বয়ও জরুরি।শিল্প ও ব্যবসা খাতের স্বার্থে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতাদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব শুধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়ে। তাই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানকে শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না।একই সঙ্গে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। সরকারের মেয়াদে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে জানানো জরুরি। তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে গণমাধ্যমের পরিষ্কার ধারণা থাকলে জনগণের কাছেও বিষয়গুলো সঠিকভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ার খবর শুধু কারখানা মালিকদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিল্পে উৎপাদন কমলে তার প্রভাব চাকরি, পণ্যের দাম, রপ্তানি আয় এবং বাজারের ওপর পড়তে পারে। তাই আগামীকাল থেকে সরবরাহ কতটা স্বাভাবিক হয় এবং সেই পরিস্থিতি কতদিন ধরে রাখা যায়—সেদিকেই এখন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নজর থাকবে। অন্যদিকে, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় স্বচ্ছতা, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং নিয়মিত অগ্রগতি প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ। এতে ব্যবসায়ী, ভোক্তা ও সাধারণ মানুষ—সব পক্ষই বুঝতে পারবে, সংকট মোকাবিলায় আসলে কতটা অগ্রগতি হচ্ছে।

আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী