দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিসিবির সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি এম নাজমুল ইসলামের

বিতর্কিত ও বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া M Nazmul Islam-কে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board) সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটারদের সংগঠন Cricketers' Welfare Association of Bangladesh-এর কঠোর অবস্থান এবং খেলা বর্জনের হুমকির পর শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় বিসিবি।বিসিবির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, জরুরি বৈঠকে তাকে অর্থ কমিটির প্রধানের দায়িত্বসহ বোর্ডের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।কী বলেছিলেন নাজমুল ইসলাম?সম্প্রতি একাধিক মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন এম নাজমুল ইসলাম।তিনি দাবি করেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল অংশ না নিলেও বোর্ডের বড় কোনো ক্ষতি হবে না, বরং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ক্রিকেটাররাই।এছাড়া জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পেছনে “কোটি কোটি টাকা খরচ” হওয়ার বিষয়টিও তিনি প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন, যা অনেক ক্রিকেটার অপমানজনক হিসেবে দেখেছেন।সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয় সাবেক অধিনায়ক Tamim Iqbal-কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “ভারতীয় দালাল” বলে উল্লেখ করার ঘটনায়।এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ক্রিকেটপ্রেমী, সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকদের অনেকে বিষয়টিকে “অপেশাদার” এবং “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন।কোয়াবের কঠোর অবস্থানঘটনার পর কোয়াব সরাসরি নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করে।সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ক্রিকেটাররা সব ধরনের খেলা বর্জনের পথে যেতে পারেন।এমনকি বিপিএলের ম্যাচ শুরুর নির্ধারিত সময়েই সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা কার্যত ম্যাচ মাঠে না গড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।ক্রিকেটারদের এই অবস্থান দেশের ক্রিকেটে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়।গভীর রাতের বৈঠকেও মেলেনি সমাধানপরিস্থিতি সামাল দিতে গভীর রাতে বিসিবি ও কোয়াব নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।তবে ওই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান আসেনি বলে জানা গেছে। পরে খেলোয়াড়দের অনড় অবস্থান এবং চলমান লিগের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় বোর্ড শেষ পর্যন্ত নাজমুল ইসলামকে কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট অনেকে মনে করছেন, এটি মূলত খেলোয়াড়দের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ফল।সরাসরি অপসারণ কেন সম্ভব নয়?বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো পরিচালককে সরাসরি অপসারণ করার সুযোগ সীমিত।গঠনতন্ত্রে উল্লেখ থাকা কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোনো পরিচালকের পদ শূন্য হয় না। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যু, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে শাস্তি, দেউলিয়া ঘোষণা, টানা তিনটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিতি অথবা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ।সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এম নাজমুল ইসলামের ক্ষেত্রে এসব শর্তের বেশিরভাগই প্রযোজ্য নয়। ফলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালক পদ থেকে সরানো কঠিন হতে পারে।ক্রিকেটারদের মর্যাদা বনাম বোর্ড রাজনীতিবিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে দীর্ঘদিনের অস্বস্তিকর সম্পর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।তাদের মতে, খেলোয়াড়দের সম্মান ও পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিশেষ করে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ককে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং খেলোয়াড়দের আর্থিক বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনা করাকে অনেকে প্রশাসনিক শিষ্টাচারবিরোধী হিসেবে দেখছেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তপ্ত আলোচনাঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।অনেক সমর্থক ক্রিকেটারদের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মতে, খেলোয়াড়দের সম্মানহানিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন ছিল।আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বোর্ডের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসায় দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।সামনে কী হতে পারে?ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না।কারণ এম নাজমুল ইসলাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালক পদে বহাল রয়েছেন কি না, সেটি নিয়েও আলোচনা রয়েছে।একই সঙ্গে বোর্ড ও ক্রিকেটারদের সম্পর্ক ভবিষ্যতে কীভাবে এগোয়, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, ক্রিকেটারদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিসিবির সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি এম নাজমুল ইসলামের